তৈরি পোশাক খাতের রপ্তানিকারকদের তারল্য সংকট কমাতে প্রতি মাসের নগদ সহায়তার অর্থ সংশ্লিষ্ট মাসেই ছাড় করা হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান। তিনি বলেন, এখন থেকে এ সংক্রান্ত কোনো আবেদন দীর্ঘদিন পেন্ডিং রাখা হবে না।
বুধবার (১১ মার্চ) বাংলাদেশ ব্যাংকের কার্যালয়ে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)-এর একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।
বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান-এর নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলটি পোশাক শিল্পের বর্তমান সংকট মোকাবিলায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জরুরি নীতি সহায়তা কামনা করে কয়েকটি প্রস্তাব তুলে ধরে। প্রতিনিধিদলে আরও উপস্থিত ছিলেন বিজিএমইএ পরিচালক মজুমদার আরিফুর রহমান, পরিচালক ড. রশিদ আহমেদ হোসাইনী এবং মাহিন অ্যাপারেলস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল্লাহ-আল-মাহমুদ মাহিন। সভায় বাংলাদেশ ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
সভায় বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা ও অভ্যন্তরীণ সীমাবদ্ধতার কারণে দেশের তৈরি পোশাক শিল্প বর্তমানে কঠিন সময় পার করছে। অনেক ব্যাংক ঋণ পুনঃতফসিলীকরণ করলেও প্রয়োজনীয় কার্যকর মূলধন (ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল) দিচ্ছে না, ফলে কারখানা সচল রাখা এবং সময়মতো ঋণ পরিশোধ করা কঠিন হয়ে পড়ছে।
বিজিএমইএ নেতারা শিল্পের টিকে থাকা এবং নতুন উদ্যোক্তা তৈরির স্বার্থে নগদ সহায়তার হার বাড়ানোর প্রস্তাব দেন। তাদের প্রস্তাব অনুযায়ী, বিশেষ নগদ সহায়তা ০.৩০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১ শতাংশ, শুল্ক বন্ড ও ডিউটি ড্র-ব্যাংকের বিকল্প নগদ সহায়তা ১.৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২ শতাংশ এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের (এসএমই) জন্য ৩ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৪ শতাংশ করার আহ্বান জানানো হয়।
এছাড়া প্যাকিং ক্রেডিটের সুদের হার ৭ শতাংশে নামিয়ে আনা, প্রি-শিপমেন্ট ক্রেডিট পুনঃঅর্থায়ন স্কিমের পরিমাণ ৫ হাজার কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০ হাজার কোটি টাকা করা এবং এর মেয়াদ ২০৩০ সাল পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়। একই সঙ্গে রপ্তানি ঋণের সুদের হার সিঙ্গেল ডিজিটে আনা এবং এসএমই প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য সহজ শর্তে ঋণের সুবিধা বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়।
গভর্নর মোস্তাকুর রহমান বিজিএমইএ নেতাদের প্রস্তাব মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের এখতিয়ারভুক্ত বিষয়গুলোতে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তিনি জানান, রপ্তানিকারকদের তারল্য সংকট কমাতে নগদ সহায়তার অর্থ নিয়মিত ও দ্রুত ছাড় করার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সভায় বিজিএমইএ প্রতিনিধিদল সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকগুলোর (সাবেক এক্সিম ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকসহ) তারল্য সংকটের বিষয়টিও তুলে ধরেন। তাদের অভিযোগ, এসব ব্যাংকে জমা স্থায়ী আমানত ও রপ্তানি আয় নগদায়নে জটিলতার কারণে অনেক কারখানা শ্রমিকদের বেতন-ভাতা ও বিদ্যুৎ বিল পরিশোধে সমস্যায় পড়ছে। এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে বিশেষ নজরদারি ও সমাধানের আশ্বাস দেন গভর্নর।
বিজিএমইএ নেতারা আশা প্রকাশ করেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দ্রুত পদক্ষেপ পোশাক শিল্পকে বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে ঘুরে দাঁড়াতে এবং কর্মসংস্থান বজায় রাখতে সহায়তা করবে।
বাংলাস্কুপ/প্রতিবেদক/এইচএইচ/এসকে
বুধবার (১১ মার্চ) বাংলাদেশ ব্যাংকের কার্যালয়ে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)-এর একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।
বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান-এর নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলটি পোশাক শিল্পের বর্তমান সংকট মোকাবিলায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জরুরি নীতি সহায়তা কামনা করে কয়েকটি প্রস্তাব তুলে ধরে। প্রতিনিধিদলে আরও উপস্থিত ছিলেন বিজিএমইএ পরিচালক মজুমদার আরিফুর রহমান, পরিচালক ড. রশিদ আহমেদ হোসাইনী এবং মাহিন অ্যাপারেলস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল্লাহ-আল-মাহমুদ মাহিন। সভায় বাংলাদেশ ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
সভায় বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা ও অভ্যন্তরীণ সীমাবদ্ধতার কারণে দেশের তৈরি পোশাক শিল্প বর্তমানে কঠিন সময় পার করছে। অনেক ব্যাংক ঋণ পুনঃতফসিলীকরণ করলেও প্রয়োজনীয় কার্যকর মূলধন (ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল) দিচ্ছে না, ফলে কারখানা সচল রাখা এবং সময়মতো ঋণ পরিশোধ করা কঠিন হয়ে পড়ছে।
বিজিএমইএ নেতারা শিল্পের টিকে থাকা এবং নতুন উদ্যোক্তা তৈরির স্বার্থে নগদ সহায়তার হার বাড়ানোর প্রস্তাব দেন। তাদের প্রস্তাব অনুযায়ী, বিশেষ নগদ সহায়তা ০.৩০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১ শতাংশ, শুল্ক বন্ড ও ডিউটি ড্র-ব্যাংকের বিকল্প নগদ সহায়তা ১.৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২ শতাংশ এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের (এসএমই) জন্য ৩ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৪ শতাংশ করার আহ্বান জানানো হয়।
এছাড়া প্যাকিং ক্রেডিটের সুদের হার ৭ শতাংশে নামিয়ে আনা, প্রি-শিপমেন্ট ক্রেডিট পুনঃঅর্থায়ন স্কিমের পরিমাণ ৫ হাজার কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০ হাজার কোটি টাকা করা এবং এর মেয়াদ ২০৩০ সাল পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়। একই সঙ্গে রপ্তানি ঋণের সুদের হার সিঙ্গেল ডিজিটে আনা এবং এসএমই প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য সহজ শর্তে ঋণের সুবিধা বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়।
গভর্নর মোস্তাকুর রহমান বিজিএমইএ নেতাদের প্রস্তাব মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের এখতিয়ারভুক্ত বিষয়গুলোতে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তিনি জানান, রপ্তানিকারকদের তারল্য সংকট কমাতে নগদ সহায়তার অর্থ নিয়মিত ও দ্রুত ছাড় করার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সভায় বিজিএমইএ প্রতিনিধিদল সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকগুলোর (সাবেক এক্সিম ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকসহ) তারল্য সংকটের বিষয়টিও তুলে ধরেন। তাদের অভিযোগ, এসব ব্যাংকে জমা স্থায়ী আমানত ও রপ্তানি আয় নগদায়নে জটিলতার কারণে অনেক কারখানা শ্রমিকদের বেতন-ভাতা ও বিদ্যুৎ বিল পরিশোধে সমস্যায় পড়ছে। এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে বিশেষ নজরদারি ও সমাধানের আশ্বাস দেন গভর্নর।
বিজিএমইএ নেতারা আশা প্রকাশ করেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দ্রুত পদক্ষেপ পোশাক শিল্পকে বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে ঘুরে দাঁড়াতে এবং কর্মসংস্থান বজায় রাখতে সহায়তা করবে।
বাংলাস্কুপ/প্রতিবেদক/এইচএইচ/এসকে