​হরমুজ প্রণালিতে মাইন বসাচ্ছে ইরান, ‘নজিরবিহীন’ পরিণতির হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

আপলোড সময় : ১১-০৩-২০২৬ ০১:২১:১৩ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ১১-০৩-২০২৬ ০২:৪৪:৫২ অপরাহ্ন
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহ পথ হরমুজ প্রণালিতে ইরান মাইন বসাতে শুরু করেছে বলে মার্কিন গোয়েন্দা সূত্রের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে।

বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই সংকীর্ণ জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা প্রতিবেদন সম্পর্কে অবগত আছে, এমন দুটি সূত্র জানিয়েছে, মাইন বসানোর কাজ এখনো খুব একটা ব্যাপক নয়। গত কয়েক দিনে গুটিকয়েক মাইন বসানো হয়েছে।

তবে একটি সূত্র বলেছে, ইরানের হাতে এখনো ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ ক্ষুদ্র যুদ্ধযান ও মাইন স্থাপনকারী জাহাজ অক্ষত রয়েছে। ফলে দেশটি চাইলে এ জলপথে কয়েক শ মাইন ছড়িয়ে দিতে পারে।

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) বর্তমানে দেশটির নৌবাহিনীর পাশাপাশি এ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ করছে। তাদের বিচ্ছিন্নভাবে মাইন স্থাপনকারী যান, বিস্ফোরক বোঝাই নৌকা এবং উপকূলীয় ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি ব্যবহার করার সক্ষমতা রয়েছে।

মঙ্গলবার (১০ মার্চ) নিজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘ইরান যদি হরমুজ প্রণালিতে কোনো মাইন বসিয়ে থাকে—যদিও আমাদের কাছে এমন কোনো নিশ্চিত খবর নেই—তবে আমরা চাই সেগুলো অবিলম্বে সরিয়ে নেওয়া হোক!’

ট্রাম্প আরও বলেন, যদি মাইন বসানো হয়ে থাকে এবং সেগুলো সরানো না হয়, তবে ইরানকে ‘নজিরবিহীন’ পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে। তবে তেহরান যদি বসানো মাইনগুলো সরিয়ে নেয়, তবে তা হবে ‘সঠিক পথে এক বিশাল পদক্ষেপ’।

ট্রাম্পের এ পোস্টের পর মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, প্রেসিডেন্টের নির্দেশনায় মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) হরমুজ প্রণালিতে ইরানের নিষ্ক্রিয় মাইন স্থাপনকারী জাহাজগুলো ধ্বংস করছে।

হেগসেথ বলেন, ‘আমরা অত্যন্ত নিখুঁতভাবে সেগুলো নিশ্চিহ্ন করছি। ‘‘সন্ত্রাসী’’দের হাতে হরমুজ প্রণালিকে জিম্মি হতে দেব না।’

গতকাল আরও পরের দিকে সেন্ট্রাল কমান্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করে, তারা ওই প্রণালির কাছে ১৬টি মাইন স্থাপনকারী জাহাজসহ ইরানের বেশ কিছু নৌযান ধ্বংস করেছে।

এর আগে আইআরজিসি সতর্ক করেছিল, এ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী যেকোনো জাহাজে হামলা চালানো হবে। ইসরায়েল–যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ জলপথ কার্যত বন্ধ রয়েছে। এই পথে চলাচলের ঝুঁকির কারণে বর্তমান অবস্থাকে ‘ডেথ ভ্যালি’ বা মৃত্যু উপত্যকা হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।

মার্কিন কর্মকর্তারা মঙ্গলবার জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী এখন পর্যন্ত কোনো জাহাজকে এ প্রণালি দিয়ে পাহারা দিয়ে পার করে দেয়নি।

সোমবার (৯ মার্চ) এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, ‘হরমুজ প্রণালি নিরাপদ থাকবে। সেখানে আমাদের অনেক নৌযান রয়েছে। মাইন শনাক্ত করার জন্য আমাদের কাছে বিশ্বের সেরা সরঞ্জাম রয়েছে।’

সূত্র: সিএনএন

বাংলাস্কুপ/ডেস্ক/এইচএইচ/এসকে

সম্পাদক ও প্রকাশক :

মোঃ কামাল হোসেন

অফিস :

অফিস : ৬/২২, ইস্টার্ণ প্লাাজা (৬ তলা), কমার্শিয়াল কমপ্লেক্স, হাতিরপুল, ঢাকা।

ইমেইল :