দেশে জ্বালানি তেলের সরবরাহ পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ, বাজারে স্বাভাবিকতা বজায় রাখা এবং অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় ও আঞ্চলিক পর্যায়ে মনিটরিং ও কন্ট্রোল সেল গঠন করেছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি)। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের নির্দেশনায় বিপিসি এবং তাদের অধীনস্থ বিপণন কোম্পানিগুলোর সমন্বয়ে এই বিশেষ পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। সোমবার (৯ মার্চ) এ সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি হয়েছে।
বিপিসি সূত্র জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি, বাজারে গুজব ও চাহিদা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ব্যবস্থাপনা আরও নিবিড়ভাবে তদারকির প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। সেই বিবেচনায় কেন্দ্রীয় পর্যায়ে একটি মনিটরিং সেল এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পৃথক আঞ্চলিক কন্ট্রোল সেল গঠন করা হয়েছে। এসব সেল সার্বক্ষণিকভাবে জ্বালানি তেলের মজুত, সরবরাহ ও বিক্রয় পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবে এবং প্রয়োজনীয় তথ্য কেন্দ্রীয় পর্যায়ে পাঠাবে।
প্রতিদিন পাঠানো হবে মজুত ও বিক্রির তথ্য
নতুন ব্যবস্থার আওতায় আঞ্চলিক কন্ট্রোল সেলগুলো প্রতিদিন তাদের অধীনস্থ ডিপোগুলোর পেট্রোলিয়াম পণ্যের মজুত, সরবরাহ ও বিক্রির তথ্য সংগ্রহ করবে। এতে ডিপোর স্থলভাগের সংরক্ষণ ট্যাংকে থাকা জ্বালানি এবং জাহাজে থাকা ভাসমান মজুদের তথ্যও অন্তর্ভুক্ত থাকবে। পাশাপাশি প্রতিদিন কত পরিমাণ জ্বালানি ডিপো থেকে বিভিন্ন ডিলার ও এজেন্টের কাছে সরবরাহ করা হয়েছে এবং খুচরা পর্যায়ে বিক্রির পরিস্থিতি কী সেসব তথ্যও কেন্দ্রীয় সেলে পাঠানো হবে।
কেন্দ্রীয় মনিটরিং সেল এসব তথ্য সমন্বয় করে সার্বিক মজুদ ও সরবরাহ পরিস্থিতির প্রতিবেদন তৈরি করবে। পরে সেই প্রতিবেদন নিয়মিতভাবে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সরকারি সংস্থার কাছে পাঠানো হবে।
কৃষি সেচ মৌসুমে বিশেষ নজর
চলমান কৃষি সেচ মৌসুমে ডিজেলের চাহিদা বাড়ে। এ সময় কৃষকদের জ্বালানি সরবরাহে যাতে কোনো বিঘ্ন না ঘটে, সে বিষয়েও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনা অনুযায়ী, ডিপো থেকে ডিলার ও এজেন্টদের কাছে কত পরিমাণ জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হয়েছে এবং সেগুলোর বিক্রির তথ্য আঞ্চলিক কন্ট্রোল সেল থেকে সংশ্লিষ্ট জেলার জেলা প্রশাসকদের কাছেও নিয়মিত পাঠানো হবে।
এতে স্থানীয় প্রশাসন প্রয়োজনে বাজার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে পারবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
পাচার ও ভেজাল ঠেকাতে নজরদারি
জ্বালানি তেলের মজুত, বিতরণ, পাচার কিংবা ভেজাল সংক্রান্ত কোনো তথ্য পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিকভাবে কন্ট্রোল সেলকে জানানো যাবে। প্রাপ্ত তথ্য যাচাই করে প্রয়োজন অনুযায়ী আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে বিপিসি।
চট্টগ্রামে কেন্দ্রীয় মনিটরিং সেল
বিপিসির কেন্দ্রীয় মনিটরিং ও কন্ট্রোল সেল চট্টগ্রামের সল্টগোলা রোডে অবস্থিত বিপিসির বিএসসি ভবনে স্থাপন করা হয়েছে। এ সেলের মুখ্য সমন্বয়কারীর দায়িত্বে রয়েছেন জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের যুগ্মসচিব এ কে এম ফজলুল হক। তার সঙ্গে বিপিসির বণ্টন ও বিপণন বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করছেন।
এ ছাড়া বিপিসির নিজস্ব মনিটরিং সেলেও বণ্টন ও বিপণন বিভাগের মহাব্যবস্থাপক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা দায়িত্ব পালন করছেন।
পাঁচ অঞ্চলে আঞ্চলিক কন্ট্রোল সেল
কেন্দ্রীয় সেলের পাশাপাশি দেশের পাঁচটি অঞ্চলে পৃথক আঞ্চলিক কন্ট্রোল সেল গঠন করা হয়েছে। এগুলো হলো ঢাকা, বগুড়া, খুলনা, সিলেট ও বরিশাল অঞ্চল।
ঢাকা অঞ্চলের কন্ট্রোল সেল মতিঝিলে অবস্থিত মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেডের আঞ্চলিক কার্যালয়ে স্থাপন করা হয়েছে। এখানে বিভিন্ন বিপণন কোম্পানির সহকারী মহাব্যবস্থাপক ও ব্যবস্থাপক পর্যায়ের কর্মকর্তারা দায়িত্ব পালন করছেন।
একইভাবে বগুড়া অঞ্চলের কন্ট্রোল সেল উপশহরে অবস্থিত মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেডের আঞ্চলিক কার্যালয়ে, খুলনা অঞ্চলের সেল খালিশপুরে, সিলেট অঞ্চলের সেল শাহজালাল উপশহরে এবং বরিশাল অঞ্চলের সেল বান্দরোডে স্থাপন করা হয়েছে।
সংকট মোকাবিলায় সমন্বিত উদ্যোগ
জ্বালানি খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নতুন এই মনিটরিং ব্যবস্থা চালু হলে জ্বালানি তেলের মজুদ ও সরবরাহ পরিস্থিতি সম্পর্কে সরকারের কাছে প্রতিদিনের হালনাগাদ তথ্য থাকবে। এর ফলে বাজারে গুজব, কৃত্রিম সংকট বা মজুদদারির মতো পরিস্থিতি দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব হবে।
তাদের মতে, কেন্দ্রীয় ও আঞ্চলিক পর্যায়ে সমন্বিত এই তদারকি ব্যবস্থা জ্বালানি তেল সরবরাহ ব্যবস্থাপনাকে আরও কার্যকর করবে এবং দেশের বাজারে স্বাভাবিকতা বজায় রাখতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে। সূত্র: সমকাল
বাংলাস্কুপ/ডেস্ক/এইচএইচ/এসকে
বিপিসি সূত্র জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি, বাজারে গুজব ও চাহিদা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ব্যবস্থাপনা আরও নিবিড়ভাবে তদারকির প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। সেই বিবেচনায় কেন্দ্রীয় পর্যায়ে একটি মনিটরিং সেল এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পৃথক আঞ্চলিক কন্ট্রোল সেল গঠন করা হয়েছে। এসব সেল সার্বক্ষণিকভাবে জ্বালানি তেলের মজুত, সরবরাহ ও বিক্রয় পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবে এবং প্রয়োজনীয় তথ্য কেন্দ্রীয় পর্যায়ে পাঠাবে।
প্রতিদিন পাঠানো হবে মজুত ও বিক্রির তথ্য
নতুন ব্যবস্থার আওতায় আঞ্চলিক কন্ট্রোল সেলগুলো প্রতিদিন তাদের অধীনস্থ ডিপোগুলোর পেট্রোলিয়াম পণ্যের মজুত, সরবরাহ ও বিক্রির তথ্য সংগ্রহ করবে। এতে ডিপোর স্থলভাগের সংরক্ষণ ট্যাংকে থাকা জ্বালানি এবং জাহাজে থাকা ভাসমান মজুদের তথ্যও অন্তর্ভুক্ত থাকবে। পাশাপাশি প্রতিদিন কত পরিমাণ জ্বালানি ডিপো থেকে বিভিন্ন ডিলার ও এজেন্টের কাছে সরবরাহ করা হয়েছে এবং খুচরা পর্যায়ে বিক্রির পরিস্থিতি কী সেসব তথ্যও কেন্দ্রীয় সেলে পাঠানো হবে।
কেন্দ্রীয় মনিটরিং সেল এসব তথ্য সমন্বয় করে সার্বিক মজুদ ও সরবরাহ পরিস্থিতির প্রতিবেদন তৈরি করবে। পরে সেই প্রতিবেদন নিয়মিতভাবে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সরকারি সংস্থার কাছে পাঠানো হবে।
কৃষি সেচ মৌসুমে বিশেষ নজর
চলমান কৃষি সেচ মৌসুমে ডিজেলের চাহিদা বাড়ে। এ সময় কৃষকদের জ্বালানি সরবরাহে যাতে কোনো বিঘ্ন না ঘটে, সে বিষয়েও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনা অনুযায়ী, ডিপো থেকে ডিলার ও এজেন্টদের কাছে কত পরিমাণ জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হয়েছে এবং সেগুলোর বিক্রির তথ্য আঞ্চলিক কন্ট্রোল সেল থেকে সংশ্লিষ্ট জেলার জেলা প্রশাসকদের কাছেও নিয়মিত পাঠানো হবে।
এতে স্থানীয় প্রশাসন প্রয়োজনে বাজার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে পারবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
পাচার ও ভেজাল ঠেকাতে নজরদারি
জ্বালানি তেলের মজুত, বিতরণ, পাচার কিংবা ভেজাল সংক্রান্ত কোনো তথ্য পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিকভাবে কন্ট্রোল সেলকে জানানো যাবে। প্রাপ্ত তথ্য যাচাই করে প্রয়োজন অনুযায়ী আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে বিপিসি।
চট্টগ্রামে কেন্দ্রীয় মনিটরিং সেল
বিপিসির কেন্দ্রীয় মনিটরিং ও কন্ট্রোল সেল চট্টগ্রামের সল্টগোলা রোডে অবস্থিত বিপিসির বিএসসি ভবনে স্থাপন করা হয়েছে। এ সেলের মুখ্য সমন্বয়কারীর দায়িত্বে রয়েছেন জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের যুগ্মসচিব এ কে এম ফজলুল হক। তার সঙ্গে বিপিসির বণ্টন ও বিপণন বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করছেন।
এ ছাড়া বিপিসির নিজস্ব মনিটরিং সেলেও বণ্টন ও বিপণন বিভাগের মহাব্যবস্থাপক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা দায়িত্ব পালন করছেন।
পাঁচ অঞ্চলে আঞ্চলিক কন্ট্রোল সেল
কেন্দ্রীয় সেলের পাশাপাশি দেশের পাঁচটি অঞ্চলে পৃথক আঞ্চলিক কন্ট্রোল সেল গঠন করা হয়েছে। এগুলো হলো ঢাকা, বগুড়া, খুলনা, সিলেট ও বরিশাল অঞ্চল।
ঢাকা অঞ্চলের কন্ট্রোল সেল মতিঝিলে অবস্থিত মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেডের আঞ্চলিক কার্যালয়ে স্থাপন করা হয়েছে। এখানে বিভিন্ন বিপণন কোম্পানির সহকারী মহাব্যবস্থাপক ও ব্যবস্থাপক পর্যায়ের কর্মকর্তারা দায়িত্ব পালন করছেন।
একইভাবে বগুড়া অঞ্চলের কন্ট্রোল সেল উপশহরে অবস্থিত মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেডের আঞ্চলিক কার্যালয়ে, খুলনা অঞ্চলের সেল খালিশপুরে, সিলেট অঞ্চলের সেল শাহজালাল উপশহরে এবং বরিশাল অঞ্চলের সেল বান্দরোডে স্থাপন করা হয়েছে।
সংকট মোকাবিলায় সমন্বিত উদ্যোগ
জ্বালানি খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নতুন এই মনিটরিং ব্যবস্থা চালু হলে জ্বালানি তেলের মজুদ ও সরবরাহ পরিস্থিতি সম্পর্কে সরকারের কাছে প্রতিদিনের হালনাগাদ তথ্য থাকবে। এর ফলে বাজারে গুজব, কৃত্রিম সংকট বা মজুদদারির মতো পরিস্থিতি দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব হবে।
তাদের মতে, কেন্দ্রীয় ও আঞ্চলিক পর্যায়ে সমন্বিত এই তদারকি ব্যবস্থা জ্বালানি তেল সরবরাহ ব্যবস্থাপনাকে আরও কার্যকর করবে এবং দেশের বাজারে স্বাভাবিকতা বজায় রাখতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে। সূত্র: সমকাল
বাংলাস্কুপ/ডেস্ক/এইচএইচ/এসকে