সংকট এড়াতে বেশি দামে আমদানি করা হচ্ছে জ্বালানি

আপলোড সময় : ০৬-০৩-২০২৬ ১২:২৮:৪৫ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ০৬-০৩-২০২৬ ১২:২৮:৪৫ অপরাহ্ন
যুদ্ধের কারণে জ্বালানিসংকট এড়াতে নানামুখী উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। এরই মধ্যে খোলাবাজার থেকে বেশি দামে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) দুটি কার্গো (জাহাজ) কিনেছে সরকার। বেশি দামে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) আমদানি করছেন ব্যবসায়ীরা। একই সঙ্গে জ্বালানি সাশ্রয়ে মন্ত্রিসভা ও জ্বালানি মন্ত্রণালয় কয়েক দফা নির্দেশনা দিয়েছে।

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ সূত্র বলছে, জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। দেশে জ্বালানি তেলের মজুত ফুরিয়ে যায়নি। যুদ্ধ পরিস্থিতি বিবেচনায় ১০ শতাংশ সরবরাহ কমানো হয়েছে। অনেকে ডিজেল কিনে মজুত করছে। সংকটের শঙ্কায় মানুষের মধ্যে ভীতি তৈরি হয়েছে। পেট্রল স্টেশনগুলো তেল মজুত করে রাখতে পারে। কৃত্রিম সংকট তৈরি ঠেকাতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

বিপিসি সূত্র বলছে, গত চার দিনে ডিজেল বিক্রি হয়েছে প্রায় ৯৮ হাজার টন। গত বছর একই সময়ে বিক্রি হয়েছিল ৫৫ হাজার টন। বর্তমানে ১ লাখ ৮১ হাজার টন মজুত আছে ডিজেলের। তবে বিলম্ব হলেও ডিজেলের কয়েকটি জাহাজ এসে পৌঁছানোর কথা আগামী সপ্তাহে। গত চার দিনে পেট্রল বিক্রি হয়েছে ৯ হাজার ৩৮০ টন, গত বছর একই সময়ে বিক্রি হয়েছিল ৬ হাজার ৪৮০ টন। অকটেন বিক্রি হয়েছে প্রায় ৮ হাজার টন। গত বছর যা ছিল ৫ হাজার ২৪৭ টন। যদিও পেট্রল ও অকটেনের মজুত নিয়ে দুশ্চিন্তা নেই, এটি দেশেও উৎপাদন হয়।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বৃহস্পতিবার বলেন, দেশে এখন জ্বালানির সংকট নেই। বৈশ্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় আগাম সতর্কতা নেওয়া হয়েছে। সরবরাহ কিছুটা কমানো হয়েছে। একই সঙ্গে বাড়তি দামে হলেও বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি কেনা হচ্ছে। সবাইকে সাশ্রয়ী হতে অনুরোধ করা হয়েছে। বেসরকারি খাতকেও এলপিজি আমদানিতে সহায়তা করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ তেল, গ্যাস, খনিজ সম্পদ করপোরেশন (পেট্রোবাংলা) সূত্র বলছে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে জ্বালানির দাম বিশ্ববাজারে প্রতিদিন বাড়ছে। চীন, জাপান, ইউরোপের দেশগুলো জ্বালানি কিনতে প্রতিযোগিতা করছে। এর মধ্যেই কাতারের এলএনজি সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। ১৫ ও ১৮ মার্চ কাতার থেকে দুটি কার্গো দেশে আসার কথা ছিল। এ দুটি আসবে না। কেননা, কাতার এলএনজি সরবরাহ বন্ধ করে দিয়ছে।

গ্যাস–সংকটের দুশ্চিন্তা থেকে সরবরাহ দিনে ২০ কোটি ঘনফুট কমানো হয়েছে। তবে গত বুধবার খোলাবাজার থেকে দুই কার্গো এলএনজি পাওয়া গেছে। এর মধ্যে সিঙ্গাপুরের ভিটল এশিয়া প্রতি ইউনিট সাড়ে ২৪ ডলার করে নিচ্ছে, যা ২০ মার্চ সরবরাহ করার কথা। আর গানভর দেবে প্রতি ইউনিট ২৮ ডলার করে, তাদের কার্গো ১৭ মার্চ আসার কথা রয়েছে। যুদ্ধ শুরুর আগে এটি কেনা হচ্ছিল ১০ ডলার করে। এতে করে চলতি মাসে গ্যাসের সরবরাহ ধরে রাখা যাবে বলে মনে করছে পেট্রোবাংলা।

বাজারে আবার এলপিজির সরবরাহ নিয়ে কিছুটা অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এর আগে গত ডিসেম্বরে এলপিজি সরবরাহ কমে যাওয়ায় জানুয়ারিতে ব্যাপক সংকট তৈরি হয়েছিল। রান্নার কাজে ব্যবহৃত ১২ কেজি এলপিজির সিলিন্ডার এক হাজার টাকা বেশি দামে বিক্রি হয়। এরপর বেসরকারি কোম্পানির বাড়তি এলপিজি আমদানির অনুমোদন দেয় সরকার। এতে বাজারে সরবরাহ কিছুটা স্বাভাবিক হয়ে আসে। এখন ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। এর মধ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে এলপিজি আমদানি ব্যাহত হচ্ছে। ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের সরকার নির্ধারিত দাম ১ হাজার ৩৪১ টাকা।

এলপিজি আমদানিকারকদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী। বৈঠকে ব্যবসায়ীরা তাঁদের সমস্যার কথা জানালে তা সমাধানের আশ্বাস দেন জ্বালানিমন্ত্রী। বৈঠকে অংশ নেওয়া একাধিক কর্মকর্তা ও ব‍্যবসায়ী বলেন, অধিকাংশ কোম্পানি এক বছর ধরে এলপিজি আমদানি করছে না। কারও কারও ব্যাংক হিসাব জব্দ থাকায় ঋণপত্র খুলতে পারছে না। কোনো শিল্পগোষ্ঠীর একটি কোম্পানির ঋণ জটিলতার কারণে ওই গোষ্ঠীর সব কোম্পানির ঋণপত্র খোলা বন্ধ হয়ে আছে। অগ্রাধিকার বিবেচনায় এলপিজি কোম্পানির ঋণপত্র খোলার ব্যবস্থা করার অনুরোধ করেন ব্যবসায়ীরা। ব্যাংকঋণ সহজীকরণের দাবি জানালে মন্ত্রী তাঁদের আশ্বস্ত করেন। এটি নিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে আলোচনা করবেন তিনি। দাম সমন্বয়ের দাবিও করেছেন তাঁরা। ব্যবসায়ীদের মন্ত্রী বলেছেন এলপিজির যাতে সংকট না হয়, সে ব্যবস্থা করার জন্য। আর বাজারে যাতে বেশি দামে বিক্রি করা না হয়, সেটি খেয়াল রাখতে। সূত্র: প্রথম আলো
 
বাংলাস্কুপ/ডেস্ক/এনআইএন 

সম্পাদক ও প্রকাশক :

মোঃ কামাল হোসেন

অফিস :

অফিস : ৬/২২, ইস্টার্ণ প্লাাজা (৬ তলা), কমার্শিয়াল কমপ্লেক্স, হাতিরপুল, ঢাকা।

ইমেইল :