তেলের দাম বাড়ার গুজবে পাম্পে ভিড়

আপলোড সময় : ০৬-০৩-২০২৬ ১১:৫৪:৫২ পূর্বাহ্ন , আপডেট সময় : ০৬-০৩-২০২৬ ১১:৫৬:৩২ পূর্বাহ্ন
বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়তে পারে এমন খবরে রাজধানীসহ বিভিন্ন জেলায় পেট্রোল পাম্পে ভিড় ও সরবরাহ সংকটের অভিযোগ উঠেছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ, বগুড়া ও জামালপুরে মোটরসাইকেল ও অন্যান্য যানবাহনের চালকদের দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে তেল নিতে দেখা গেছে। কোথাও কোথাও পাম্প বন্ধ রাখার অভিযোগও উঠেছে। শুক্রবার (৬ মার্চ) সকাল থেকেই চাঁপাইনবাবগঞ্জের বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে মোটরসাইকেল চালকদের উপচে পড়া ভিড় দেখা যায়। তেলের দাম হঠাৎ বেড়ে যেতে পারে— এমন আশঙ্কায় অনেকে আগেভাগেই ট্যাংক ভর্তি করে নেওয়ার চেষ্টা করেন।

রাতে শিবগঞ্জের পুকুরিয়া পেট্রোল পাম্পে গিয়ে দেখা যায়, তেল নেওয়ার জন্য চালকদের জটলা তৈরি হয়েছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, কিছু পাম্পে তেল মজুত থাকা সত্ত্বেও কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বিক্রি বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পেট্রোল পাম্প মালিক সমিতির সভাপতি আশরাফুল ইসলাম আলিম বলেন, জেলায় জ্বালানি তেলের কোনো সংকট নেই। ডিপো থেকে সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। কিছু পাম্প মালিক তেল বিক্রি বন্ধ রেখেছেন— এমন খবর পাওয়া গেছে, যা অনৈতিক বলে তিনি মন্তব্য করেন। তিনি চালকদের আতঙ্কিত না হয়ে প্রয়োজন অনুযায়ী তেল নেওয়ার পরামর্শ দেন।

বগুড়াতেও বৃহস্পতিবার রাতে পেট্রোল ও অকটেনের সংকটের অভিযোগ ওঠে। শহরের একাধিক ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, তেল না পেয়ে অনেক ক্রেতা ফিরে যাচ্ছেন। বগুড়া ফিলিং স্টেশনে অন্তত ৫০ জন মোটরসাইকেল চালক তেলের জন্য অপেক্ষা করছিলেন। সেখানে শুধু পেট্রোল দেওয়া হচ্ছিল, অকটেন সরবরাহ বন্ধ ছিল। কিছু চালকের অভিযোগ, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে ব্যবসায়ীরা কৃত্রিম সংকট তৈরি করছেন। তবে ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষ বলছে, ডিপো থেকে পর্যাপ্ত তেল না পাওয়ায় সরবরাহে সমস্যা হচ্ছে। তাদের দাবি, গত দুদিন ধরে তেল সরবরাহ কমে গেছে। শাহজাহানপুর উপজেলা থেকে কয়েকটি তেলের পাম্প ঘুরে বগুড়া ফিলিং স্টেশনে এসেছেন তৌফিকুল আলম। তিনি জানান, এক ঘণ্টা ধরে তেল নেওয়ার জন্য ঘুরছি। মাঝিরা টিএমএসএস পাম্পে প্রচুর ভিড়। তার তুলনায় বগুড়া ফিলিং স্টেশন একটু কম। এখান থেকে না পেলে মোটরসাইকেল চালানো যাবে না।

কমল নামে এক মোটরসাইকেল চালক জানান, এভাবে তেল সরবরাহ বন্ধ করে জনগণকে ভোগান্তির মধ্যে ফেলা হচ্ছে। ইরান-আমেরিকা যুদ্ধ লাগছে। আর এখানে সিন্ডিকেট সুযোগ নেওয়া শুরু করেছে। মিজানুর রহমান নামে আরেকজন বলেন, এটা স্পষ্ট ব্যবসায়ীদের কারসাজি। কোনো আগাম সতর্কতা ছাড়া তেল সরবরাহ বন্ধ করাটা অন্যায়। বগুড়া ফিলিং স্টেশনের কর্মচারী হাফিজার জানান, সকালে বাঘাবাড়ি তেল সংগ্রহে গাড়ি গিয়েছে। রাত ৯টায় এলো। তাও দুদিন পর এক গাড়ি তেল দিয়েছে। এই তেল শেষ হলে কি হবে জানি না। বগুড়ার হক পাম্প অ্যান্ড কোং, নরিমেক্স ফিলিং স্টেশনসহ পাঁচটি ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, তেল সরবরাহ বন্ধ রেখেছেন ব্যবসায়ীরা।

হক পাম্প অ্যান্ড কোংয়ের ক্যাশিয়ার রিমন জানান, আজ বাঘাবাড়ি থেকে গাড়ি ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। ওখান থেকে জানিয়েছে রবি-সোমবারে তেল দেবে। সব পাম্পে হিসাব করে তেল দিচ্ছে। জামালপুরে বৃহস্পতিবার রাত ১০টার পর জেলার প্রায় সব পেট্রোল পাম্প বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে মোটরসাইকেল, ব্যক্তিগত গাড়িসহ বিভিন্ন যানবাহনের চালকেরা বিপাকে পড়েন।স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারিভাবে জ্বালানির দাম বাড়ানোর ঘোষণা না থাকলেও সম্ভাব্য মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কায় কিছু অসাধু ব্যবসায়ী কৃত্রিম সংকট তৈরি করছেন। তবে ভোক্তাদের একাংশ মনে করছেন, গুজবের কারণে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি তেল সংগ্রহের প্রবণতাও পরিস্থিতি জটিল করেছে। এ বিষয়ে জামালপুর জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক শরীফুল ইসলাম বলেন, তেল থাকা অবস্থায় পেট্রোল পাম্প হঠাৎ বন্ধ করে দেওয়া ঠিক নয়। সরকার নির্ধারিত দামে যতক্ষণ তেল মজুত থাকবে, ততক্ষণ সরবরাহ চালু রাখতে হবে। বিষয়টি জেলা প্রশাসনকে জানানো হবে। এদিকে দ্রুত পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে সংকট দূর করার জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা।

বাংলাস্কুপ/প্রতিবেদক/এনআইএন
 
 

সম্পাদক ও প্রকাশক :

মোঃ কামাল হোসেন

অফিস :

অফিস : ৬/২২, ইস্টার্ণ প্লাাজা (৬ তলা), কমার্শিয়াল কমপ্লেক্স, হাতিরপুল, ঢাকা।

ইমেইল :