বঙ্গভবনে আগামী ঈদ উদযাপনের স্মৃতি নিয়ে নিজেই চলে যেতে চান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। তাকে ইমপিচমেন্ট করা হোক, এটা তিনি আশা করেন না। উপযুক্ত সময়ে এবং সবার সঙ্গে সুসম্পর্ক রেখে বিদায় নিতে চান তিনি। বিষয়টি নিয়ে তিনি ইতোমধ্যেই বিএনপির এক নীতিনির্ধারকের সঙ্গে আলাপ করেছেন। তার এই বার্তা ইতোমধ্যে সরকারপ্রধানের কাছেও পৌঁছানো হয়েছে।
২০২৩ সালের ১৩ মার্চ দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন দুর্নীতি দমন কমিশনের সাবেক কমিশনার মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পু। তিনি রাষ্ট্রপতি মো. আব্দুল হামিদের স্থলাভিষিক্ত হন। নিয়ম অনুযায়ী, ২০২৮ সাল পর্যন্ত তার মেয়াদ থাকলেও আওয়ামী লীগ শাসনামলে নির্বাচিত রাষ্ট্রপতিকে এ পদে আর বহাল রাখতে চাইছে না সদ্য সরকার গঠনকারী দল বিএনপি। ইতোমধ্যেই দলটি রাষ্ট্রপতি পদের উপযুক্ত ব্যক্তি মনোনয়ন চূড়ান্ত করেছে।
নিয়মানুযায়ী, বর্তমান রাষ্ট্রপতির বিদায়ের পর নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করা হবে। তাই দ্রুত সংসদ অধিবেশন আহ্বান করে স্পিকার-ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনের মধ্য দিয়ে নতুন স্পিকারের কাছে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের সুযোগ করে দেওয়ার একটি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। বিষয়টি জানতে পেরে নিজে থেকেই বিএনপির শীর্ষস্থানীয় ওই নেতার সঙ্গে কথা বলেন রাষ্ট্রপতি। তাঁর দেওয়া বার্তা অনুযায়ী, তিনি স্বেচ্ছায় চলে যেতে প্রস্তুত এবং সেটা কোনোভাবেই ঈদের পরের এক সপ্তাহের বেশি হবে না।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি জাতীয় সংসদের অধিবেশন ২৬ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠানের একটি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। এ লক্ষ্যে সংসদ সচিব কানিজ মওলার সঙ্গে নীতিনির্ধারকদের বৈঠকও হয়েছিল। যাতে সংসদ অধিবেশন ডেকে স্পিকার-ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন করে রাষ্ট্রপতিকে পদত্যাগের সুযোগ করে দেওয়া যায়। কিন্তু আপাতত উদ্যোগটি থেমে গেছে এবং রাষ্ট্রপতির অভিপ্রায়ের সূত্র ধরেই বিএনপি ‘ধীরে চলো’ নীতি অবলম্বন করছে।
সংবিধানের ৭২(২) বিধান অনুযায়ী, ‘যেকোনো সাধারণ নির্বাচনের ফলাফল ঘোষিত হইবার ত্রিশ দিনের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠানের জন্য সংসদ আহ্বান করা হইবে।’ বর্তমান সংসদের সদস্যরা শপথ নিয়েছেন ১৭ ফেব্রুয়ারি। সে হিসেবে ১৭ মার্চের মধ্যে প্রথম অধিবেশন বসার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সরকারের ‘ধীরে চলো’ নীতির অংশ হিসেবে আগামী ১২ মার্চ জাতীয় সংসদের অধিবেশন আহ্বান করেছেন রাষ্ট্রপতি। এই অধিবেশনের মধ্যেই ঈদের ছুটি পড়বে। যা হবে বঙ্গভবনে মো. সাহাবুদ্দিনের শেষ ঈদ।
সম্প্রতি একটি দৈনিক সংবাদপত্রে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘ক্ষমতাসীন বিএনপি যদি চায় তিনি দায়িত্ব পালন করুন, তাহলে তিনি থাকবেন; আর বিএনপি না চাইলে তিনি নিজেই ‘সম্মানজনকভাবে সরে’ যাবেন।’ তিনি বলেন, ‘আমার মেয়াদ আরও দুই বছর আছে। তবে আমি এটাও বলেছি, যদি একটি নির্বাচিত সরকার আসে এবং তাদের অভিপ্রায় থাকে যে আমি না থাকাই ভালো, তাহলে আমি স্বেচ্ছায় সরে যেতে প্রস্তুত।’
এর আগে বিদেশি বার্তা সংস্থার সঙ্গে সাক্ষাৎকারে নিজে থেকেই চলে যাওয়ার যে ইচ্ছে পোষণ করেছেন সে সম্পর্কে রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন বলেন, ‘আমি যেভাবে বলেছি, সেটি সেই প্রেক্ষাপটেই বোঝা দরকার। গত ১৮ মাসে অন্তর্বর্তী সরকার আমাকে যে রকম মানসিকভাবে চাপ দিয়েছে, নানা ঘটনায় আমাকে যে রকম অপমানিত করা হয়েছে, তাতে আমার মনে এক ধরনের ক্ষোভ জন্মেছিল। তখনই আমি বলেছিলাম, এভাবে রাষ্ট্রপতি থাকা যায় না, চলে যেতে ইচ্ছা করে। এই কথাটাই আমি রয়টার্সকে বলেছিলাম। কিন্তু পরে এটাকে এমনভাবে উপস্থাপন করা হলো, যেন আমার মেয়াদ নেই।’
এদিকে এবারের ঈদের পরপরই রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করলেও সংসদের শীতকালীন অধিবেশনের প্রচলিত রেওয়াজে কিছুটা বিঘ্ন ঘটবে। শীতকালীন অধিবেশনে সাধারণত রাষ্ট্রপতি ভাষণ দিয়ে থাকেন। এমনকি তার ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাব আনা হয়। সংসদ সদস্যরা এই প্রস্তাবের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নেন। অধিবেশনের এক পর্যায়ে গিয়ে ধন্যবাদ প্রস্তাব গৃহীত হয়। অধিবেশনের মাঝপথে রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করে চলে গেলে দীর্ঘদিনের পার্লামেন্টারি প্র্যাকটিসে বিঘ্ন ঘটবে। সূত্র : প্রতিদিনের বাংলাদেশ
বাংলা স্কুপ/ডেস্ক/এইচবি/এসকে
২০২৩ সালের ১৩ মার্চ দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন দুর্নীতি দমন কমিশনের সাবেক কমিশনার মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পু। তিনি রাষ্ট্রপতি মো. আব্দুল হামিদের স্থলাভিষিক্ত হন। নিয়ম অনুযায়ী, ২০২৮ সাল পর্যন্ত তার মেয়াদ থাকলেও আওয়ামী লীগ শাসনামলে নির্বাচিত রাষ্ট্রপতিকে এ পদে আর বহাল রাখতে চাইছে না সদ্য সরকার গঠনকারী দল বিএনপি। ইতোমধ্যেই দলটি রাষ্ট্রপতি পদের উপযুক্ত ব্যক্তি মনোনয়ন চূড়ান্ত করেছে।
নিয়মানুযায়ী, বর্তমান রাষ্ট্রপতির বিদায়ের পর নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করা হবে। তাই দ্রুত সংসদ অধিবেশন আহ্বান করে স্পিকার-ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনের মধ্য দিয়ে নতুন স্পিকারের কাছে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের সুযোগ করে দেওয়ার একটি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। বিষয়টি জানতে পেরে নিজে থেকেই বিএনপির শীর্ষস্থানীয় ওই নেতার সঙ্গে কথা বলেন রাষ্ট্রপতি। তাঁর দেওয়া বার্তা অনুযায়ী, তিনি স্বেচ্ছায় চলে যেতে প্রস্তুত এবং সেটা কোনোভাবেই ঈদের পরের এক সপ্তাহের বেশি হবে না।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি জাতীয় সংসদের অধিবেশন ২৬ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠানের একটি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। এ লক্ষ্যে সংসদ সচিব কানিজ মওলার সঙ্গে নীতিনির্ধারকদের বৈঠকও হয়েছিল। যাতে সংসদ অধিবেশন ডেকে স্পিকার-ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন করে রাষ্ট্রপতিকে পদত্যাগের সুযোগ করে দেওয়া যায়। কিন্তু আপাতত উদ্যোগটি থেমে গেছে এবং রাষ্ট্রপতির অভিপ্রায়ের সূত্র ধরেই বিএনপি ‘ধীরে চলো’ নীতি অবলম্বন করছে।
সংবিধানের ৭২(২) বিধান অনুযায়ী, ‘যেকোনো সাধারণ নির্বাচনের ফলাফল ঘোষিত হইবার ত্রিশ দিনের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠানের জন্য সংসদ আহ্বান করা হইবে।’ বর্তমান সংসদের সদস্যরা শপথ নিয়েছেন ১৭ ফেব্রুয়ারি। সে হিসেবে ১৭ মার্চের মধ্যে প্রথম অধিবেশন বসার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সরকারের ‘ধীরে চলো’ নীতির অংশ হিসেবে আগামী ১২ মার্চ জাতীয় সংসদের অধিবেশন আহ্বান করেছেন রাষ্ট্রপতি। এই অধিবেশনের মধ্যেই ঈদের ছুটি পড়বে। যা হবে বঙ্গভবনে মো. সাহাবুদ্দিনের শেষ ঈদ।
সম্প্রতি একটি দৈনিক সংবাদপত্রে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘ক্ষমতাসীন বিএনপি যদি চায় তিনি দায়িত্ব পালন করুন, তাহলে তিনি থাকবেন; আর বিএনপি না চাইলে তিনি নিজেই ‘সম্মানজনকভাবে সরে’ যাবেন।’ তিনি বলেন, ‘আমার মেয়াদ আরও দুই বছর আছে। তবে আমি এটাও বলেছি, যদি একটি নির্বাচিত সরকার আসে এবং তাদের অভিপ্রায় থাকে যে আমি না থাকাই ভালো, তাহলে আমি স্বেচ্ছায় সরে যেতে প্রস্তুত।’
এর আগে বিদেশি বার্তা সংস্থার সঙ্গে সাক্ষাৎকারে নিজে থেকেই চলে যাওয়ার যে ইচ্ছে পোষণ করেছেন সে সম্পর্কে রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন বলেন, ‘আমি যেভাবে বলেছি, সেটি সেই প্রেক্ষাপটেই বোঝা দরকার। গত ১৮ মাসে অন্তর্বর্তী সরকার আমাকে যে রকম মানসিকভাবে চাপ দিয়েছে, নানা ঘটনায় আমাকে যে রকম অপমানিত করা হয়েছে, তাতে আমার মনে এক ধরনের ক্ষোভ জন্মেছিল। তখনই আমি বলেছিলাম, এভাবে রাষ্ট্রপতি থাকা যায় না, চলে যেতে ইচ্ছা করে। এই কথাটাই আমি রয়টার্সকে বলেছিলাম। কিন্তু পরে এটাকে এমনভাবে উপস্থাপন করা হলো, যেন আমার মেয়াদ নেই।’
এদিকে এবারের ঈদের পরপরই রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করলেও সংসদের শীতকালীন অধিবেশনের প্রচলিত রেওয়াজে কিছুটা বিঘ্ন ঘটবে। শীতকালীন অধিবেশনে সাধারণত রাষ্ট্রপতি ভাষণ দিয়ে থাকেন। এমনকি তার ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাব আনা হয়। সংসদ সদস্যরা এই প্রস্তাবের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নেন। অধিবেশনের এক পর্যায়ে গিয়ে ধন্যবাদ প্রস্তাব গৃহীত হয়। অধিবেশনের মাঝপথে রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করে চলে গেলে দীর্ঘদিনের পার্লামেন্টারি প্র্যাকটিসে বিঘ্ন ঘটবে। সূত্র : প্রতিদিনের বাংলাদেশ
বাংলা স্কুপ/ডেস্ক/এইচবি/এসকে