​বিষমুক্ত আগাম টমেটো চাষে হারুনের ভাগ্যবদল, মৌসুমে আয় ছয় লাখ

আপলোড সময় : ১৭-০২-২০২৬ ০৩:১০:৩২ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ১৭-০২-২০২৬ ০৪:৪৪:২৪ অপরাহ্ন
অভাব-অনটনের সংসার থেকে শুরু করে আজ সচ্ছলতার গল্প―সবই সম্ভব হয়েছে বিষমুক্ত আগাম টমেটো চাষে। চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলার উপাদী গ্রামের মো. হারুন (৫৫) একসময় দিনমজুরি করে সংসার চালাতেন। এখন তিনি এলাকায় পরিচিত ‘টমেটো হারুন’ নামে।

পৈতৃক জমি না থাকায় দীর্ঘদিন অর্ধাহার–অনাহারে দিন কেটেছে তার। জীবনের মোড় ঘোরাতে ২০১০ সালে ৩০ শতাংশ জমি বর্গা নিয়ে শুরু করেন টমেটো চাষ। প্রথম বছরই আগাম টমেটো বিক্রি করে আয় করেন দেড় লাখ টাকা। সেই সাফল্যই তাকে এগিয়ে যেতে অনুপ্রাণিত করে। এরপর থেকে প্রতি বছর সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাসে প্রাক্‌-শীত মৌসুমে ৬০ থেকে ৮০ শতাংশ জমিতে বিষমুক্ত টমেটো আবাদ করছেন হারুন। তার উৎপাদিত টমেটোর চাহিদা স্থানীয় বাজারে বেশি। উৎপাদন খরচ বাদ দিয়ে প্রতি মৌসুমে গড়ে প্রায় ছয় লাখ টাকা আয় করছেন তিনি।

চলতি মৌসুমে ৬০ শতাংশ জমিতে টমেটো চাষে তার খরচ হয়েছে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা। আশা করছেন প্রায় ৩০০ মণ ফলন হবে। ইতোমধ্যে কিছু টমেটো বিক্রি করেছেন, বাকিসব ফেব্রুয়ারির আগেই বিক্রি হবে। সব মিলিয়ে এবার প্রায় সাত লাখ টাকা আয় হবে বলে জানান হারুন। টমেটো বিক্রির লাভের টাকায় ৩০ লাখ টাকা ব্যয়ে একতলা পাকা বাড়ি নির্মাণ করেছেন হারুন। কিনেছেন ৫০ শতাংশ জমি। দুই মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন, আরেক মেয়ে ও এক ছেলের লেখাপড়ার খরচও চলছে তার এই আয়ে। হারুন বলেন, টমেটো চাষ কইরা সচ্ছল অইছি। অভাবরে লাল কার্ড দেখাইছি। আরও বেশি জমিতে আগাম টমেটো চাষ করার ইচ্ছা আছে। তার সফলতা দেখে একই গ্রামের আরও ৩০ থেকে ৩২ জন কৃষক আগাম টমেটো চাষে উদ্বুদ্ধ হয়েছেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা চৈতন্য পাল বলেন, অভাবের সঙ্গে লড়াই করে হারুন যেভাবে টমেটো চাষে স্বাবলম্বী হয়েছেন, তা অন্যদের জন্য দৃষ্টান্ত। কৃষি বিভাগ থেকে তাকে এবং এলাকার অন্যান্য টমেটো চাষিদের নিয়মিত পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।

বাংলাস্কুপ/প্রতিবেদক/এনআইএন
 

সম্পাদক ও প্রকাশক :

মোঃ কামাল হোসেন

অফিস :

অফিস : ৬/২২, ইস্টার্ণ প্লাাজা (৬ তলা), কমার্শিয়াল কমপ্লেক্স, হাতিরপুল, ঢাকা।

ইমেইল :