হিমালয়ের পাদদেশের জেলা পঞ্চগড়ে হাড়কাঁপানো শীতে স্থবির হয়ে পড়েছে জনজীবন। টানা দুই সপ্তাহ সূর্যের দেখা না মেলার পর গতকাল মঙ্গলবার কিছুক্ষণের জন্য রোদ উঁকি দিলেও তাতে ছিল না কোনও উত্তাপ। বুধবার (৭ জানুয়ারি) সকালে তেঁতুলিয়ায় তাপমাত্রা নেমেছে ৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে, যা চলতি মৌসুমে এই জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা।
তীব্র শীত আর ঘন কুয়াশা উপেক্ষা করেই জীবনসংগ্রামে নেমেছেন শ্রমজীবী মানুষ। মঙ্গলবার দুপুরে বোদা উপজেলার বেংহারী বনগ্রাম ইউনিয়নের পুটিমারী এলাকায় আলু ক্ষেতে হিমাঙ্ক ছোঁয়া মাটিতে কাজ করতে দেখা গেছে একদল নারী শ্রমিককে। তাদেরই একজন বিনতী রানি আক্ষেপ করে বলেন, ‘ঠাণ্ডায় বাড়িতে বসে আগুন তাপালে কি আমাদের পেট ভরবে? কাজ না করলে আমাদের পেটে ভাত নাই। বরফের মতো ঠাণ্ডা মাটিতে কাজ করতে করতে আমরা অভ্যস্ত হয়ে গেছি। সারাদিন এই হাড়ভাঙা খাটুনি শেষে তাদের জুটে মাত্র ৩০০ টাকা।
সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ঘন কুয়াশা আর উত্তর থেকে আসা হিমালয়ান শীতল বাতাসে কাবু হয়ে পড়েছে জনপদ। আগে যেখানে হাট-বাজারে রাত ২টা পর্যন্ত মানুষের আনাগোনা থাকত, এখন রাত ৯টার পর থেকেই রাস্তাঘাট জনশূন্য হয়ে পড়ছে। শহরের তেঁতুলিয়া বাসস্ট্যান্ড এলাকার পান ব্যবসায়ী তৌহিদুল ইসলাম জানান, গত ২ সপ্তাহ ধরে তীব্র শীতের কারণে রাত ১০টার পর বাজার প্রায় মানুষশূন্য হয়ে পড়ে। দিনভর যানবাহনগুলোকে হেডলাইট জ্বালিয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলতে দেখা গেছে। পঞ্চগড়ের জেলা প্রশাসক কাজী মো. সায়েমুজ্জামান জানিয়েছেন, শীত মোকাবিলায় মন্ত্রণালয় থেকে ইতিমধ্যে ২৩ লাখ টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে। সেই অর্থ দিয়ে মানসম্মত শীতবস্ত্র ক্রয় করে দুস্থদের মাঝে বিতরণের কাজ চলছে।
তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জীতেন্দ্রনাথ রায় জানান, গত ২ সপ্তাহ ধরে তাপমাত্রা ৮ থেকে ১২ ডিগ্রীর ঘরে উঠানামা করলেও বুধবার তাপমাত্রা নেমেছে ৭ ডিগ্রীর ঘরে। যা চলতি মৌসুমে পঞ্চগড় জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। হঠাৎ করে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা অনেক বেশি কমে যাওয়ায় এই অঞ্চলে তীব্র শীত অনুভূত হচ্ছে। দুপুরের পর সূর্যের দেখা মিললেও কুয়াশার কারণে উত্তাপ ছড়াতে পারেনি। সেই সঙ্গে উত্তর দিক থেকে আসা হিম শীতল বাতাসের কারণে দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা বাড়তে পারেনি। মঙ্গলবার বিকেল তিনটায় এখানে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আগের দিন সোমবার রোদ না থেকেও সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ১৬ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। কুয়াশা কেটে পূর্ণাঙ্গভাবে সূর্যের উত্তাপ না হওয়া পর্যন্ত এ অবস্থা অব্যাহত থাকতে পারে বলে তিনি জানান।
বাংলাস্কুপ/প্রতিবেদক/এনআইএন
তীব্র শীত আর ঘন কুয়াশা উপেক্ষা করেই জীবনসংগ্রামে নেমেছেন শ্রমজীবী মানুষ। মঙ্গলবার দুপুরে বোদা উপজেলার বেংহারী বনগ্রাম ইউনিয়নের পুটিমারী এলাকায় আলু ক্ষেতে হিমাঙ্ক ছোঁয়া মাটিতে কাজ করতে দেখা গেছে একদল নারী শ্রমিককে। তাদেরই একজন বিনতী রানি আক্ষেপ করে বলেন, ‘ঠাণ্ডায় বাড়িতে বসে আগুন তাপালে কি আমাদের পেট ভরবে? কাজ না করলে আমাদের পেটে ভাত নাই। বরফের মতো ঠাণ্ডা মাটিতে কাজ করতে করতে আমরা অভ্যস্ত হয়ে গেছি। সারাদিন এই হাড়ভাঙা খাটুনি শেষে তাদের জুটে মাত্র ৩০০ টাকা।
সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ঘন কুয়াশা আর উত্তর থেকে আসা হিমালয়ান শীতল বাতাসে কাবু হয়ে পড়েছে জনপদ। আগে যেখানে হাট-বাজারে রাত ২টা পর্যন্ত মানুষের আনাগোনা থাকত, এখন রাত ৯টার পর থেকেই রাস্তাঘাট জনশূন্য হয়ে পড়ছে। শহরের তেঁতুলিয়া বাসস্ট্যান্ড এলাকার পান ব্যবসায়ী তৌহিদুল ইসলাম জানান, গত ২ সপ্তাহ ধরে তীব্র শীতের কারণে রাত ১০টার পর বাজার প্রায় মানুষশূন্য হয়ে পড়ে। দিনভর যানবাহনগুলোকে হেডলাইট জ্বালিয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলতে দেখা গেছে। পঞ্চগড়ের জেলা প্রশাসক কাজী মো. সায়েমুজ্জামান জানিয়েছেন, শীত মোকাবিলায় মন্ত্রণালয় থেকে ইতিমধ্যে ২৩ লাখ টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে। সেই অর্থ দিয়ে মানসম্মত শীতবস্ত্র ক্রয় করে দুস্থদের মাঝে বিতরণের কাজ চলছে।
তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জীতেন্দ্রনাথ রায় জানান, গত ২ সপ্তাহ ধরে তাপমাত্রা ৮ থেকে ১২ ডিগ্রীর ঘরে উঠানামা করলেও বুধবার তাপমাত্রা নেমেছে ৭ ডিগ্রীর ঘরে। যা চলতি মৌসুমে পঞ্চগড় জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। হঠাৎ করে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা অনেক বেশি কমে যাওয়ায় এই অঞ্চলে তীব্র শীত অনুভূত হচ্ছে। দুপুরের পর সূর্যের দেখা মিললেও কুয়াশার কারণে উত্তাপ ছড়াতে পারেনি। সেই সঙ্গে উত্তর দিক থেকে আসা হিম শীতল বাতাসের কারণে দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা বাড়তে পারেনি। মঙ্গলবার বিকেল তিনটায় এখানে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আগের দিন সোমবার রোদ না থেকেও সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ১৬ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। কুয়াশা কেটে পূর্ণাঙ্গভাবে সূর্যের উত্তাপ না হওয়া পর্যন্ত এ অবস্থা অব্যাহত থাকতে পারে বলে তিনি জানান।
বাংলাস্কুপ/প্রতিবেদক/এনআইএন