খুলনার কয়রা উপজেলার সর্ব দক্ষিণের জনপদ কপোতাক্ষ নদের মাটিয়াভাঙ্গা এলাকার পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বেড়িবাঁধ ভয়াবহ ভাঙনের কবলে পড়েছে। অন্যদিকে পিরোজপুরে নদীর মোহনার এলাকাসমুহ নদীর ভাঙনের কবলে পড়েছে। এতে উভয় পাড়ের প্রায় দুই শতাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, বসতবাড়ি, কৃষিজমিসহ মসজিদ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। হুমকির মুখে বসতবাড়ি, আবাদি জমি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ অন্যান্য স্থাপনা। ঝুপঝাপ শব্দে ভাঙছে এসব নদ-নদীর পাড়। শনিবার বাংলাস্কুপের প্রতিনিধিদের পাঠানো খবরে বিস্তারিত-
কয়রা (খুলনা) প্রতিনিধি জানান- খুলনার কয়রা উপজেলার সর্ব দক্ষিণের জনপদ কপোতাক্ষ নদের মাটিয়াভাঙ্গা এলাকার পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বেড়িবাঁধ ভয়াবহ ভাঙনের কবলে পড়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাতে হঠাৎ বাঁধ ভেঙে পানি প্রবেশের উপক্রম হয়। স্থানীয়রা রাত জেগে স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে কাজ করে এ যাত্রায় রক্ষা করেছেন। তবে ভাঙন আতঙ্কে দিন কাটছে নদীতীরবর্তী বাসিন্দাদের। স্থানীয়রা জানান, গত বৃহস্পতিবার রাতে নদের উপজেলার মাটিয়াভাঙ্গা এলাকার প্রায় ২০০ মিটার বাঁধ নদীতে বিলীন হয়ে যায়। তাৎক্ষণিক স্থানীয়রা ওই রাতে একটি রিং বাঁধ দিয়ে পানি আটকাতে সক্ষম হন। তবে জরুরিভিত্তিতে বাঁধ সংস্কারে ব্যবস্থা না নিলে যে কোনো সময় নোনা পানিতে প্লাবিত হবে কয়েকটি গ্রাম। দক্ষিণ বেদকাশি ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য দিদারুল আলম জানান, সুন্দরবন ঘেঁষা আড়পাঙ্গাসিয়া নদী ও কপোতাক্ষ নদের মোহনা সংলগ্ন বাঁধটিতে এক মাস আগেই ফাটল দেখা দেয়। বিষয়টি পাউবোকে জানানো হলেও প্রয়োজনীয় কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। অল্প কিছু বস্তা ডাম্পিং করে দায়সারা কাজ করা হয়েছিল তখন। বৃহস্পতিবার রাতে আগের ফাটলটি হঠাৎ বড় হয়ে বাঁধ ধসে গেছে। তিনি বলেন, ভাঙনের খবর শুনে রাতেই ঘটনাস্থলে যান মাটিয়াভাঙ্গা গ্রামের সোহেল গাজী, আক্তারুল মোল্যা, নয়ন খাঁসহ অনেকেই। তারা গিয়ে দেখেন, বাঁধের মাটি বড় বড় খণ্ড হয়ে নদীতে ঝুপঝাপ শব্দে ভেঙে পড়ছে। তাৎক্ষণিক গ্রামবাসীকে সঙ্গে নিয়ে তারা দ্রুত রিং বাঁধ নির্মাণ করেন। এতে করে আর লোকালয় পানিতে প্লাবিত হয়নি। তবে জোয়ারের পানি যেভাবে বাড়ছে, এতে দ্রুত সংস্কার কাজ না করা হলে আবারও ভাঙনের ঝুঁকি আছে।
মাটিয়াভাঙ্গা গ্রামের অজিয়ার শেখ বলেন, দেখতে দেখতে নদীর বাঁধ কীভাবে ভেঙে গেল, তা বুঝতে পারলাম না। মনে হলো বাড়িঘর সব তলিয়ে যাবে। তবে রিং বাঁধ দেওয়ায় এ যাত্রা মনে হয় রক্ষা হলো। আমাদের দাবি, বাঁধটি দ্রুত সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হোক। পাশাপাশি বর্ষার আগেই এখানে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের কাজ শেষ করা হোক। আমরা আর আতঙ্কের মধ্যে থাকতে চাই না। দক্ষিণ বেদকাশি ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ওসমান গনি খোকন বলেন, বাঁধ ভাঙার খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হই। পরে স্থানীয়দের সঙ্গে নিয়ে রাতেই রিং বাঁধ নির্মাণ করে পানি আটকানো সম্ভব হয়েছে। পাউবো সূত্রে জানা গেছে, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের ‘পুনর্বাসন’ প্রকল্পের আওতায় কয়রা উপজেলার উত্তর ও দক্ষিণ বেদকাশি ইউনিয়নের দুটি পোল্ডারে প্রায়ে ১ হাজার ২০০ কোটি টাকার একটি প্রকল্পের কাজ চলছে। এর মধ্যে ৩২ কিলোমিটার বেড়িবাঁধে উচ্চতা-প্রশস্ততা বৃদ্ধি, ঢাল সংরক্ষণ, নদীশাসন ও চর বনায়ন রয়েছে। মাটিয়াভাঙ্গার ভাঙন এলাকাটিও ওই প্রকল্পের অংশ। পাউবোর সাতক্ষীরা-২ বিভাগের উপসহকারী প্রকৌশলী আলমগীর কবীর বলেন বাঁধটির মেরামত কাজ শুরু হয়েছে। কাজ চলমান অবস্থায় বৃহস্পতিবার রাতে বাঁধটি ভেঙে যায়। কংক্রিট ব্লক নির্মাণের সরঞ্জামও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রাতেই বিকল্প রিং বাঁধ দিয়ে পানি আটকাতে পারায় এলাকা প্লাবিত হয়নি। তবে স্থানীয়দের দাবি, বর্ষার আগে বাঁধের কাজ শেষ না হলে বড় বিপদের সম্মুখীন হতে হবে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে পাউবো সাতক্ষীরা-২ বিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী রাশিদুল ইসলাম বলেন, প্রকল্পের কাজ দ্রুত শেষ করার চেষ্টা চলছে। তবে জমি অধিগ্রহণ জটিলতা, বরাদ্দ বিলম্ব, বালু-মাটির সংকট ও ভাটার সময়ের ওপর নির্ভর করতে হওয়ায় কাজ পিছিয়ে যাচ্ছে। মাটিয়াভাঙ্গা এলাকার বাঁধে জরুরিভিত্তিতে কাজ শুরু হয়েছে। আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই।
পিরোজপুর প্রতিনিধি জানান- পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলার আমড়াজুড়ি ইউনিয়নে সন্ধ্যা, গাবখান ও কচা নদীর মোহনায় স্বরূপকাঠি ও কাউখালী উপজেলার সংযোগস্থল আমড়াঝুড়ি ফেরিঘাট এলাকায় নদীর ভাঙনের কবলে পড়েছে। এতে উভয় পাড়ের প্রায় দুই শতাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, বসতবাড়ি, কৃষিজমিসহ মসজিদ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। হুমকির মুখে বসতবাড়ি, আবাদি জমি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ অন্যান্য স্থাপনা। দুই উপজেলা বাসিন্দাদের যাতায়াতের সহজ পথ আমড়াঝুড়ি ফেরিঘাট যা এখন ভাঙনের কবলে পড়ে অস্তিত্ব সংকটে। ইতোমধ্যে বাজার সংলগ্ন কাউখালী-শেখেরহাট সড়কের একাংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। সরেজমিনে দেখা যায়, আমড়াজুড়ি বাজারের পশ্চিম দিকে প্রায় ১০০০ মিটার এলাকা সন্ধ্যা নদীর ভাঙনের কবলে পড়েছে। নদী ভাঙনের কারণে বেশ কয়েকটি দোকান একাধিকবার সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। নদীভাঙনে আমড়াজুড়ি বাজার মসজিদটির একাংশ ধ্বসে গিয়ে নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। বাজারের পাশে কাউখালী-শেখেরহাট সড়কের এক কিলোমিটারের বেশি অংশ ভেঙে নদীতে বিলীন হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে অস্থায়ী ভিক্তিতে প্রায় ৪৭ লাখ টাকা ব্যয়ে নদীতে জিও ব্যাগ ফেলে বাঁধ নির্মান চলমান থাকলেও তা ভাঙন ঠেকাতে সক্ষম হচ্ছে না। গত এক বছরে দুই পাড়ের দুই শতাধিক দোকান নদীভাঙনের কবলে পড়েছে। ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে বাজারের প্রায় ৭০টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আমড়াজুড়ি ফেরিঘাট থেকে প্রতিদিন একটি ফেরি পিরোজপুর সদর থেকে কাউখালী হয়ে নেছারাবাদ উপজেলায় চলাচল করে। এই ফেরিঘাট এলাকায় পাঁচ দশকের বেশি সময় ধরে সন্ধ্যা নদী ভাঙছে।
প্রতিবছর ভাঙনের কবলে পড়ছে আমড়াজুড়ি ফেরিঘাট বাজার। বাজারের একাধিক দোকান নদীভাঙনের কবলে পড়ায় বেশ কয়েকবার সরিয়ে নিতে হয়েছে। কাউখালী-শেখেরহাট সড়কের একাংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ায় উপজেলার পূর্ব আমড়াজুড়ি, মাগুড়া গ্রাম এবং এর সীমানা ঘেঁষা ঝালকাঠি জেলার শেখেরহাট গ্রামের মানুষ যাতায়াতে চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, নদীভাঙন রোধে কর্তৃপক্ষ এখনো কোনো টেকসই পদক্ষেপ নেয়নি। তাদের দাবি, গত এক বছরে পিরোজপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড প্রায় দেড় কোটি টাকা ব্যয়ে ভাঙন প্রতিরোধের উদ্যোগ নিলেও তাতে বাস্তব কোনো সুফল মিলেনি। জিও ব্যাগসহ সাময়িক প্রতিরোধমূলক এসব কাজ বিশাল নদীর মোহনায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছে না বলে তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। আমড়াজুড়ি বাজারের ব্যবসায়ী মো. শাহিন বলেন, আমড়াজুড়ি ফেরিঘাট এলাকা সন্ধ্যা ও গাবখান খালের মোহনা হওয়ায় প্রতিবছর নদীভাঙনের ঘটনা ঘটছে। কয়েক বছর ধরে ভাঙন বেশি হচ্ছে। এক বছরে নদীভাঙনের কারণে আমার দোকান তিনবার সরিয়ে নিতে হয়েছে। এবছরও আমার দোকান ঝুঁকিতে রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা ইকবাল হোসেন তালুকদার বলেন, এই নদী ভাঙনের কারণে কয়েক মাস পরপর দোকানপাট সরিয়ে নিতে হচ্ছে। নদীতে পাইলিং করে বালুর বস্তা ফেলেও নদীভাঙন রোধ করা যাচ্ছে না। এখানে টেকসই নদী রক্ষা বাঁধ নির্মাণ ও নদী শাসনের জন্য কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে নদীভাঙন ঠেকানো সম্ভব হবে না। বিলীনের পথে পূর্ব আমড়াঝুড়ি বাজার মসজিদের ইমাম গাজী মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, নদী ভাঙ্গনের কবলে পড়ে আমাদের মসজিদের একাংশ নদীতে বিলীন হয়ে গিয়েছে। ছয় মাস আগেও মসজিদে নামাজ পড়া যেত কিন্তু হঠাৎ মসজিদের সামনের দেয়াল ভেঙে নদীতে বিলীন হয়ে যায়। আগে চার কাতার নামাজের জায়গা থাকলেও এখন দুই কাতার জায়গায় নামাজ পড়তে হচ্ছে তাও শঙ্কা নিয়ে। আমি কর্তৃপক্ষের কাছে এখানে টেকসই নদী রক্ষা বাঁধ নির্মাণের অনুরোধ করি। পিরোজপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ বিভাগীয় প্রকৌশলী আবু জাফর মো. রাশেদ খান বলেন, ফেরিঘাটের দুই প্রান্তে প্রায় ১৫০০ মিটার স্থায়ী বাঁধের জন্য আমরা স্টাডি করছি এবং বর্তমানে অস্থায়ী ভিক্তিতে প্রায় ৪৭ লাখ টাকা ব্যয়ে বাঁধের কাজ চলমান রয়েছে।
বাংলাস্কুপে/ডেস্ক/এনআইএন
কয়রা (খুলনা) প্রতিনিধি জানান- খুলনার কয়রা উপজেলার সর্ব দক্ষিণের জনপদ কপোতাক্ষ নদের মাটিয়াভাঙ্গা এলাকার পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বেড়িবাঁধ ভয়াবহ ভাঙনের কবলে পড়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাতে হঠাৎ বাঁধ ভেঙে পানি প্রবেশের উপক্রম হয়। স্থানীয়রা রাত জেগে স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে কাজ করে এ যাত্রায় রক্ষা করেছেন। তবে ভাঙন আতঙ্কে দিন কাটছে নদীতীরবর্তী বাসিন্দাদের। স্থানীয়রা জানান, গত বৃহস্পতিবার রাতে নদের উপজেলার মাটিয়াভাঙ্গা এলাকার প্রায় ২০০ মিটার বাঁধ নদীতে বিলীন হয়ে যায়। তাৎক্ষণিক স্থানীয়রা ওই রাতে একটি রিং বাঁধ দিয়ে পানি আটকাতে সক্ষম হন। তবে জরুরিভিত্তিতে বাঁধ সংস্কারে ব্যবস্থা না নিলে যে কোনো সময় নোনা পানিতে প্লাবিত হবে কয়েকটি গ্রাম। দক্ষিণ বেদকাশি ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য দিদারুল আলম জানান, সুন্দরবন ঘেঁষা আড়পাঙ্গাসিয়া নদী ও কপোতাক্ষ নদের মোহনা সংলগ্ন বাঁধটিতে এক মাস আগেই ফাটল দেখা দেয়। বিষয়টি পাউবোকে জানানো হলেও প্রয়োজনীয় কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। অল্প কিছু বস্তা ডাম্পিং করে দায়সারা কাজ করা হয়েছিল তখন। বৃহস্পতিবার রাতে আগের ফাটলটি হঠাৎ বড় হয়ে বাঁধ ধসে গেছে। তিনি বলেন, ভাঙনের খবর শুনে রাতেই ঘটনাস্থলে যান মাটিয়াভাঙ্গা গ্রামের সোহেল গাজী, আক্তারুল মোল্যা, নয়ন খাঁসহ অনেকেই। তারা গিয়ে দেখেন, বাঁধের মাটি বড় বড় খণ্ড হয়ে নদীতে ঝুপঝাপ শব্দে ভেঙে পড়ছে। তাৎক্ষণিক গ্রামবাসীকে সঙ্গে নিয়ে তারা দ্রুত রিং বাঁধ নির্মাণ করেন। এতে করে আর লোকালয় পানিতে প্লাবিত হয়নি। তবে জোয়ারের পানি যেভাবে বাড়ছে, এতে দ্রুত সংস্কার কাজ না করা হলে আবারও ভাঙনের ঝুঁকি আছে।
মাটিয়াভাঙ্গা গ্রামের অজিয়ার শেখ বলেন, দেখতে দেখতে নদীর বাঁধ কীভাবে ভেঙে গেল, তা বুঝতে পারলাম না। মনে হলো বাড়িঘর সব তলিয়ে যাবে। তবে রিং বাঁধ দেওয়ায় এ যাত্রা মনে হয় রক্ষা হলো। আমাদের দাবি, বাঁধটি দ্রুত সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হোক। পাশাপাশি বর্ষার আগেই এখানে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের কাজ শেষ করা হোক। আমরা আর আতঙ্কের মধ্যে থাকতে চাই না। দক্ষিণ বেদকাশি ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ওসমান গনি খোকন বলেন, বাঁধ ভাঙার খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হই। পরে স্থানীয়দের সঙ্গে নিয়ে রাতেই রিং বাঁধ নির্মাণ করে পানি আটকানো সম্ভব হয়েছে। পাউবো সূত্রে জানা গেছে, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের ‘পুনর্বাসন’ প্রকল্পের আওতায় কয়রা উপজেলার উত্তর ও দক্ষিণ বেদকাশি ইউনিয়নের দুটি পোল্ডারে প্রায়ে ১ হাজার ২০০ কোটি টাকার একটি প্রকল্পের কাজ চলছে। এর মধ্যে ৩২ কিলোমিটার বেড়িবাঁধে উচ্চতা-প্রশস্ততা বৃদ্ধি, ঢাল সংরক্ষণ, নদীশাসন ও চর বনায়ন রয়েছে। মাটিয়াভাঙ্গার ভাঙন এলাকাটিও ওই প্রকল্পের অংশ। পাউবোর সাতক্ষীরা-২ বিভাগের উপসহকারী প্রকৌশলী আলমগীর কবীর বলেন বাঁধটির মেরামত কাজ শুরু হয়েছে। কাজ চলমান অবস্থায় বৃহস্পতিবার রাতে বাঁধটি ভেঙে যায়। কংক্রিট ব্লক নির্মাণের সরঞ্জামও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রাতেই বিকল্প রিং বাঁধ দিয়ে পানি আটকাতে পারায় এলাকা প্লাবিত হয়নি। তবে স্থানীয়দের দাবি, বর্ষার আগে বাঁধের কাজ শেষ না হলে বড় বিপদের সম্মুখীন হতে হবে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে পাউবো সাতক্ষীরা-২ বিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী রাশিদুল ইসলাম বলেন, প্রকল্পের কাজ দ্রুত শেষ করার চেষ্টা চলছে। তবে জমি অধিগ্রহণ জটিলতা, বরাদ্দ বিলম্ব, বালু-মাটির সংকট ও ভাটার সময়ের ওপর নির্ভর করতে হওয়ায় কাজ পিছিয়ে যাচ্ছে। মাটিয়াভাঙ্গা এলাকার বাঁধে জরুরিভিত্তিতে কাজ শুরু হয়েছে। আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই।
পিরোজপুর প্রতিনিধি জানান- পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলার আমড়াজুড়ি ইউনিয়নে সন্ধ্যা, গাবখান ও কচা নদীর মোহনায় স্বরূপকাঠি ও কাউখালী উপজেলার সংযোগস্থল আমড়াঝুড়ি ফেরিঘাট এলাকায় নদীর ভাঙনের কবলে পড়েছে। এতে উভয় পাড়ের প্রায় দুই শতাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, বসতবাড়ি, কৃষিজমিসহ মসজিদ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। হুমকির মুখে বসতবাড়ি, আবাদি জমি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ অন্যান্য স্থাপনা। দুই উপজেলা বাসিন্দাদের যাতায়াতের সহজ পথ আমড়াঝুড়ি ফেরিঘাট যা এখন ভাঙনের কবলে পড়ে অস্তিত্ব সংকটে। ইতোমধ্যে বাজার সংলগ্ন কাউখালী-শেখেরহাট সড়কের একাংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। সরেজমিনে দেখা যায়, আমড়াজুড়ি বাজারের পশ্চিম দিকে প্রায় ১০০০ মিটার এলাকা সন্ধ্যা নদীর ভাঙনের কবলে পড়েছে। নদী ভাঙনের কারণে বেশ কয়েকটি দোকান একাধিকবার সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। নদীভাঙনে আমড়াজুড়ি বাজার মসজিদটির একাংশ ধ্বসে গিয়ে নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। বাজারের পাশে কাউখালী-শেখেরহাট সড়কের এক কিলোমিটারের বেশি অংশ ভেঙে নদীতে বিলীন হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে অস্থায়ী ভিক্তিতে প্রায় ৪৭ লাখ টাকা ব্যয়ে নদীতে জিও ব্যাগ ফেলে বাঁধ নির্মান চলমান থাকলেও তা ভাঙন ঠেকাতে সক্ষম হচ্ছে না। গত এক বছরে দুই পাড়ের দুই শতাধিক দোকান নদীভাঙনের কবলে পড়েছে। ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে বাজারের প্রায় ৭০টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আমড়াজুড়ি ফেরিঘাট থেকে প্রতিদিন একটি ফেরি পিরোজপুর সদর থেকে কাউখালী হয়ে নেছারাবাদ উপজেলায় চলাচল করে। এই ফেরিঘাট এলাকায় পাঁচ দশকের বেশি সময় ধরে সন্ধ্যা নদী ভাঙছে।
প্রতিবছর ভাঙনের কবলে পড়ছে আমড়াজুড়ি ফেরিঘাট বাজার। বাজারের একাধিক দোকান নদীভাঙনের কবলে পড়ায় বেশ কয়েকবার সরিয়ে নিতে হয়েছে। কাউখালী-শেখেরহাট সড়কের একাংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ায় উপজেলার পূর্ব আমড়াজুড়ি, মাগুড়া গ্রাম এবং এর সীমানা ঘেঁষা ঝালকাঠি জেলার শেখেরহাট গ্রামের মানুষ যাতায়াতে চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, নদীভাঙন রোধে কর্তৃপক্ষ এখনো কোনো টেকসই পদক্ষেপ নেয়নি। তাদের দাবি, গত এক বছরে পিরোজপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড প্রায় দেড় কোটি টাকা ব্যয়ে ভাঙন প্রতিরোধের উদ্যোগ নিলেও তাতে বাস্তব কোনো সুফল মিলেনি। জিও ব্যাগসহ সাময়িক প্রতিরোধমূলক এসব কাজ বিশাল নদীর মোহনায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছে না বলে তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। আমড়াজুড়ি বাজারের ব্যবসায়ী মো. শাহিন বলেন, আমড়াজুড়ি ফেরিঘাট এলাকা সন্ধ্যা ও গাবখান খালের মোহনা হওয়ায় প্রতিবছর নদীভাঙনের ঘটনা ঘটছে। কয়েক বছর ধরে ভাঙন বেশি হচ্ছে। এক বছরে নদীভাঙনের কারণে আমার দোকান তিনবার সরিয়ে নিতে হয়েছে। এবছরও আমার দোকান ঝুঁকিতে রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা ইকবাল হোসেন তালুকদার বলেন, এই নদী ভাঙনের কারণে কয়েক মাস পরপর দোকানপাট সরিয়ে নিতে হচ্ছে। নদীতে পাইলিং করে বালুর বস্তা ফেলেও নদীভাঙন রোধ করা যাচ্ছে না। এখানে টেকসই নদী রক্ষা বাঁধ নির্মাণ ও নদী শাসনের জন্য কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে নদীভাঙন ঠেকানো সম্ভব হবে না। বিলীনের পথে পূর্ব আমড়াঝুড়ি বাজার মসজিদের ইমাম গাজী মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, নদী ভাঙ্গনের কবলে পড়ে আমাদের মসজিদের একাংশ নদীতে বিলীন হয়ে গিয়েছে। ছয় মাস আগেও মসজিদে নামাজ পড়া যেত কিন্তু হঠাৎ মসজিদের সামনের দেয়াল ভেঙে নদীতে বিলীন হয়ে যায়। আগে চার কাতার নামাজের জায়গা থাকলেও এখন দুই কাতার জায়গায় নামাজ পড়তে হচ্ছে তাও শঙ্কা নিয়ে। আমি কর্তৃপক্ষের কাছে এখানে টেকসই নদী রক্ষা বাঁধ নির্মাণের অনুরোধ করি। পিরোজপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ বিভাগীয় প্রকৌশলী আবু জাফর মো. রাশেদ খান বলেন, ফেরিঘাটের দুই প্রান্তে প্রায় ১৫০০ মিটার স্থায়ী বাঁধের জন্য আমরা স্টাডি করছি এবং বর্তমানে অস্থায়ী ভিক্তিতে প্রায় ৪৭ লাখ টাকা ব্যয়ে বাঁধের কাজ চলমান রয়েছে।
বাংলাস্কুপে/ডেস্ক/এনআইএন