ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানিতে (ডিপিডিসি) বছরের শেষার্ধ্বে হঠাৎ করে শীর্ষ পর্যায়ের বড় ধরনের দপ্তর পুনর্বণ্টন করা হয়েছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংস্থার ভেতরে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। প্রকৌশলীদের অভিযোগ, এই বদলির মধ্য দিয়ে অনেক অদক্ষ প্রকৌশলী গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়িত হয়েছেন। বছরের শেষভাগে এমন সিদ্ধান্ত রীতিমত 'আত্মঘাতী'। এতে করে মাঠপর্যায়ের কাজ, বকেয়া আদায় ও সার্বিক গ্রাহকসেবায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে।
তবে এসব অভিযোগ প্রত্যাখান করা হয়েছে ডিপিডিসির প্রধান কার্যালয়ের তরফে। বলা হয়েছে, ব্যবস্থাপনা পরিচালক সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করেই বদলির অনুমোদন দিয়েছেন। আর এর কারণে গ্রাহকসেবা বা রাজস্ব আদায়ে কোনো প্রভাব পড়বে না।
শনিবার (২৯ নভেম্বর) স্বাক্ষরিত তিনটি পৃথক আদেশে একাধিক তত্ত্বাবধায়ক ও নির্বাহী প্রকৌশলীকে বদলি করা হয়। আগামী বুধবারের (৩ ডিসেম্বর) মধ্যে যোগদান না করলে তা ‘স্ট্যান্ড রিলিজ’হিসেবে গণ্য করা হবে বলে আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।
বদলিকৃত কর্মকর্তারা হলেন- কাজলা ডিভিশনের তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. ফিরোজ কবিরকে (আইডি- ১১২৪৪) বদলি করে সিস্টেম সার্ভিসের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী, সিস্টেম সার্ভিসের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এস এম আব্দুল জাব্বারকে (আইডি- ১১২৪৮) কাজলা ডিভিশনের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।
শীতলক্ষ্যা ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. গোলাম মোর্শেদকে (আইডি- ১১১২০) ধানমন্ডি ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী, ডিস্ট্রিবিউশন প্ল্যানিং নর্থের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসনাতকে (আইডি-১১১৬৮) তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী কনট্রাক্ট ও প্রকিউরমেন্ট দপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী, ওয়ার্কশপের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মিজানুর রহমানকে (আইডি-১১১৮২) ঝিগাতলা ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলীর দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।
ঝিগাতলা ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলীর দায়িত্বে থাকা উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী (এসডি) শামসুজ্জামান মুক্তাদিরকে (আইডি- ২১৫৭৬) নির্বাহী প্রকৌশল গ্রিড সাউথ-২ এ এবং একই সাথে নির্বাহী প্রকৌশলী গ্রিড সাউথ-২ এ দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। নির্বাহী প্রকৌশলী ডিজাইন, পলিসি, এসটিডি এবং ডকুমেন্টের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. তৌহিদুল ইসলাম ভূঁইয়াকে (আইডি- ২১৫০৮) নির্বাহী প্রকৌশল ডিস্ট্রিবিউশন প্রজেক্ট নর্থে এবং নির্বাহী প্রকৌশলী ডিস্ট্রিবিউশন এন্ড প্ল্যানিং নর্থের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। ধানমন্ডির নির্বাহী প্রকৌশলীর অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী এ এইচ এম তারেক তুষারকে (আইডি- ১১৩৫৬) শীতলক্ষ্যা ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী, নির্বাহী প্রকৌশলী গ্রিড সাউথ-২ এর উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মাহাদী হাসান ভূঁইয়াকে (আইডি- ২১৫৯২) ওয়ার্কশপে নির্বাহী প্রকৌশলীর দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।
ডিপিডিসির একাধিক প্রকৌশলী অভিযোগ করেন, বছরের শেষদিকে উচ্চ পর্যায়ে এই ঢালাও বদলি কাজকে গতিশীল না করে আরও ব্যাহত করবে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে গ্রাহকের বকেয়া আদায়েও এর প্রভাব পড়বে। এদিকে সংস্থাটির এইচআর কার্যালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, বছরের শেষে এরকম ঢালাও বদলিতে সংস্থাটিতে ব্যাপক প্রভাব পড়বে।
সংস্থাটির এক প্রধান প্রকৌশলী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ৩৬টি ডিভিশন ও প্রজেক্ট অফিসগুলোতে লোকবলের ব্যাপক সংকট রয়েছে- এ কথা সত্য। প্রধান প্রকৌশলীদের মৌখিক কোনো মতামত না নিয়েই অদক্ষ কর্মকর্তাদের গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়নের কারণে সংস্থার কার্যক্রম ব্যহত হওয়ার শংকা দেখা দিয়েছে। এই ঢালাও বদলির বিষয়টি স্বাভাবিকভাবে দেখছেন না সাধারণ প্রকৌশলীরা। তিনি আরও বলেন, সচরাচর বদলি হয় বছরের মাঝামাঝি সময়ে। তাতে গ্রাহকসেবা ও বকেয়া আদায়ে মাঠ পর্যায়ে প্রকৌশলীরা একটা টার্গেট নিয়ে কাজ করতেন। বছরের শেষভাগে এসে এরকম ঢালাও বদলির আদেশ সংস্থাটিতে ভালো ফল নিয়ে আসবে না।
সেন্ট্রালের বিএনপি-সমর্থিত এক তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ও দুই নির্বাহী প্রকৌশলী ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বাংলা স্কুপকে বলেন, ঝামেলা হয়েছে সাউথ বেল্টের সিদ্ধিরগঞ্জ ডিভিশন নিয়ে। ওই ডিভিশনের প্রকৌশলীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো গুরুত্বপূর্ণ ডিভিশন থেকে যোগ্য লোক বদলি করে অদক্ষ প্রকৌশলী পদায়ন করায় ব্যবস্থাপনা পরিচালকের ভূমিকা নিয়েই এখন প্রশ্ন উঠেছে। যতটুকু জানি, ৩৬টি ডিভিশনের দায়িত্বে থাকা নির্বাহী পরিচালক (অপারেশন) কিউ এম শফিকুল ইসলামের মতামত ছাড়াই তাড়াহুড়ো করে বদলিগুলো করা হয়েছে।
সাউথ বেল্টের এক তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী বলেন, শীতলক্ষ্যা ডিভিশনের দায়িত্বে থাকা নির্বাহী প্রকৌশলী গোলাম মোর্শেদ খুবই দক্ষ একজন কর্মকর্তা। তার বিষয়ে নেতিবাচক কোনো তথ্য প্রধান কার্যালয়ে নেই বলেই জানি। শীতলক্ষ্যা ডিভিশন একটি শিল্পাঞ্চল ডিভিশন এবং রাজস্ব খাতে এই ডিভিশনটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এখানে দক্ষ প্রকৌশলীকে সরিয়ে অদক্ষ ও জুনিয়র একজন প্রকৌশলীকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে কার স্বার্থে- এ বিষয়টিও আপনাদের (গণমাধ্যমের) খতিয়ে দেখা দরকার। তিনি আরো বলেন, সাপ্তাহিক ছুটির দিন শনিবার এই দাপ্তরিক আদেশ অনুমোদন দেয়া হয়। রোববার (৩০ নভেম্বর) সকালে তিনটি আদেশ পৃথকভাবে জারি করা হয়।
ডিপিডিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালকের অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা নূর আহম্মদ একজন দক্ষ আমলা। সংস্থাটির প্রকৌশলীদের কার কী যোগ্যতা- উনি হয়ত ততটা জানেন না। তাঁকে দিয়ে এই কাজগুলো কে অনুমোদন করিয়ে নিলো, এ প্রশ্ন উঠেছে বলে জানান ওই তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী।
এদিকে সংস্থাটির প্রধান কার্যালয়ের আরেকটি সূত্র বলছে, এই তিনটি পৃথক আদেশে বেশ কয়েকজন প্রকৌশলী প্রধান কার্যালয়কে 'ম্যানেজ' করেই প্রাইজ পোস্টিং বাগিয়ে নিয়েছেন।
তবে এই বদলি নিয়ে প্রকৌশলীদের অভিযোগ প্রত্যাখান করেছেন ডিপিডিসির নির্বাহী পরিচালক (অপারেশন) কিউ এম শফিকুল ইসলাম। রোববার দুপুরে তিনি বাংলাস্কুপকে মুঠোফোনে বলেন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক আমাদের সঙ্গে কথা বলেই বদলির আদেশগুলো অনুমোদন করেছেন। অদক্ষ ও জুনিয়রদের পদায়ন করা হয়েছে এমন অভিযোগের জবাবে তিনি বলেন, আমাদের কাছে যাঁরা যোগ্য বলে বিবেচিত হয়েছেন তাঁদেরকেই আমরা পদায়ন করেছি। সময়ের স্বল্পতার কারণে আমরা গতকাল (শনিবার) সাউথ বেল্টের আরো কিছু প্রকৌশলীর বদলির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারিনি। সহসাই বিভিন্ন পর্যায়ে আরো অনেক বদলির আদেশ জারি করা হবে।
বছরের শেষদিকে এই বদলির কারণে মাঠপর্যায়ের গ্রাহকসেবা বা রাজস্ব আদায় ব্যহত হবে বলে মনে করেন না কিউ এম শফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, শুধু সাউথ বেল্ট নয়, সব বেল্টেই বদলি হবে। প্রকৌশলীদের আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই।
বাংলাস্কুপ/প্রতিবেদক/এনআইএন/এসকে
তবে এসব অভিযোগ প্রত্যাখান করা হয়েছে ডিপিডিসির প্রধান কার্যালয়ের তরফে। বলা হয়েছে, ব্যবস্থাপনা পরিচালক সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করেই বদলির অনুমোদন দিয়েছেন। আর এর কারণে গ্রাহকসেবা বা রাজস্ব আদায়ে কোনো প্রভাব পড়বে না।
শনিবার (২৯ নভেম্বর) স্বাক্ষরিত তিনটি পৃথক আদেশে একাধিক তত্ত্বাবধায়ক ও নির্বাহী প্রকৌশলীকে বদলি করা হয়। আগামী বুধবারের (৩ ডিসেম্বর) মধ্যে যোগদান না করলে তা ‘স্ট্যান্ড রিলিজ’হিসেবে গণ্য করা হবে বলে আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।
বদলিকৃত কর্মকর্তারা হলেন- কাজলা ডিভিশনের তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. ফিরোজ কবিরকে (আইডি- ১১২৪৪) বদলি করে সিস্টেম সার্ভিসের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী, সিস্টেম সার্ভিসের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এস এম আব্দুল জাব্বারকে (আইডি- ১১২৪৮) কাজলা ডিভিশনের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।
শীতলক্ষ্যা ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. গোলাম মোর্শেদকে (আইডি- ১১১২০) ধানমন্ডি ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী, ডিস্ট্রিবিউশন প্ল্যানিং নর্থের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসনাতকে (আইডি-১১১৬৮) তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী কনট্রাক্ট ও প্রকিউরমেন্ট দপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী, ওয়ার্কশপের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মিজানুর রহমানকে (আইডি-১১১৮২) ঝিগাতলা ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলীর দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।
ঝিগাতলা ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলীর দায়িত্বে থাকা উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী (এসডি) শামসুজ্জামান মুক্তাদিরকে (আইডি- ২১৫৭৬) নির্বাহী প্রকৌশল গ্রিড সাউথ-২ এ এবং একই সাথে নির্বাহী প্রকৌশলী গ্রিড সাউথ-২ এ দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। নির্বাহী প্রকৌশলী ডিজাইন, পলিসি, এসটিডি এবং ডকুমেন্টের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. তৌহিদুল ইসলাম ভূঁইয়াকে (আইডি- ২১৫০৮) নির্বাহী প্রকৌশল ডিস্ট্রিবিউশন প্রজেক্ট নর্থে এবং নির্বাহী প্রকৌশলী ডিস্ট্রিবিউশন এন্ড প্ল্যানিং নর্থের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। ধানমন্ডির নির্বাহী প্রকৌশলীর অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী এ এইচ এম তারেক তুষারকে (আইডি- ১১৩৫৬) শীতলক্ষ্যা ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী, নির্বাহী প্রকৌশলী গ্রিড সাউথ-২ এর উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মাহাদী হাসান ভূঁইয়াকে (আইডি- ২১৫৯২) ওয়ার্কশপে নির্বাহী প্রকৌশলীর দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।
ডিপিডিসির একাধিক প্রকৌশলী অভিযোগ করেন, বছরের শেষদিকে উচ্চ পর্যায়ে এই ঢালাও বদলি কাজকে গতিশীল না করে আরও ব্যাহত করবে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে গ্রাহকের বকেয়া আদায়েও এর প্রভাব পড়বে। এদিকে সংস্থাটির এইচআর কার্যালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, বছরের শেষে এরকম ঢালাও বদলিতে সংস্থাটিতে ব্যাপক প্রভাব পড়বে।
সংস্থাটির এক প্রধান প্রকৌশলী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ৩৬টি ডিভিশন ও প্রজেক্ট অফিসগুলোতে লোকবলের ব্যাপক সংকট রয়েছে- এ কথা সত্য। প্রধান প্রকৌশলীদের মৌখিক কোনো মতামত না নিয়েই অদক্ষ কর্মকর্তাদের গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়নের কারণে সংস্থার কার্যক্রম ব্যহত হওয়ার শংকা দেখা দিয়েছে। এই ঢালাও বদলির বিষয়টি স্বাভাবিকভাবে দেখছেন না সাধারণ প্রকৌশলীরা। তিনি আরও বলেন, সচরাচর বদলি হয় বছরের মাঝামাঝি সময়ে। তাতে গ্রাহকসেবা ও বকেয়া আদায়ে মাঠ পর্যায়ে প্রকৌশলীরা একটা টার্গেট নিয়ে কাজ করতেন। বছরের শেষভাগে এসে এরকম ঢালাও বদলির আদেশ সংস্থাটিতে ভালো ফল নিয়ে আসবে না।
সেন্ট্রালের বিএনপি-সমর্থিত এক তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ও দুই নির্বাহী প্রকৌশলী ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বাংলা স্কুপকে বলেন, ঝামেলা হয়েছে সাউথ বেল্টের সিদ্ধিরগঞ্জ ডিভিশন নিয়ে। ওই ডিভিশনের প্রকৌশলীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো গুরুত্বপূর্ণ ডিভিশন থেকে যোগ্য লোক বদলি করে অদক্ষ প্রকৌশলী পদায়ন করায় ব্যবস্থাপনা পরিচালকের ভূমিকা নিয়েই এখন প্রশ্ন উঠেছে। যতটুকু জানি, ৩৬টি ডিভিশনের দায়িত্বে থাকা নির্বাহী পরিচালক (অপারেশন) কিউ এম শফিকুল ইসলামের মতামত ছাড়াই তাড়াহুড়ো করে বদলিগুলো করা হয়েছে।
সাউথ বেল্টের এক তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী বলেন, শীতলক্ষ্যা ডিভিশনের দায়িত্বে থাকা নির্বাহী প্রকৌশলী গোলাম মোর্শেদ খুবই দক্ষ একজন কর্মকর্তা। তার বিষয়ে নেতিবাচক কোনো তথ্য প্রধান কার্যালয়ে নেই বলেই জানি। শীতলক্ষ্যা ডিভিশন একটি শিল্পাঞ্চল ডিভিশন এবং রাজস্ব খাতে এই ডিভিশনটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এখানে দক্ষ প্রকৌশলীকে সরিয়ে অদক্ষ ও জুনিয়র একজন প্রকৌশলীকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে কার স্বার্থে- এ বিষয়টিও আপনাদের (গণমাধ্যমের) খতিয়ে দেখা দরকার। তিনি আরো বলেন, সাপ্তাহিক ছুটির দিন শনিবার এই দাপ্তরিক আদেশ অনুমোদন দেয়া হয়। রোববার (৩০ নভেম্বর) সকালে তিনটি আদেশ পৃথকভাবে জারি করা হয়।
ডিপিডিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালকের অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা নূর আহম্মদ একজন দক্ষ আমলা। সংস্থাটির প্রকৌশলীদের কার কী যোগ্যতা- উনি হয়ত ততটা জানেন না। তাঁকে দিয়ে এই কাজগুলো কে অনুমোদন করিয়ে নিলো, এ প্রশ্ন উঠেছে বলে জানান ওই তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী।
এদিকে সংস্থাটির প্রধান কার্যালয়ের আরেকটি সূত্র বলছে, এই তিনটি পৃথক আদেশে বেশ কয়েকজন প্রকৌশলী প্রধান কার্যালয়কে 'ম্যানেজ' করেই প্রাইজ পোস্টিং বাগিয়ে নিয়েছেন।
তবে এই বদলি নিয়ে প্রকৌশলীদের অভিযোগ প্রত্যাখান করেছেন ডিপিডিসির নির্বাহী পরিচালক (অপারেশন) কিউ এম শফিকুল ইসলাম। রোববার দুপুরে তিনি বাংলাস্কুপকে মুঠোফোনে বলেন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক আমাদের সঙ্গে কথা বলেই বদলির আদেশগুলো অনুমোদন করেছেন। অদক্ষ ও জুনিয়রদের পদায়ন করা হয়েছে এমন অভিযোগের জবাবে তিনি বলেন, আমাদের কাছে যাঁরা যোগ্য বলে বিবেচিত হয়েছেন তাঁদেরকেই আমরা পদায়ন করেছি। সময়ের স্বল্পতার কারণে আমরা গতকাল (শনিবার) সাউথ বেল্টের আরো কিছু প্রকৌশলীর বদলির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারিনি। সহসাই বিভিন্ন পর্যায়ে আরো অনেক বদলির আদেশ জারি করা হবে।
বছরের শেষদিকে এই বদলির কারণে মাঠপর্যায়ের গ্রাহকসেবা বা রাজস্ব আদায় ব্যহত হবে বলে মনে করেন না কিউ এম শফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, শুধু সাউথ বেল্ট নয়, সব বেল্টেই বদলি হবে। প্রকৌশলীদের আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই।
বাংলাস্কুপ/প্রতিবেদক/এনআইএন/এসকে