​গোলাম রব্বানীকে পদোন্নতি দিতে ডেসকোতে তুঘলকি কাণ্ড!

আপলোড সময় : ২৩-১১-২০২৫ ০৭:১৩:৩৬ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ২৩-১১-২০২৫ ০৮:২৬:০২ অপরাহ্ন
ঢাকা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানির (ডেসকো) প্রধান প্রকৌশলী পদে সংস্থাটির তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী গোলাম রাব্বানিকে পদোন্নতি দিতে নজিরবিহীন তোড়জোড় চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে অসন্তোষ বিরাজ করছে সংস্থাটির প্রকৌশলীদের মাঝে। 

প্রকৌশলীদের অভিযোগ, গোলাম রাব্বানির ডেসকোতে যোগদান থেকে শুরু করে প্রতিটি পদোন্নতি ছিল প্রশ্নবিদ্ধ। বর্তমানে তিনি যে  প্রধান প্রকৌশলীর (প্রকিউরমেন্ট) অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন, তাও বাগিয়ে নিয়েছেন বেশ কয়েকজন সিনিয়র তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীকে ডিঙ্গিয়ে। বোর্ড চেয়ারম্যান মুহাম্মদ রফিকুল ইসলামের সঙ্গে 'ব্যক্তিগত সম্পর্ক' ব্যবহার করে এ কাণ্ড করা হয়েছে। আর এই বোর্ড চেয়ারম্যানই নতুন চেয়ারম্যান ড. মো. সানোয়ার জাহান ভূঁইয়ার কাছে দায়িত্ব হস্তান্তরের আগেই তড়িঘড়ি করে প্রধান প্রকৌশলীসহ কয়েক পদে পদোন্নতি দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছেন। 

নথিপত্র ও ডেসকো সূত্রে জানা যায়, গোলাম রাব্বানি ডেসকোতে যোগ দেন ২০০৩ সালে। সেই সময় তার নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন উঠলে বিদ্যুৎ বিভাগের নির্দেশে ডেসকো বোর্ড তদন্ত কমিটি গঠন করে। সেই কমিটির প্রতিবেদনে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় তৎকালীন ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষকে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার জন্য নির্দেশনা দেয়া হয়। কিন্তু গোলাম রাব্বানি তা 'ম্যানেজ' করে ফেলেন। জানা যায়, ২০০৭ সালে অন্তত ১৫ জন সিনিয়র কর্মকর্তাকে ডিঙিয়ে তিনি পদোন্নতিও বাগিয়ে নিতে সক্ষম হন। 

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরে গোলাম রাব্বানি অধিক ক্ষমতাশালী ব্যক্তি হয়ে যান। তিনি নিজেকে বঞ্চিত কর্মকর্তা হিসাবে উপস্থাপন করে তিন মাসের মধ্যে নির্বাহী প্রকৌশলী থেকে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী পদে পদোন্নতি বাগিয়ে নেন। ডেসকোর প্রকৌশলীরা বলছেন, ৫ আগস্টের পর রাব্বানিই একমাত্র ব্যক্তি যিনি পদোন্নতি পেয়েছেন। আর এই পদোন্নতি পেয়েই তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী কামরুজ্জামানকে প্রধান প্রকৌশলীর অতিরিক্ত দায়িত্ব থেকে সরিয়ে সেই পদে বসেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগ রয়েছে, বোর্ড চেয়ারম্যান মুহাম্মদ রফিকুল ইসলামের সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্ক রয়েছে রাব্বানির। যার বদৌলতে বিধিবহির্ভুত এসব কর্মকাণ্ড করা সম্ভব হয়েছে। এছাড়াও বোর্ড চেয়ারম্যান ও নির্বাহী পরিচালকের (এইচ আর) মাধ্যমে মিথ্যা তথ্য -উপাত্ত উপস্থাপন করে  ২০১৮ সাল থেকে ভুতাপেক্ষ সিনিয়রিটি নিয়েছেন, যা সম্প্রতি অনুমোদন করা হয়েছে বলে সূত্র জানায়।

তবে গোলাম রাব্বানির বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে অভিযোগ পেয়ে তদন্তে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুদক সূত্র জানায়, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে গোলাম রব্বানীর বিরুদ্ধে যোগ্যতা না থাকা সত্তেও ডেসকোতে আবেদন করা ও নিয়োগ লাভ করে অবৈধভাবে ৮ কোটি টাকা সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে।

এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে গত ২২ মে গোলাম রাব্বানির নিয়োগসংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য এবং ব্যক্তিগত নথির (জাতীয় পরিচয়পত্র, মোবাইল নম্বর, পাসপোর্ট নম্বর, টিন নম্বর, স্ত্রী-সন্তানের তথ্যাদিসহ তৎসংশ্লিষ্ট রেকর্ডপত্র) সত্যায়িত অনুলিপি চেয়ে ডেসকোকে চিঠি দেয় দুদক। দুদক বলছে, ডেসকোর বেশকিছু কর্মকতার অনিয়ম-দুর্নীতি নিয়ে তদন্ত চলমান রয়েছে। 

ডেসকোর অপর এক সূত্র জানায়, গত ৫ নভেম্বর ৫১৭তম বোর্ড সভায় পদোন্নতির বিষয় উপস্থাপন করা হয়। ১২ নভেম্বর ৫১৮তম বোর্ড সভায় তা অনুমোদন হয়। আগামী ২৫ নভেম্বর পদোন্নতির পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। 

সূত্র আরো জানায়, মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম আগেই বুঝতে পেরেছিলেন তাঁকে বোর্ড চেয়ারম্যানের পদ থেকে সরিয়ে দেয়া হবে। তাই তড়িঘড়ি করে পদোন্নতির বিষয়গুলো সামনে এনে কাজ দ্রুত সমাপ্ত করতে চাচ্ছেন। আর এই তুঘলকি কাণ্ডে সংস্থাটিতে বিভিন্ন রকমের প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। 

এদিকে, গত ১৩ নভেম্বর ডেসকোর পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন করে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মো. সানোয়ার জাহান ভূঁইয়াকে পর্ষদের চেয়ারম্যান নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে বিদ্যুৎ বিভাগ। এরপরই বিদায়ী চেয়ারম্যান মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম তড়িঘড়ি করে বিভিন্ন পদে পদোন্নতি দেওয়ার ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য এইচআর দপ্তরপ্রধানকে নির্দেশনা প্রদান করেন। 

অভিযোগের বিষয়ে গোলাম রাব্বানি রোববার (২৩ নভেম্বর) মুঠোফোনে বলেন, পদোন্নতির পরীক্ষার বিষয়ে আমি কোন চিঠি পাইনি। অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, চলতি বছর দুর্নীতি দমন কমিশন আমার বিষয়ে তথ্য চেয়েছে কি না, তা আমার জানা নেই।

ডেসকোর বোর্ড চেয়ারম্যান মুহাম্মদ রফিকুল ইসলামকে রোববার (২৩ নভেম্বর) সন্ধ্যায় অভিযোগের বিষয়ে জানতে মুঠোফোনে কল দেয়া হলে তিনি সংযোগ কেটে দেন।

বাংলা স্কুপ/প্রতিবেদক/একেএস/এসকে

সম্পাদক ও প্রকাশক :

মোঃ কামাল হোসেন

অফিস :

অফিস : ৬/২২, ইস্টার্ণ প্লাাজা (৬ তলা), কমার্শিয়াল কমপ্লেক্স, হাতিরপুল, ঢাকা।

ইমেইল :