​পাখির অভয়ারণ্য কানাইপুকুর গ্রাম

আপলোড সময় : ১৯-১০-২০২৫ ০৪:৩০:৫৩ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ১৯-১০-২০২৫ ০৪:৩০:৫৩ অপরাহ্ন
জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার কানাইপুকুর গ্রামের একটি পুকুর পাড়ের গাছে বাসা বেঁধেছে হাজার হাজার বিরল প্রজাতির পাখি। নিরাপদ আশ্রয় পেয়ে প্রায় দুই দশক ধরে পাখিগুলো এখানে বসবাস করছে। সকালে এসব পাখির কিচিরমিচির শব্দে ঘুম ভাঙে স্থানীয়দের। গ্রামটি রীতিমতো পরিচিতি পেয়েছে ‘পাখির গ্রাম’ হিসেবে। যা দেখতে আসেন বিভিন্ন এলাকার মানুষ।

জানা গেছে, জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার আলমপুর ইউনিয়নের কানাইপুকুর গ্রামের বাসিন্দা জাহাঙ্গীর আলমের বাড়ির পাশে রয়েছে একটি পুকুর। সেই পুকুরের চারপাশে প্রায় ৫ বিঘা জমির ওপর বট, পাইকর, নিম, তেঁতুল, আম, বাঁশঝাড়সহ বিভিন্ন গাছ রয়েছে। একটা সময় এসব গাছে রাতচোরা পাখি বাসা বেঁধেছিল। এরপর সাদা বকের পর ধীরে ধীরে সেখানে রাজত্ব চলে আসে শামুকখোল পাখির দখলে। প্রায় দুই দশক ধরে স্থানটি শামুকখোল পাখির স্থায়ী অভয়াশ্রমে পরিণত হয়েছে। এই শামুকখোল পাখিগুলো গাছের মগডালগুলোতে নিজেদের খেয়ালে বাসা বেঁধে আসছে। এছাড়াও এখানে রয়েছে বক, কানাবক, শঙ্খচোরা, পানকৌড়ি ও হরিয়াল। তবে এর মধ্যে শামুকখোল রয়েছে সবচেয়ে বেশি। পাখির কিচিরমিচির ডাকে গ্রামটি সব সময় মুখরিত থাকে। তাই স্থানীয়রা পাখিদের নিজের সন্তানের মতো লালন করেন। অন্যদিকে গাছে গাছে পাখিরা ডিম থেকে বাচ্চা প্রজনন করছে।

জয়পুরহাট শহরের পাচুরচক এলাকার রাতুল হাসান বলেন, ‘একসাথে এত পাখি অন্য কোথাও দেখা যায় না। এখানে হাজার হাজার পাখি দেখলাম। দেখে মনটা ভরে গেল। ছবি তুললাম।’ সদরের পশ্চিম দেবীপুর গ্রামের আশিক হোসেন বলেন, ‘শামুকখোল পাখি এখন আর তেমন কোথাও দেখা যায় না। এখানে পাখি কলোনির কথা শুনে দেখতে এসেছি। কাছ থেকে এত পাখি দেখলাম, খুব ভালো লাগছে। কেউ তাদের বিরক্ত করে না। সরকারের উচিত পাখিগুলোকে সংরক্ষণের জন্য উদ্যোগ নেওয়া।’

কানাইপুকুর গ্রামের শিক্ষার্থী তানজিম আহমেদ তামিম বলেন, ‘পাখিগুলো আমাদের গ্রামকে মুখরিত করে রাখে। আমরা সজাগ থাকি যাতে কেউ পাখিগুলোর ক্ষতি করতে না পারে। এপ্রিল মাসের দিকে পাখিগুলো এখানে এসে গাছে গাছে বাসা বাঁধে। এরপর জুন মাসের দিকে ডিম থেকে বাচ্চা ফোটায়। সেই বাচ্চাগুলো বড় হয়ে উড়তে শিখলে ধীরে ধীরে শীতের আগমনে এখান থেকে পাখিগুলো অন্যত্র চলে যায়। পাখিগুলো চলে গেলে আমাদের অনেক খারাপ লাগে।’

এই পাখি কলোনির পৃষ্ঠপোষক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘এই পাখিগুলো এখানে প্রায় ২০ বছর ধরে বাস করে আসছে। এরা সাধারণত এপ্রিল থেকে অক্টোবর মাস পর্যন্ত এখানে অবস্থান করে। পাখিগুলোকে কেউ কখনো বিরক্ত করে না। এজন্য এরা এখানে নিরাপদে ও নির্বিঘ্নে বাসা বাঁধতে পারে। আমরা পারিবারিকভাবে এই পাখি কলোনি দেখাশোনা করি। এই পাখিগুলো সাধারণত সব জায়গায় বাসা বাঁধে না, এরা আমাদের এখানে বাসা বেঁধেছে, এটা আমাদেরও একটা গর্বের বিষয়। আমার ভালো লাগা কাজ করে।’

বাংলাদেশ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি মহসিনা বেগম জানান, ‘শামুকখোল পাখি বাংলাদেশে আসে প্রজননের উদ্দেশ্যে। বাচ্চা বড় হয়ে উড়তে শিখলে তারা চলে যায় রাশিয়ার সাইবেরিয়ান অঞ্চলের দিকে। এরা সাধারণত কলোনিয়ালভাবে বাস করে। নিরাপদ আশ্রয় ও পরিমিত খাবার পেলে এরা অনেক দিন থেকে যায়। সরকারের সহযোগিতা পেলে এটি পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।’

ক্ষেতলাল উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. পলাশ চন্দ্র রায় বলেন, ‘আমি পাখি কলোনিটি পরিদর্শন করেছি। পাখিগুলো যদি অসুস্থ হয় বা চিকিৎসা-পরামর্শের প্রয়োজন হয়, তাহলে আমরা সহযোগিতা করব।’
 
বাংলাস্কুপ/প্রতিনিধি/এনআইএন/এসকে

সম্পাদক ও প্রকাশক :

মোঃ কামাল হোসেন

অফিস :

অফিস : ৬/২২, ইস্টার্ণ প্লাাজা (৬ তলা), কমার্শিয়াল কমপ্লেক্স, হাতিরপুল, ঢাকা।

ইমেইল :