​পৃথিবীর ভৌগলিক গুরুত্বপূর্ণ স্থান ফরিদপুরের এই ফসলি মাঠ

আপলোড সময় : ১৬-১০-২০২৫ ০৩:০৯:৪৬ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ১৬-১০-২০২৫ ০৩:০৯:৪৬ অপরাহ্ন
পৃথিবীর পূর্ব-পশ্চিমে বিস্তৃত তিনটি রেখা- কর্কটক্রান্তি, মকরক্রান্তি ও বিষুবরেখা। একইভাবে উত্তর-দক্ষিণে বিস্তৃত চারটি রেখা আছে- শূন্য ডিগ্রি, ৯০ ডিগ্রি, ১৮০ ডিগ্রি এবং ২৭০ ডিগ্রি দ্রাঘিমা।

চারটি উত্তর-দক্ষিণ রেখা এবং তিনটি পূর্ব-পশ্চিম রেখা পৃথিবীর ১২টি স্থানে ছেদ করেছে। এই ১২টি ছেদ বিন্দুই পৃথিবীর ভৌগলিক গুরুত্বপূর্ণ স্থান। ১২টি বিন্দুর মধ্যে ১০টি পড়েছে সাগর বা মহাসাগরে, তাই মানুষ সেখানে যেতে পারে না। একটি পড়েছে সাহারা মরুভূমিতে, যেখানে মানুষের যাতায়াত নেই। কেবল একটি বিন্দু পড়েছে সমতল ভূমিতে। আর সেই বিন্দুটি পড়েছে ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার নূরুল্লাগঞ্জ ইউনিয়নের ভাঙ্গারদিয়া গ্রামের ফসলি মাঠে। এ কারণেই এই এলাকাটি পৃথিবীর এক গুরুত্বপূর্ণ স্থান।

পৃথিবীর এই ভৌগলিক গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ২০২১ সালে তৎকালীন সরকার একনেক সভায় মানমন্দির নির্মাণ প্রকল্প অনুমোদন দেন। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘর ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মহাকাশ অবলোকন কেন্দ্র স্থাপন’ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছিল ২১৩ কোটি ৩৮ লাখ ৫৬ হাজার টাকা। ২০২৪ সালের জুন মাসের মধ্যে প্রকল্প সম্পন্ন হওয়ার কথা ছিল। তবে গতবছর ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পরে এই উদ্যোগ বাতিল করা হয়।

ফরিদপুরের ভাঙ্গার ছেদ বিন্দু কর্কটক্রান্তি ও ৯০ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমার সংযোগস্থলে মহাকাশ অবলোকন কেন্দ্র স্থাপনের মাধ্যমে জনসাধারণের জন্য মহাকাশ পর্যবেক্ষণের সুযোগ সৃষ্টি করা, মহাকাশ বিজ্ঞানচর্চার প্রসারে উৎসাহ দেওয়া, শিক্ষাবান্ধব বিনোদনের মাধ্যমে বিজ্ঞান শিক্ষায় আগ্রহ বাড়ানো এবং শিক্ষার্থী ও গবেষকদের জন্য মহাকাশ গবেষণার সুযোগ তৈরি করা।

এছাড়া আন্তর্জাতিক অ্যাস্ট্রনমি ও অ্যাস্ট্রোফিজিক্স অলিম্পিয়াডে অংশগ্রহণকারীদের জন্য প্রশিক্ষণ ক্যাম্পের সুযোগ এবং বিভিন্ন ওয়ার্কশপও আয়োজনের পরিকল্পনা ছিল এই প্রকল্পে।

ভূগোল ও পরিবেশবিদ প্রফেসর স্বপন কুমার হালদার বলেন, কর্কটক্রান্তি ও ৯০ ডিগ্রি দ্রাঘিমার ছেদ বিন্দু ফরিদপুরে পড়েছে। এটি আমাদের দেশের জন্য অত্যন্ত গৌরবের বিষয়। এই ছেদ বিন্দুকে ঘিরে সরকারি উদ্যোগে একটি মানমন্দির হওয়া জরুরি। এর ফলে দেশের সম্মান বাড়বে। আমরা যেমন গ্রীনিচ মানমন্দিরের কথা জানি, যা বিশ্ববাসী অত্যন্ত শ্রদ্ধা ও গুরুত্বের সঙ্গে দেখে। আমাদেরও উচিত দল-মত নির্বিশেষে সব কিছুর ঊর্ধ্বে উঠে পৃথিবীর গুরুত্বপূর্ণ ওই স্থানে, যার উত্তরাধিকার কেবল বাংলাদেশের, সেখানে একটি মানমন্দির স্থাপন করা।

মানমন্দির নির্মাণের জন্য ভাঙ্গারদিয়া গ্রামের বিল ধোপডাঙ্গা মৌজায় সোবহান মাতুব্বর, বারেক মাতুব্বর, ইকবাল মাতুব্বর, কুটিপাগলা, জাকির হোসেন, ইউসুফ মাতুব্বর, আজিজুল মাতুব্বর, শাহজাহান শেখ ও মোফাজ্জল হোসেনের প্রায় পাঁচ একর কৃষিজমি মানমন্দির প্রকল্পের জন্য প্রাথমিকভাবে নির্বাচন করা রয়েছে। তাদের মধ্যে প্রকল্পের বিষয়ে আগ্রহ থাকলেও এর বাস্তবায়ন না হওয়ায় তারা হতাশা প্রকাশ করেছেন। দ্রুত এই প্রকল্পটি বাস্তবায়নের দাবি এলাকাবাসীর।

জমির মালিক আজিজুল মাতুব্বর বলেন, প্রথম দিকে যখন এই কাজের আলোচনা শুরু হয় তখন সরকার জমি দিতে বলেছিল। আমরা রাজি হয়েছিলাম এ নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে কয়েকবার কথাও হয়েছে তবে পরে আর কোনো খোঁজ খবর নেয়নি। এখানে অবশ্যই একটি মানমন্দির হওয়া উচিত। এতে আমাদের এলাকার উন্নয়ন হবে, দেশ-বিদেশের লোকজনের সমাগম ঘটবে। আমরা চাই এ গ্রামে মানমন্দির হোক।

জমির মালিক ও স্থানীয় বাসিন্দা জাকির হোসেন বলেন, আমরা তো এটাকে কৃষি জমি হিসেবেই দেখেছি। এখানে যে এমন একটি বিষয় হয়েছে তা আমরা বুঝিই নাই। পরে প্রশাসনের লোকজন এসে আমাদের বলেছিল বিষয়টা। এই বিখ্যাত জায়গার পরিচিতি যাতে সারা দুনিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে, সেজন্য এলাকার সবাই সরকারকে জমি লিখে দিতে রাজি হয়েছিলাম। এখানে মানমন্দির করা হলে আমাদের এলাকার উন্নয়ন হবে তাই আমরা চাই এখানে মানমন্দির হোক।

ফরিদপুরের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও সাংবাদিক প্রফেসর মোহম্মদ শাহজাহান বলেন, ভাঙ্গারদিয়া গ্রামের ফসলি মাঠে পৃথিবীর উত্তর-দক্ষিণ রেখা এবং পূর্ব-পশ্চিম রেখার ছেদ বিন্দু পড়েছে- এ তথ্য প্রথম প্রকাশ্যে আসে বিজ্ঞান লেখক ড. জাফর ইকবালের ‘একটি স্বপ্ন’ শিরোনামের নিবন্ধ থেকে। তিনি বলেন, ফরিদপুরে আন্তর্জাতিক মানের মানমন্দির ও পর্যটন কেন্দ্র নির্মাণ করা হলে কৃষিনির্ভর এ অঞ্চলের মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন হবে, বদলে যাবে অর্থনীতি ও জীবনযাত্রা। ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার হবে সুফল ভোগ করবে সাধারণ মানুষ।

ভাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, ভাঙ্গায় যদি মানমন্দির করা সম্ভব হয় তাহলে ওই অঞ্চলের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বদলে যেতে পারে। এতে ওই এলাকার বাসিন্দাদের জীবনমান উন্নয়নের পাশাপাশি পৃথিবীর অন্যতম বিরল সম্পত্তি মালিক হবে বাংলাদেশ। আমি ওই এলাকায় গিয়ে এলাকার মানুষের মতামত শুনবো। যদি তারা নতুন করে মানমন্দির চায় তাহলে আমি আমার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে এ বিষয়ে লিখব।

বাংলাস্কুপ/প্রতিবেদক/এনআইএন/এসকে

সম্পাদক ও প্রকাশক :

মোঃ কামাল হোসেন

অফিস :

অফিস : ৬/২২, ইস্টার্ণ প্লাাজা (৬ তলা), কমার্শিয়াল কমপ্লেক্স, হাতিরপুল, ঢাকা।

ইমেইল :