কে হতে যাচ্ছেন ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির (ডিপিডিসি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি)- এ নিয়ে বিদ্যুৎ খাত সংশ্লিষ্ট মহলে আগ্রহ এখন চরমে। যাচাই-বাছাই শেষে নির্বাচিত তিন প্রার্থীকে নিয়ে চলছে নানামুখী আলোচনা-সমালোচনা।
এদের মধ্যে চাকরিজীবনের প্রায় পুরোটা সময় বিদেশি প্রতিষ্ঠানে কাজ করা সাব্বির আহমেদের নিয়োগ প্রায় চূড়ান্ত, সূত্রের বরাতে একাধিক গণমাধ্যমে এমন খবর প্রকাশিত হওয়ার পর অসন্তোষ বিরাজ করছে বিদ্যুৎ খাতের প্রকৌশলীদের মাঝে।
তাঁরা বলছেন, এমডি পদের চূড়ান্ত তালিকায় থাকা সাব্বিরের বিদ্যুৎ বিতরণী খাতে কোন অভিজ্ঞতাই নাই। তাঁর কর্মঅভিজ্ঞতা নিয়েও রয়েছে প্রশ্ন। দেশে অসংখ্য যোগ্য, প্রকৃত অভিজ্ঞ প্রকৌশলী থাকার পরেও তাঁকে কেন অগ্রাধিকার দেওয়া হলো, এমন প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা।
ডিপিডিসির এমডি নিয়োগ কমিটির সূত্রমতে, লিখিত, প্রেজেন্টেশন ও মৌখিক পরীক্ষা শেষে যে তিনজন প্রাথীকে নির্বাচিত করা হয়েছে, মেধাতালিকার ক্রমানুসারে প্রথম নামটি মালয়েশিয়াভিত্তিক ইডটকো বাংলাদেশ লিমিটেডের পরিচালক (প্রকৌশল) সাব্বির উদ্দিন আহমেদের। এর পরে রয়েছেন ঢাকা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানির (ডেসকো) সাবেক নির্বাহী পরিচালক অপারেশন (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. শরিফুল ইসলাম ও পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশের প্রধান প্রকৌশলী বি এম মিজানুল হাসান।
সাব্বির উদ্দিন আহমেদের লিংকডইন প্রোফাইল থেকে জানা যায়, তিনি ইডটকোতে কাজ করার আগে কানাডাভিত্তিক অ্যালায়েন্স পাওয়ার, অ্যালাইড ইন্টিগ্রেটর ইনকরপোরেশন, প্রাইমারি ইন্জিনিয়ারিং এনড কনস্ট্রাকশন করপোরেশন, এমেক ফস্টার হুইলার ও এমসিডব্লিউ গ্রুপ অফ কোম্পানিতে কাজ করেছেন। এছাড়াও কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র, সুইডেন, সিঙ্গাপুর ও বাংলাদেশের বিভিন্ন কোম্পানিতে প্রোজেক্ট ম্যানেজার, প্রোজেক্ট ইঞ্জিনিয়ার ও গ্র্যাজুয়েট রিসার্চার হিসেবে ১৬ বছর কাজ করেছেন বলে উল্লেখ করেছেন তিনি।
তবে সাব্বিরের লিংকডইন প্রোফাইল থেকে পরস্পরবিরোধী তথ্য মিলেছে। তিনি ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে ইডটকোতে কাজ করছেন বলে উল্লেখ করেছেন। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেছেন, জানুয়ারি ২০২০ থেকে নভেম্বর ২০২৩ পর্যন্ত (৩ বছর ১১ মাস) কানাডিয়ান বেসরকারি প্রতিষ্ঠান অ্যালায়েন্স পাওয়ার লিমিটেডের প্রেসিডেন্ট ও সিইও ছিলেন। এই হিসেবে সাব্বির ওই ৩ বছর ১১ মাস একই সঙ্গে ইডটকো ও অ্যালায়েন্স পাওয়ারে কাজ করেছেন। বিষয়টি নীতিবহির্ভূত কি না, সে প্রশ্ন উঠছে।
বিদ্যুৎ বিতরণী সংস্থাগুলোর এমডি নিয়োগের নীতিমালায় রয়েছে, একজন প্রার্থীকে কমপক্ষে ৩ বছর উচ্চপদস্থ ব্যবস্থাপনা পদে (প্রধান প্রকৌশলী বা সমমানের এবং তদুর্ধ) কাজ করার অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনমতে, সাব্বির আহমেদ ওই শর্তটি পূরণ করেছেন অ্যালায়েন্স পাওয়ার লিমিটেডে কাজ করার অভিজ্ঞতা দেখিয়েই। এই বাস্তবতায় একই সময়ে অ্যালায়েন্স পাওয়ার ও ইডটকোতে কর্মরত থাকার বিষয়টি নতুন করে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
এদিকে, ডিপিডিসি সূত্র জানায়, সাব্বির আহমেদ কানাডিয়ান নাগরিক। সরকারির চাকরিজীবীদের দ্বৈত নাগরিকত্বের বিষয়টি নিয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো বিধান থাকায় অনেকেই এই সুবিধাটি গ্রহণ করে থাকেন। সূত্র আরো জানায়, ডিপিডিসির সাবেক প্রকৌশলী মনিরুজ্জামান নির্বাহী পরিচালক হতে গিয়ে দ্বৈত নাগরিক (বাংলাদেশ ও নিউজিল্যান্ড) হওয়ায় তাঁকে তৎকালীন সরকার নিয়োগ দেয়নি। সাবেক প্রধান প্রকৌশলী ও জিটুজি প্রকল্পের সাবেক প্রকল্প পরিচালক মাহবুবুর রহমান ডিপিডিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে বিগত সরকারের সময় আবেদন করেও শেষ মুহূর্তে তিনি নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নেননি। মাহবুবের এক ঘনিষ্ঠজন জানান, দ্বৈত নাগরিকত্বের (বাংলাদেশ ও কানাডা) কারণে তাঁর নিয়োগ নাও হতে পারে এই ভেবে তিনি পরীক্ষায় অংশ নেননি।
মেধা তালিকার দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছেন ডেসকোর সাবেক নির্বাহী পরিচালক অপারেশন (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. শরিফুল ইসলাম। বিদ্যুৎ বিতরণ সিস্টেমে ৩৫ বছর কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। তিনি বিএনপি মতাদর্শের প্রকৌশলী হওয়ায় যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও চাকরিজীবনে সময়মত পদোন্নতি পাননি বলে জানা গেছে। আওয়ামী শাসনামলে ডিপিডিসিসহ বেশ কয়েকটি বিদ্যুৎ বিতরণী কোম্পানিতে নির্বাহী পরিচালক পদে নিয়োগ পরীক্ষায় প্রথম-দ্বিতীয় হলেও ভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শের কারণে তাঁকে নিয়োগ দেওয়া হয়নি।
আর তৃতীয় প্রার্থী পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশের প্রধান প্রকৌশলী বি এম মিজানুল হাসানও দেশের বিদ্যুৎ বিতরণী ব্যবস্থা সম্পর্কে ওয়াকিবহাল। তাঁর অভিজ্ঞতা মূলত: বিদ্যুৎ সঞ্চালন সিস্টেমে।
প্রশ্ন উঠেছে- বিদ্যুৎ উৎপাদন, সঞ্চালন বা বিতরণ সংক্রান্ত স্বীকৃত কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে এমন দুই প্রার্থীকে টপকে সাব্বির আহমেদের মত প্রার্থীকে কেন অগ্রাধিকার দেওয়া হলো? আর প্রার্থীদের আবেদন যাচাই-বাছাই করেছেন কারা? তাদের উদ্দেশ্যই বা কী? এসব বিষয় খতিয়ে দেখারও আহ্বান জানিয়েছেন বিদ্যুৎ খাতের প্রকৌশলীরা।
ডিপিডিসির এমডি নিয়োগে ওই তিনজন প্রার্থীর নাম চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য বিদ্যুৎ বিভাগে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান দ্রুতই প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার নিয়ে নিয়োগ চূড়ান্ত করবেন।
তবে বিশ্লেষক ও খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই নিয়োগ নিয়ে স্বতন্ত্র তদন্ত কমিটি গঠন এবং প্রার্থীর অভিজ্ঞতা যাচাই এখন সময়ের দাবি। প্রয়োজনে নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থগিত রেখে মানদণ্ড সংশোধন করে নতুন করে আবেদন আহ্বান করার পরামর্শও দিয়েছেন তাঁরা। না হলে মেধাবী প্রকৌশলীরা দেশের মাটিতে কাজ করার আগ্রহ হারিয়ে ফেলবেন। একে একে পাড়ি জমাবেন বিদেশে, দেশের বিদ্যুৎ খাত হয়ে পড়বে মেধাশূন্য।
ডিপিডিসির এমডি পদের তালিকায় থাকা প্রার্থীদের আবেদন যাচাই-বাছাইয়ের অসঙ্গতির অভিযোগ বিষয়ে বক্তব্য জানতে গত দুই-তিন দিন বাংলা স্কুপের প্রতিবেদক সংস্থাটির অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও নির্বাহী পরিচালকের (প্রশাসন) সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তাঁরা সাড়া দেননি।
বাংলা স্কুপ/প্রতিবেদক.এইচএইচ/এসকে
এমডি পদপ্রার্থী সাব্বির আহমেদকে নিয়ে আলোচনার ঝড়!
কে হচ্ছেন ডিপিডিসির এমডি?
বিদ্যমান মানদণ্ডেই এমডি নিয়োগ!
এমডি নিয়োগের সার্কুলার ঘিরে ডিপিডিসিতে ক্ষোভ
ঝুলে আছে এমডি নিয়োগের মানদণ্ড সংশোধনী!
শীঘ্রই এমডি পদে নিয়োগের মানদণ্ডে সংশোধনী : বিদ্যুৎ উপদেষ্টা
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের নেতৃত্ব দেবেন প্রকৌশলীরাই
এদের মধ্যে চাকরিজীবনের প্রায় পুরোটা সময় বিদেশি প্রতিষ্ঠানে কাজ করা সাব্বির আহমেদের নিয়োগ প্রায় চূড়ান্ত, সূত্রের বরাতে একাধিক গণমাধ্যমে এমন খবর প্রকাশিত হওয়ার পর অসন্তোষ বিরাজ করছে বিদ্যুৎ খাতের প্রকৌশলীদের মাঝে।
তাঁরা বলছেন, এমডি পদের চূড়ান্ত তালিকায় থাকা সাব্বিরের বিদ্যুৎ বিতরণী খাতে কোন অভিজ্ঞতাই নাই। তাঁর কর্মঅভিজ্ঞতা নিয়েও রয়েছে প্রশ্ন। দেশে অসংখ্য যোগ্য, প্রকৃত অভিজ্ঞ প্রকৌশলী থাকার পরেও তাঁকে কেন অগ্রাধিকার দেওয়া হলো, এমন প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা।
ডিপিডিসির এমডি নিয়োগ কমিটির সূত্রমতে, লিখিত, প্রেজেন্টেশন ও মৌখিক পরীক্ষা শেষে যে তিনজন প্রাথীকে নির্বাচিত করা হয়েছে, মেধাতালিকার ক্রমানুসারে প্রথম নামটি মালয়েশিয়াভিত্তিক ইডটকো বাংলাদেশ লিমিটেডের পরিচালক (প্রকৌশল) সাব্বির উদ্দিন আহমেদের। এর পরে রয়েছেন ঢাকা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানির (ডেসকো) সাবেক নির্বাহী পরিচালক অপারেশন (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. শরিফুল ইসলাম ও পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশের প্রধান প্রকৌশলী বি এম মিজানুল হাসান।
সাব্বির উদ্দিন আহমেদের লিংকডইন প্রোফাইল থেকে জানা যায়, তিনি ইডটকোতে কাজ করার আগে কানাডাভিত্তিক অ্যালায়েন্স পাওয়ার, অ্যালাইড ইন্টিগ্রেটর ইনকরপোরেশন, প্রাইমারি ইন্জিনিয়ারিং এনড কনস্ট্রাকশন করপোরেশন, এমেক ফস্টার হুইলার ও এমসিডব্লিউ গ্রুপ অফ কোম্পানিতে কাজ করেছেন। এছাড়াও কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র, সুইডেন, সিঙ্গাপুর ও বাংলাদেশের বিভিন্ন কোম্পানিতে প্রোজেক্ট ম্যানেজার, প্রোজেক্ট ইঞ্জিনিয়ার ও গ্র্যাজুয়েট রিসার্চার হিসেবে ১৬ বছর কাজ করেছেন বলে উল্লেখ করেছেন তিনি।
তবে সাব্বিরের লিংকডইন প্রোফাইল থেকে পরস্পরবিরোধী তথ্য মিলেছে। তিনি ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে ইডটকোতে কাজ করছেন বলে উল্লেখ করেছেন। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেছেন, জানুয়ারি ২০২০ থেকে নভেম্বর ২০২৩ পর্যন্ত (৩ বছর ১১ মাস) কানাডিয়ান বেসরকারি প্রতিষ্ঠান অ্যালায়েন্স পাওয়ার লিমিটেডের প্রেসিডেন্ট ও সিইও ছিলেন। এই হিসেবে সাব্বির ওই ৩ বছর ১১ মাস একই সঙ্গে ইডটকো ও অ্যালায়েন্স পাওয়ারে কাজ করেছেন। বিষয়টি নীতিবহির্ভূত কি না, সে প্রশ্ন উঠছে।
বিদ্যুৎ বিতরণী সংস্থাগুলোর এমডি নিয়োগের নীতিমালায় রয়েছে, একজন প্রার্থীকে কমপক্ষে ৩ বছর উচ্চপদস্থ ব্যবস্থাপনা পদে (প্রধান প্রকৌশলী বা সমমানের এবং তদুর্ধ) কাজ করার অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনমতে, সাব্বির আহমেদ ওই শর্তটি পূরণ করেছেন অ্যালায়েন্স পাওয়ার লিমিটেডে কাজ করার অভিজ্ঞতা দেখিয়েই। এই বাস্তবতায় একই সময়ে অ্যালায়েন্স পাওয়ার ও ইডটকোতে কর্মরত থাকার বিষয়টি নতুন করে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
এদিকে, ডিপিডিসি সূত্র জানায়, সাব্বির আহমেদ কানাডিয়ান নাগরিক। সরকারির চাকরিজীবীদের দ্বৈত নাগরিকত্বের বিষয়টি নিয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো বিধান থাকায় অনেকেই এই সুবিধাটি গ্রহণ করে থাকেন। সূত্র আরো জানায়, ডিপিডিসির সাবেক প্রকৌশলী মনিরুজ্জামান নির্বাহী পরিচালক হতে গিয়ে দ্বৈত নাগরিক (বাংলাদেশ ও নিউজিল্যান্ড) হওয়ায় তাঁকে তৎকালীন সরকার নিয়োগ দেয়নি। সাবেক প্রধান প্রকৌশলী ও জিটুজি প্রকল্পের সাবেক প্রকল্প পরিচালক মাহবুবুর রহমান ডিপিডিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে বিগত সরকারের সময় আবেদন করেও শেষ মুহূর্তে তিনি নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নেননি। মাহবুবের এক ঘনিষ্ঠজন জানান, দ্বৈত নাগরিকত্বের (বাংলাদেশ ও কানাডা) কারণে তাঁর নিয়োগ নাও হতে পারে এই ভেবে তিনি পরীক্ষায় অংশ নেননি।
মেধা তালিকার দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছেন ডেসকোর সাবেক নির্বাহী পরিচালক অপারেশন (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. শরিফুল ইসলাম। বিদ্যুৎ বিতরণ সিস্টেমে ৩৫ বছর কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। তিনি বিএনপি মতাদর্শের প্রকৌশলী হওয়ায় যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও চাকরিজীবনে সময়মত পদোন্নতি পাননি বলে জানা গেছে। আওয়ামী শাসনামলে ডিপিডিসিসহ বেশ কয়েকটি বিদ্যুৎ বিতরণী কোম্পানিতে নির্বাহী পরিচালক পদে নিয়োগ পরীক্ষায় প্রথম-দ্বিতীয় হলেও ভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শের কারণে তাঁকে নিয়োগ দেওয়া হয়নি।
আর তৃতীয় প্রার্থী পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশের প্রধান প্রকৌশলী বি এম মিজানুল হাসানও দেশের বিদ্যুৎ বিতরণী ব্যবস্থা সম্পর্কে ওয়াকিবহাল। তাঁর অভিজ্ঞতা মূলত: বিদ্যুৎ সঞ্চালন সিস্টেমে।
প্রশ্ন উঠেছে- বিদ্যুৎ উৎপাদন, সঞ্চালন বা বিতরণ সংক্রান্ত স্বীকৃত কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে এমন দুই প্রার্থীকে টপকে সাব্বির আহমেদের মত প্রার্থীকে কেন অগ্রাধিকার দেওয়া হলো? আর প্রার্থীদের আবেদন যাচাই-বাছাই করেছেন কারা? তাদের উদ্দেশ্যই বা কী? এসব বিষয় খতিয়ে দেখারও আহ্বান জানিয়েছেন বিদ্যুৎ খাতের প্রকৌশলীরা।
ডিপিডিসির এমডি নিয়োগে ওই তিনজন প্রার্থীর নাম চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য বিদ্যুৎ বিভাগে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান দ্রুতই প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার নিয়ে নিয়োগ চূড়ান্ত করবেন।
তবে বিশ্লেষক ও খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই নিয়োগ নিয়ে স্বতন্ত্র তদন্ত কমিটি গঠন এবং প্রার্থীর অভিজ্ঞতা যাচাই এখন সময়ের দাবি। প্রয়োজনে নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থগিত রেখে মানদণ্ড সংশোধন করে নতুন করে আবেদন আহ্বান করার পরামর্শও দিয়েছেন তাঁরা। না হলে মেধাবী প্রকৌশলীরা দেশের মাটিতে কাজ করার আগ্রহ হারিয়ে ফেলবেন। একে একে পাড়ি জমাবেন বিদেশে, দেশের বিদ্যুৎ খাত হয়ে পড়বে মেধাশূন্য।
ডিপিডিসির এমডি পদের তালিকায় থাকা প্রার্থীদের আবেদন যাচাই-বাছাইয়ের অসঙ্গতির অভিযোগ বিষয়ে বক্তব্য জানতে গত দুই-তিন দিন বাংলা স্কুপের প্রতিবেদক সংস্থাটির অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও নির্বাহী পরিচালকের (প্রশাসন) সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তাঁরা সাড়া দেননি।
বাংলা স্কুপ/প্রতিবেদক.এইচএইচ/এসকে
এমডি পদপ্রার্থী সাব্বির আহমেদকে নিয়ে আলোচনার ঝড়!
কে হচ্ছেন ডিপিডিসির এমডি?
বিদ্যমান মানদণ্ডেই এমডি নিয়োগ!
এমডি নিয়োগের সার্কুলার ঘিরে ডিপিডিসিতে ক্ষোভ
ঝুলে আছে এমডি নিয়োগের মানদণ্ড সংশোধনী!
শীঘ্রই এমডি পদে নিয়োগের মানদণ্ডে সংশোধনী : বিদ্যুৎ উপদেষ্টা
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের নেতৃত্ব দেবেন প্রকৌশলীরাই