ডেসকোর নির্বাহী পরিচালক নিয়োগ

চূড়ান্ত তালিকায় এগিয়ে আওয়ামী সুবিধাভোগীরা!

আপলোড সময় : ১৬-০৮-২০২৫ ০৩:১৪:৪৬ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ১৭-০৮-২০২৫ ১২:০৯:১৪ অপরাহ্ন
ঢাকা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানির (ডেসকো) নির্বাহী পরিচালক (অপারেশন) পদে নিয়োগের জন্য বিদ্যুৎ বিভাগে পাঠানো চূড়ান্ত তালিকায় বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের মদদপুষ্টরা স্থান পেয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে ডেসকো কর্তৃপক্ষ বলছে, মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতেই তালিকা চূড়ান্ত করে বিদ্যুৎ বিভাগে অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে। এখানে প্রার্থীদের রাজনৈতিক পরিচয় বা সংশ্লিষ্টতা সংক্রান্ত কোনো তথ্য তাদের জানা নেই।

জানা যায়, নিয়োগ কমিটি গত ৯ আগস্ট লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা শেষে ছয়জনের মেধাতালিকার শীর্ষে থাকা তিন প্রার্থীর নাম ডেসকোর বোর্ডসভায় উপস্থাপন করে। বোর্ডের সুপারিশে তিনজনের নাম বিদ্যুৎ বিভাগে পাঠানো হয়েছে। এদের মধ্য থেকেই একজনকে ওই পদে প্রাথমিকভাবে ৩ (তিন) বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেয়া হবে।

নির্বাহী পরিচালক (অপারেশন) পদে নিয়োগের জন্য বিদ্যুৎ বিভাগে পাঠানো তালিকার প্রথমে রয়েছেন প্রকৌশলী মো. রাশিদুর রহমান। দ্বিতীয় অবস্থানে প্রকৌশলী মো. মনিরুল ইসলাম ও তৃতীয় অবস্থানে রয়েছেন প্রকৌশলী মির্জা আবু নাসের।

প্রকৌশলী মো. রাশিদুর রহমান ও প্রকৌশলী মির্জা আবু নাসের বর্তমানে ডেসকোতে কর্মরত রয়েছেন। রাশিদুর রহমান প্রধান প্রকৌশলী এস এন্ড ডি অপারেশন (সাউথ জোন ও সেন্ট্রাল জোন) এবং মির্জা আবু নাসের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (রূপনগর সার্কেল) পদে দায়িত্ব পালন করছেন। ডেসকো সূত্র বলছে, এই দুই কর্মকর্তাই বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সুবিধাভোগী ছিলেন।

জানা যায়, মো. রশিদুর রহমান প্রথম জীবনে চাকরি করতেন একটি কনসালটেন্সি ফার্মের আওতায় পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিতে। পরবর্তীতে পল্লী বিদ্যুৎ বোর্ডে কর্মরত তার এক আত্মীয়র সুপারিশে ২০০১ সালে ডেসকোতে সিএসও পদে যোগদান করেন। বিএনপির শাসনামলে নিয়োগ পেলেও তিনি আগে থেকেই আওয়ামী মতাদর্শের মানুষ ছিলেন। অধীনস্ত কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং গ্রাহকের সঙ্গে তিনি রীতিমত দুর্ব্যবহার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। 

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মো. রশিদুর রহমান । বাংলা স্কুপকে তিনি বলেছেন, কোনো রাজনৈতিক পরিচয়ে নয়, মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতেই আমি ডেসকোতে চাকরি করছি। আমার বিরুদ্ধে যা শুনেছেন, তা সবই অপপ্রচার।

তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা প্রকৌশলী মো. মনিরুল ইসলাম কাজ করতেন কোল পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানির  প্রধান প্রকৌশলী (প্ল্যানিং এন্ড ডিজাইন) পদে। তাঁকে ২০২৩ সালে চাকরির চুক্তি না বাড়িয়ে মাত্র ৪৯ বছর বয়সে কোম্পানি থেকে বিদায় করে দেওয়া হয়। জানা যায়, আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল মোতালিব এবং নির্বাহী পরিচালক (প্রকল্প) আবুল কালাম আজাদের সিন্ডিকেটের কাছে তিনি জিম্মি হয়ে পড়েন। ঐ সিন্ডিকেট ভুয়া প্রকল্প ও প্রকল্পের অতিরিক্ত ব্যয় দেখিয়ে বিভিন্ন অনিয়ম করতে গেলে তাতে বাধা দেন মনিরুল ইসলাম। যার কারণে তার চাকরির চুক্তি আর বাড়ানো হয়নি। এ বিষয়ে মনিরুল ইসলাম বাংলা স্কুপকে বলেন, ২০২৩ সালে আমার প্রতি অন্যায় আচরণ করা হয়েছে। আমি দুর্নীতিতে বাধা দেয়ায় সিন্ডিকেটের রোষাণলে পড়লে আমার চুক্তি আর বাড়ানো হয়নি।

তালিকার তৃতীয় প্রার্থী প্রকৌশলী মির্জা আবু নাসের প্রথম জীবনে চাকরি করতেন পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিতে। তিনি ২০০১ সালের ২৩ জানুয়ারি ডেসকোতে অফিসার পদে যোগদান করেন। ২০০৬ সালে তিনি পদোন্নতি পেয়ে ডেপুটি ম্যানেজার (বর্তমান উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী) হন এবং ২০১১ সালে তিনি নির্বাহী প্রকৌশলী পদে পদোন্নতি লাভ করেন। সূত্র জানায়, ডেপুটি ম্যানেজার থাকাকালীন সিনিয়িরটি লিস্টে তাঁর অবস্থান ছিল নবম। কিন্তু নির্বাহী প্রকৌশলী পদে পদোন্নতি প্রদানের সময় একটি বিশেষ মহলের সুপারিশে সিনিয়িরটি লিস্ট পরিবর্তন করে তার অবস্থান দ্বিতীয়তে উন্নীত করা হয়। পরবর্তী ২০১৮ সালে তিনি তৎকালীন সরকারের প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজমের সুপারিশে নির্বাহী প্রকৌশলী থেকে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী পদে পদোন্নতি লাভ করেন। 

জানতে চাইলে মির্জা আবু নাসের বাংলা স্কুপের প্রতিবেদককে বলেন, তৎকালীন প্রতিমন্ত্রীর সুপারিশে আমার পদোন্নতি হয়নি। তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত নন বলেও দাবি করেন।

ডেসকোর পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান ও পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ কর্তৃপক্ষের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সচিব) মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম শনিবার (১৬ আগস্ট) বাংলা স্কুপকে বলেন, লিখিত পরীক্ষা, প্রেজেন্টেশন ও মৌখিক পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতেই নিয়োগ কমিটি ও ডেসকো বোর্ড  প্রার্থীদের তিনজনের নাম সুপারিশ করেছে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিবেন বিদ্যুৎ বিভাগের উপদেষ্টা মহোদয়। 

অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রার্থীদের কারো বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ সরকারের রাজনৈতিক কোন যোগসূত্র আছে কি না- তা আমাদের জানা নেই। আমরা মেধা ও যোগ্যতার মাপকাঠিতেই প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করে অনুমোদনের জন্য বিদ্যুৎ বিভাগে পাঠিয়েছি।

বাংলা স্কুপ/প্রতিবেদক/এইচবি/এনআইএন/এসকে

বহাল তবিয়তে দুর্নীতিবাজরা, বিদ্যুৎ উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা
 

সম্পাদক ও প্রকাশক :

মোঃ কামাল হোসেন

অফিস :

অফিস : ৬/২২, ইস্টার্ণ প্লাাজা (৬ তলা), কমার্শিয়াল কমপ্লেক্স, হাতিরপুল, ঢাকা।

ইমেইল :