সড়কে থাকা ম্যানহোল যেন মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। ঢাকনাবিহীন ম্যানহোল কিংবা ভঙ্গুর ঢাকনায় প্রায় ঘটছে দুর্ঘটনা। বিশেষ করে ঢাকনাবিহীন ম্যানহোলে পড়ে দিন দিন মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে। রাজধানীসহ সারাদেশে খোলা ম্যানহোলে পড়ে গত পাঁচ বছরে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ২৯ জন। এদের ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে ঢাকার উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায়। এখন খোলা ম্যানহোল আর পথচারীদের নিরাপত্তা নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন।
গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, গত ৫ আগস্ট রাতে রাজশাহী কলেজ হোস্টেলের সামনের ফুটপাতের খোলা ম্যানহোলে পড়ে গুরুতর আহত হন কলেজটির উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ইয়াসির আরাফাত। গত ২৭ জুলাই গাজীপুরের টঙ্গীতে ঢাকা ইম্পেরিয়াল হাসপাতালের সামনে বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে থাকা ঢাকনাবিহীন ম্যানহোলে পড়ে প্রাণ হারিয়েছেন ফারিয়া তাসনিম জ্যোতি নামের এক নারী। মা-হারা হয়েছে তার দুই সন্তান। ২০২২ সালের দিকে রাজধানীর গুলশানে ঢাকনাবিহীন ম্যানহোলে পড়ে আহত হন ঢাকায় নিযুক্ত জার্মানির উপরাষ্ট্রদূত জা জেনোস্কি। ওই বছরের ২১ নভেম্বর হুইলচেয়ারে বসা নিজের জখম পায়ের ছবি দিয়ে টুইট করেন তিনি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজধানীর সিটি করপোরেশন ও ওয়াসার ম্যানহোল রয়েছে ৭৪ হাজার ৩৩৩টি। এর মধ্যে দশ শতাংশের ঢাকনা নেই। বর্ষা মৌসুমে মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয় প্রতিটি খোলা ম্যানহোল। মিরপুর, মোহাম্মদপুর, খিলগাঁও, বাসাবো, পুরাণ ঢাকাসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় দেখা যায় এসব খোলা ম্যানহোল। যেখানে চলাচল হাজারো মানুষের। স্থানীয়দের দাবি, কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় বলি হচ্ছে সাধারণ মানুষ। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জাহরুল ইসলাম বলেন, ম্যানহোলের ঢাকনা প্রায় চুরি হয়ে যায়। তাই এর বিকল্প নিয়ে আমরা ভাবছি। পরিবেশবান্ধব ঢাকনা তৈরি পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। লোড ক্যাপাসিটি পরীক্ষা করা হচ্ছে। সফল হলে শিগগির ব্যবহার করা হবে।’ ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী মো. মঈন উদ্দিন বলেন, ‘ম্যানহোল নিয়ে জনগণকেও সচেতন হতে হবে। ছোট্ট একটা চুরির জন্য অনেক বড় দুর্ঘটনা ঘটে যাচ্ছে। এমনকি জীবন পর্যন্ত চলে যাচ্ছে। তাই লোহার ঢাকানা বাদ দিয়ে গুনগত মানসম্পন্ন প্লাস্টিকের ঢাকনা উৎপাদন কিংবা আমদানি করতে পারি, তাহলে চুরি ঠেকানোর পাশাপাশি দুর্ঘটনাও কমে আসবে।’ বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের সাধারণ সম্পাদক শেখ মুহাম্মদ মেহেদী হাসান বলেন, ‘সরকারের উচিত আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে এই সংকট নিরসন করা। সেন্সরযুক্ত ম্যানহোল ঢাকনা ও ডিজিটাল মনিটরিং ব্যবস্থা নিলে এ ধরনের দুর্ঘটনা অনেকাংশে প্রতিরোধ করা সম্ভব।’
বাংলাস্কুপ/ডেস্ক/এনআইএন
গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, গত ৫ আগস্ট রাতে রাজশাহী কলেজ হোস্টেলের সামনের ফুটপাতের খোলা ম্যানহোলে পড়ে গুরুতর আহত হন কলেজটির উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ইয়াসির আরাফাত। গত ২৭ জুলাই গাজীপুরের টঙ্গীতে ঢাকা ইম্পেরিয়াল হাসপাতালের সামনে বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে থাকা ঢাকনাবিহীন ম্যানহোলে পড়ে প্রাণ হারিয়েছেন ফারিয়া তাসনিম জ্যোতি নামের এক নারী। মা-হারা হয়েছে তার দুই সন্তান। ২০২২ সালের দিকে রাজধানীর গুলশানে ঢাকনাবিহীন ম্যানহোলে পড়ে আহত হন ঢাকায় নিযুক্ত জার্মানির উপরাষ্ট্রদূত জা জেনোস্কি। ওই বছরের ২১ নভেম্বর হুইলচেয়ারে বসা নিজের জখম পায়ের ছবি দিয়ে টুইট করেন তিনি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজধানীর সিটি করপোরেশন ও ওয়াসার ম্যানহোল রয়েছে ৭৪ হাজার ৩৩৩টি। এর মধ্যে দশ শতাংশের ঢাকনা নেই। বর্ষা মৌসুমে মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয় প্রতিটি খোলা ম্যানহোল। মিরপুর, মোহাম্মদপুর, খিলগাঁও, বাসাবো, পুরাণ ঢাকাসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় দেখা যায় এসব খোলা ম্যানহোল। যেখানে চলাচল হাজারো মানুষের। স্থানীয়দের দাবি, কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় বলি হচ্ছে সাধারণ মানুষ। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জাহরুল ইসলাম বলেন, ম্যানহোলের ঢাকনা প্রায় চুরি হয়ে যায়। তাই এর বিকল্প নিয়ে আমরা ভাবছি। পরিবেশবান্ধব ঢাকনা তৈরি পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। লোড ক্যাপাসিটি পরীক্ষা করা হচ্ছে। সফল হলে শিগগির ব্যবহার করা হবে।’ ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী মো. মঈন উদ্দিন বলেন, ‘ম্যানহোল নিয়ে জনগণকেও সচেতন হতে হবে। ছোট্ট একটা চুরির জন্য অনেক বড় দুর্ঘটনা ঘটে যাচ্ছে। এমনকি জীবন পর্যন্ত চলে যাচ্ছে। তাই লোহার ঢাকানা বাদ দিয়ে গুনগত মানসম্পন্ন প্লাস্টিকের ঢাকনা উৎপাদন কিংবা আমদানি করতে পারি, তাহলে চুরি ঠেকানোর পাশাপাশি দুর্ঘটনাও কমে আসবে।’ বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের সাধারণ সম্পাদক শেখ মুহাম্মদ মেহেদী হাসান বলেন, ‘সরকারের উচিত আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে এই সংকট নিরসন করা। সেন্সরযুক্ত ম্যানহোল ঢাকনা ও ডিজিটাল মনিটরিং ব্যবস্থা নিলে এ ধরনের দুর্ঘটনা অনেকাংশে প্রতিরোধ করা সম্ভব।’
বাংলাস্কুপ/ডেস্ক/এনআইএন