নূরুল ইসলাম নিরব:
অজ্ঞান পার্টি, মলম পার্টি, পকেটমার চক্র-এসব নাম রাজধানীবাসীর কাছে নতুন নয়। কিন্তু এবার দেখা দিয়েছে এক নতুন কৌশল, যার নাম ‘ধাক্কামারা পার্টি’। এই চক্রের সদস্যরা ভিড়ের মধ্যে হঠাৎ ধাক্কা দিয়ে বিভ্রান্ত করে, আর সেই সুযোগে মুহূর্তের মধ্যে নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার কিংবা মূল্যবান জিনিসপত্র হাতিয়ে নেয়। এমন অভিনব পদ্ধতিতে রাজধানীর জনবহুল এলাকায় দাপিয়ে বেড়াচ্ছে একদল সংঘবদ্ধ চক্র, যার প্রধান চরিত্র নারীরা।
রাজধানীর বসুন্ধরা সিটি শপিংমলে অভিযান চালিয়ে এই চক্রের দুই সক্রিয় নারী সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ‘ধাক্কামারা পার্টি’ নামের মত কার্যক্রমের কৌশল ভিন্ন হলেও লক্ষ্য একই-আপনার কষ্টের উপার্জন হাতিয়ে নেওয়া। তাই ভিড়ের মধ্যে ধাক্কা খাওয়া আর অবহেলার সুযোগ দেবেন না। সতর্ক থাকুন, নিরাপদ থাকুন-এমনটাই জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ সচেতন মহল।
ভুক্তভোগী সাহেদুর রহমান, একজন ব্যাংকার, বাংলা স্কুপকে বলেন, “অফিস শেষে গুলিস্তানে গিয়ে একবার তাদের খপ্পরে পড়েছিলাম। লিফটের সামনে দাঁড়িয়ে হঠাৎ এক নারী ধাক্কা দিল। ভেবেছিলাম ভিড়ের কারণে হয়েছে, কিন্তু কয়েক সেকেন্ড পরে দেখি মানিব্যাগ নেই।”
অন্য এক ভুক্তভোগী ফাহিমা রহমান জানান,“চায়না টাওনের সামনে দুই মেয়ে হাসতে হাসতে আমার পায়ে গুতা মারলো। আমি নিচু হয়ে দেখতে গেলে আমার ব্যাগের চেইন খুলে সব টাকা নিয়ে গেলো। আমি কিছু বুঝে উঠার আগেই তারা ভিড়ের মধ্যে হারিয়ে গেলো। ভাবতেও পারি না নারীরা এমনটা করতে পারে।”
ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান বলেন,“এই চক্র মূলত বড় শপিংমল, মার্কেট বা মেলায় সক্রিয় থাকে। তারা ৩-৫ জনের দলে কাজ করে। একজন ধাক্কা দেয়, আরেকজন টার্গেটের ব্যাগ বা পকেট থেকে জিনিস তুলে নেয়, বাকিরা আড়াল করে বেরিয়ে যায়। নারী চক্র হওয়ায় মানুষের সন্দেহ কম থাকে।”
রাজধানীর অপরাধ পর্যবেক্ষক মিজানুর রহমান বলেন, “অপরাধীরা সবসময় নতুন কৌশল বের করে। ধাক্কামারা পার্টি তারই ধারাবাহিকতা। প্রতিরোধে মানুষের সচেতনতা বাড়ানোই জরুরি। ভিড়ের মধ্যে নিজের ব্যাগ, মানিব্যাগ বা মোবাইল সবসময় হাতের নাগালে রাখা উচিত।”
পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান,“ভিড়ের মধ্যে অপরিচিত কারও ধাক্কা খেলে সঙ্গে সঙ্গে মালামাল চেক করুন। বড় অঙ্কের টাকা বা স্বর্ণালংকার নিয়ে বাইরে বের হলে সতর্ক থাকুন। শপিংমল বা মার্কেটে চেইনওয়ালা ব্যাগ ব্যবহার করুন এবং শরীরের সামনে রাখুন।”
এদিকে রোববার (১০ আগস্ট) ‘ধাক্কামারা পার্টি’র দুই নারী সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) তেজগাঁও থানা পুলিশ। তাদের একজন আন্তঃজেলা পকেটমার চক্রের নেতা। গ্রেপ্তাররা হলেন-যুথি আক্তার শ্রাবন্তী ওরফে যুথি আক্তার জ্যোতি ওরফে লিমা আক্তার (২২) এবং শাহনাজ বেগম (৪২)।
তেজগাঁও থানার বরাত দিয়ে ডিসি তালেবুর রহমান বলেন, “গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা বসুন্ধরা সিটি শপিংমলের ৭ম তলায় লিফটের সামনে এক নারীকে ধাক্কা মেরে তার ভ্যানিটি ব্যাগ থেকে নগদ ৪০ হাজার টাকা চুরি করে। নিরাপত্তা প্রহরীদের সহায়তায় তারা আটক হয়। তাদের সঙ্গে থাকা আরও দুজন পালিয়ে গেছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে চুরির কথা স্বীকার করেছে তারা।”
তেজগাঁও থানা পুলিশ ও নারী পুলিশের সহযোগিতায় যুথি আক্তারের ব্যাগ থেকে এক লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং সোনার টিকলি উদ্ধার করা হয়েছে। এই ঘটনায় মামলা হয়েছে এবং আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
বাংলাস্কুপ/ প্রতিবেদক/ এনআইএন/এসকে
অজ্ঞান পার্টি, মলম পার্টি, পকেটমার চক্র-এসব নাম রাজধানীবাসীর কাছে নতুন নয়। কিন্তু এবার দেখা দিয়েছে এক নতুন কৌশল, যার নাম ‘ধাক্কামারা পার্টি’। এই চক্রের সদস্যরা ভিড়ের মধ্যে হঠাৎ ধাক্কা দিয়ে বিভ্রান্ত করে, আর সেই সুযোগে মুহূর্তের মধ্যে নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার কিংবা মূল্যবান জিনিসপত্র হাতিয়ে নেয়। এমন অভিনব পদ্ধতিতে রাজধানীর জনবহুল এলাকায় দাপিয়ে বেড়াচ্ছে একদল সংঘবদ্ধ চক্র, যার প্রধান চরিত্র নারীরা।
রাজধানীর বসুন্ধরা সিটি শপিংমলে অভিযান চালিয়ে এই চক্রের দুই সক্রিয় নারী সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ‘ধাক্কামারা পার্টি’ নামের মত কার্যক্রমের কৌশল ভিন্ন হলেও লক্ষ্য একই-আপনার কষ্টের উপার্জন হাতিয়ে নেওয়া। তাই ভিড়ের মধ্যে ধাক্কা খাওয়া আর অবহেলার সুযোগ দেবেন না। সতর্ক থাকুন, নিরাপদ থাকুন-এমনটাই জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ সচেতন মহল।
ভুক্তভোগী সাহেদুর রহমান, একজন ব্যাংকার, বাংলা স্কুপকে বলেন, “অফিস শেষে গুলিস্তানে গিয়ে একবার তাদের খপ্পরে পড়েছিলাম। লিফটের সামনে দাঁড়িয়ে হঠাৎ এক নারী ধাক্কা দিল। ভেবেছিলাম ভিড়ের কারণে হয়েছে, কিন্তু কয়েক সেকেন্ড পরে দেখি মানিব্যাগ নেই।”
অন্য এক ভুক্তভোগী ফাহিমা রহমান জানান,“চায়না টাওনের সামনে দুই মেয়ে হাসতে হাসতে আমার পায়ে গুতা মারলো। আমি নিচু হয়ে দেখতে গেলে আমার ব্যাগের চেইন খুলে সব টাকা নিয়ে গেলো। আমি কিছু বুঝে উঠার আগেই তারা ভিড়ের মধ্যে হারিয়ে গেলো। ভাবতেও পারি না নারীরা এমনটা করতে পারে।”
ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান বলেন,“এই চক্র মূলত বড় শপিংমল, মার্কেট বা মেলায় সক্রিয় থাকে। তারা ৩-৫ জনের দলে কাজ করে। একজন ধাক্কা দেয়, আরেকজন টার্গেটের ব্যাগ বা পকেট থেকে জিনিস তুলে নেয়, বাকিরা আড়াল করে বেরিয়ে যায়। নারী চক্র হওয়ায় মানুষের সন্দেহ কম থাকে।”
রাজধানীর অপরাধ পর্যবেক্ষক মিজানুর রহমান বলেন, “অপরাধীরা সবসময় নতুন কৌশল বের করে। ধাক্কামারা পার্টি তারই ধারাবাহিকতা। প্রতিরোধে মানুষের সচেতনতা বাড়ানোই জরুরি। ভিড়ের মধ্যে নিজের ব্যাগ, মানিব্যাগ বা মোবাইল সবসময় হাতের নাগালে রাখা উচিত।”
পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান,“ভিড়ের মধ্যে অপরিচিত কারও ধাক্কা খেলে সঙ্গে সঙ্গে মালামাল চেক করুন। বড় অঙ্কের টাকা বা স্বর্ণালংকার নিয়ে বাইরে বের হলে সতর্ক থাকুন। শপিংমল বা মার্কেটে চেইনওয়ালা ব্যাগ ব্যবহার করুন এবং শরীরের সামনে রাখুন।”
এদিকে রোববার (১০ আগস্ট) ‘ধাক্কামারা পার্টি’র দুই নারী সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) তেজগাঁও থানা পুলিশ। তাদের একজন আন্তঃজেলা পকেটমার চক্রের নেতা। গ্রেপ্তাররা হলেন-যুথি আক্তার শ্রাবন্তী ওরফে যুথি আক্তার জ্যোতি ওরফে লিমা আক্তার (২২) এবং শাহনাজ বেগম (৪২)।
তেজগাঁও থানার বরাত দিয়ে ডিসি তালেবুর রহমান বলেন, “গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা বসুন্ধরা সিটি শপিংমলের ৭ম তলায় লিফটের সামনে এক নারীকে ধাক্কা মেরে তার ভ্যানিটি ব্যাগ থেকে নগদ ৪০ হাজার টাকা চুরি করে। নিরাপত্তা প্রহরীদের সহায়তায় তারা আটক হয়। তাদের সঙ্গে থাকা আরও দুজন পালিয়ে গেছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে চুরির কথা স্বীকার করেছে তারা।”
তেজগাঁও থানা পুলিশ ও নারী পুলিশের সহযোগিতায় যুথি আক্তারের ব্যাগ থেকে এক লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং সোনার টিকলি উদ্ধার করা হয়েছে। এই ঘটনায় মামলা হয়েছে এবং আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
বাংলাস্কুপ/ প্রতিবেদক/ এনআইএন/এসকে