​ফের অশান্ত হচ্ছে পাহাড়!

আপলোড সময় : ১০-০৮-২০২৫ ১২:৪৬:১৯ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ১০-০৮-২০২৫ ১২:৪৬:১৯ অপরাহ্ন
আবারও অশান্ত হচ্ছে পাহাড়। প্রায়ই ঘটছে আঞ্চলিক সংগঠনগুলোর মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা। পরিসংখ্যান বলছে, পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন দল-উপদলের সংঘর্ষে ৯ মাসে প্রাণ হারিয়েছেন ২৪ জন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, আধিপত্য বিস্তার, আর্থিক নিয়ন্ত্রণ আর মতাদর্শিক দ্বন্দ্ব থেকে নিজেদের মধ্যে সংঘাতে জড়াচ্ছে আঞ্চলিক সংগঠনগুলো। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে তৎপরতা বাড়লেও সম্মিলিত পদক্ষেপের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণে রাখা হচ্ছে পাহাড়ের পরিস্থিতি।

সবুজ পাহাড়, ঝর্ণা, হ্রদ, আর নদ-নদী---বৈচিত্র্যে ঘেরা প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে অপরূপ পার্বত্য চট্টগ্রাম। তবে দুর্গম আর জটিল ভূগঠনের সুযোগে নয়নাভিরাম এ পাহাড়ি অঞ্চল এখন অনেকের কাছে অপরাধের অবাধ বিচরণকেন্দ্র, যার জেরে সূত্রপাত ঘটছে আঞ্চলিক বিভিন্ন সংগঠন, দল-উপদলের দ্বন্দ্ব।

১৯৯৭ সালে পার্বত্য শান্তিচুক্তি নিয়ে বিরোধের জেরে ভাঙন দেখা দেয় সন্তু লারমার জেএসএসে। গড়ে ওঠে ইউপিডিএফ। পরে দুই সংগঠনেই ফের ভাঙন। পাহাড়ের বুকে জন্ম নেয় জেএসএস সংস্কার ও ইউপিডিএফ গণতান্ত্রিক নামে আরও দুটি সংগঠনের। এছাড়াও তৎপরতা রয়েছে কেএনএফ, এমএনপি ও এএলপি নামে আরও কিছু সংগঠনের। থেমে নেই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষও। পরিসংখ্যান বলছে, আঞ্চলিক সংগঠনগুলোর দ্বন্দ্বে গত ৫ বছরে কেবল রাঙামাটিতেই নিহত হন ৩৪ জন। আর গত আগস্ট থেকে এপ্রিল--এই ৯ মাসেই তিন পার্বত্য জেলায় আঞ্চলিক সংগঠনগুলোর মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে ৫৯ বার, তাতে প্রাণ হারান ২৪ জন।

শুধু তাই নয়, প্রতিপক্ষ সংগঠনে যুক্ত থাকতে পারেন, কখনো কখনো এমন সন্দেহেও নিশানা করা হচ্ছে অনেক পাহাড়িকে। এমনই এক ঘটনার কথা জানাচ্ছিলেন কিছু দিন আগে গুলিতে আহত পাহাড়ের এক বাসিন্দা। তিনি বলেন, ‘আমাকে ডাকা হয়েছিল। কিন্তু আমি যাইনি। না যাওয়ার কারণে আমাকে গুলি করে আহত করা হয়।’ সংঘাতময় পরিস্থিতি আতঙ্ক ছড়াচ্ছে পাহাড়ি-বাঙালি উভয়ের মধ্যেই। দুপক্ষের এসব সংঘাতের নেপথ্যে কী? এ নিয়ে সময় সংবাদের কথা হয়, একটি আঞ্চলিক সংগঠন ছেড়ে আসা কয়েকজন সদস্যের সঙ্গে। এছাড়া কথা হয়, অন্যান্য সাধারণ মানুষের সঙ্গেও।

তারা বলছেন, সংগঠনগুলো ভাগ ভাগ হয়ে আধিপত্য বিস্তার করার জন্য নিজেরা নিজেরা সংঘর্ষে জড়াচ্ছে। এক দল আরেক দলকে নির্মূল করার চেষ্টা করছে। যখন তারা সংঘর্ষে জড়ায়, তখন এর প্রভাব পড়ছে সাধারণ মানুষের ওপর। এক সংগঠনের লোকজন বলে, ‘তোমরা প্রতিপক্ষের লোক, প্রতিপক্ষ আবার বলে তোমরা অপরপক্ষের লোক’। সব মিলিয়ে অসুবিধায় পড়তে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।  

মাঠ প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা অবশ্য বলছেন, নানা চ্যালেঞ্জ থাকলেও সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই নিয়ন্ত্রণে রাখা হচ্ছে পরিস্থিতি। রাঙামাটির পুলিশ সুপার ড. এস এম ফরহাদ হোসেন বলেন, বিভিন্ন শ্রেণির দ্বন্দ্ব আছে। এছাড়া অর্থনৈতিক কারবারগুলো আছে। পুলিশ, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, বিজিবি ও আনসারসহ বিভিন্ন বাহিনী যৌথ উপায়ে সমস্যার সমাধান করার চেষ্টা করি।  আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, অপরাধে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে পাহাড় শান্ত রাখাই মূল লক্ষ্য।

বাংলাস্কুপ/প্রতিনিধি/এনআইএন
 

সম্পাদক ও প্রকাশক :

মোঃ কামাল হোসেন

অফিস :

অফিস : ৬/২২, ইস্টার্ণ প্লাাজা (৬ তলা), কমার্শিয়াল কমপ্লেক্স, হাতিরপুল, ঢাকা।

ইমেইল :