ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (ডিপিডিসি) সম্প্রতি ১১ জন প্রকৌশলীকে বিভিন্ন ডিভিশনে বদলি করেছিল “কাজের স্বার্থে” উল্লেখ করে। তবে বদলির মাত্র এক সপ্তাহের মাথায় তাদের যোগদানের সময়সীমা বাড়ানোয় এখন প্রশ্ন উঠেছে- এই সিদ্ধান্তে কি প্রশাসনিক অসঙ্গতি রয়েছে, নাকি অন্য কোনো চাপ কাজ করেছে?
গত বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) ডিপিডিসির প্রশাসন (এইচআর) বিভাগের ম্যানেজার মো. রইচ উদ্দিনের স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে বলা হয়, বদলিকৃত কর্মকর্তাদের বুধবারের (৬ আগস্ট) মধ্যে নতুন কর্মস্থলে যোগদান করতে হবে। অন্যথায় বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) সকাল থেকে বর্তমান কর্মস্থল হতে অবমুক্ত বলে গণ্য করা হবে।
কিন্তু বুধবারই (৬ আগস্ট) আবার আরেকটি অফিস আদেশে (স্মারক নম্বর: ২৭.৮৭.০০০০.০০০.৪০৪.১৯.০০১১.২০.৯৬৬) পূর্বের সিদ্ধান্ত আংশিক পরিবর্তন করে যোগদানের সময়সীমা ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত বাড়ানো হয়। একই সাথে জানানো হয়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যোগদান না করলে ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫ থেকে বর্তমান কর্মস্থল হতে তাৎক্ষণিক অবমুক্ত হিসেবে গণ্য হবেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
উল্লেখ্য, বদলিকৃতদের মধ্যে ৪ জন উপ-বিভাগীয় ও ৭ জন সহকারী প্রকৌশলী রয়েছেন। এদের মধ্যে উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী আবু হায়াত মো. মোস্তাজিরকে ডেমরা থেকে সাতমসজিদ, উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মোহাম্মদ শাহানুর রশীদকে তেজগাঁও থেকে কামরাঙ্গিরচর, উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মোঃ শহিদুল ইসলামকে কামরাঙ্গিরচর থেকে তেজগাঁওয়ে বদলি এবং উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মোঃ সাজেদুল ইসলাম সোহাগকে সাতমসজিদ থেকে মিটারিংয়ের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর দপ্তরে সংযুক্তি করা হয়েছে।
এছাড়াও সহকারী প্রকৌশলী মোহাম্মদ হুমায়ূন কবিরকে লালবাগ থেকে কাজলা, সহকারী প্রকৌশলী অভিজিত দেওয়ানজিকে বংশাল থেকে বাসাবো, সহকারী প্রকৌশলী হোসাইন মোহাম্মদ হেলালকে কাজলা থেকে ডেমরা, সহকারী প্রকৌশলী মোঃ আব্দুল্লাহ আল হাদীকে রমনা থেকে কাকরাইল, সহকারী প্রকৌশলী মাহফুজুর রহমানকে বাংলাবাজার থেকে লালবাগে, সহকারী প্রকৌশলী রাফাত বিন মল্লিককে বাসাবো থেকে বংশালে এবং সহকারী প্রকৌশলী মো. রাকিবুল ইসলাম সরকারকে কাকরাইল থেকে রমনায় বদলি করা হয়েছে।
প্রথম অফিস আদেশে বদলিকে “কাজের স্বার্থে” বলা হলেও পরবর্তী সময়সীমা বর্ধিতকরণ এই সিদ্ধান্তের বাস্তবতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে সংশ্লিষ্ট মহলে। বলা হচ্ছে, যদি জরুরি কাজের স্বার্থে বদলি করা হয়ে থাকে, তাহলে মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের যৌক্তিকতা কোথায়?
ডিপিডিসির সংশ্লিষ্ট বিভাগ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। তবে অভ্যন্তরীণ একটি সূত্র জানিয়েছে, কিছু প্রকৌশলীর ব্যক্তিগত, পারিবারিক বা প্রশাসনিক কারণে তারা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যোগদানে অপারগতা প্রকাশ করেন, যার প্রেক্ষিতে সময় বাড়ানো হয়। আবার কেউ কেউ বলছেন, এটা কিছুই না, স্বার্থ হাসিল না হওয়ায় এমনটা করছেন ডিপিডিসির উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। সূত্র আরো জানায়, সকালে বদলির আদেশের পর বিকালেই তা প্রত্যাহার করে নেয়া হয়েছে, প্রতিষ্ঠানটিতে এমন অসংখ্য উদাহরণ রয়েছে।
তবে বিদ্যুৎ বিতরণ সেবায় দ্রুত কার্যকারিতা বাড়ানো এবং মাঠ পর্যায়ের দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নেয়া সিদ্ধান্তে এমন পিছপা হওয়া কি প্রতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা ও নীতিমালার সঙ্গে সাংঘর্ষিক নয়-এমন প্রশ্ন এখন উঠছে বিদ্যুৎ খাত সংশ্লিষ্ট মহলে।
প্রশ্ন উঠেছে—যদি বদলি এতটাই জরুরি ও “কাজের স্বার্থে” হয়ে থাকে, তবে এক মাস সময় বাড়িয়ে দেওয়া হলো কেন? সংশ্লিষ্টদের অনেকে মনে করছেন, এটি হয়তো কোনো লবিং, প্রশাসনিক আলস্য বা ভিতরকার চাপে নেওয়া সিদ্ধান্ত, যা বদলির উদ্দেশ্যকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
বদলির আদেশে স্পষ্ট বলা হয়েছিল, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যোগদান না করলে ৭ আগস্ট থেকে বর্তমান কর্মস্থল হতে তাৎক্ষণিক অবমুক্ত বলে গণ্য করা হবে। অথচ ৬ আগস্টে এসে তা এক মাস পিছিয়ে দেওয়া হয়-যা পুরো সিদ্ধান্ত প্রক্রিয়াকেই দুর্বল করে তুলেছে বলে মনে করছেন অনেকেই।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এমন অনিশ্চয়তা ও শৈথিল্য বদলি প্রক্রিয়ার প্রতি অবিশ্বাস তৈরি করে। যেখানে মাঠপর্যায়ে দক্ষতা, প্রযুক্তি প্রয়োগ ও সেবার মানোন্নয়ন নিয়ে কথাবার্তা চলছে- সেখানে এই ধরনের দোদুল্যমানতা প্রতিষ্ঠানিক দক্ষতার অভাবই তুলে ধরছে।
বাংলাস্কুপ/প্রতিবেদক/এনআইএন/এসকে