​কেন চুক্তিটি প্রকাশযোগ্য নয়, জানালেন অর্থ উপদেষ্টা

আপলোড সময় : ০৬-০৮-২০২৫ ০৫:৪২:১৫ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ০৬-০৮-২০২৫ ০৫:৪২:১৫ অপরাহ্ন
অন্তর্বর্তী সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, মার্কিন শুল্ক নিয়ে যে ‘নন-ডিসক্লোজার’ চুক্তি হয়েছে, তা প্রকাশযোগ্য না। এখানে প্রতিযোগী দেশের কথা বিবেচনা করতে হবে। এটা বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) চুক্তি না, এটা একটা দেশের সঙ্গে আরেকটা দেশের ওয়ান-টু-ওয়ান চুক্তি।

বুধবার (৬ আগস্ট) দুপুরে সচিবালয়ে ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক শেষে তিনি এসব কথা বলেন।

যুক্তরাষ্ট্র ৩৭ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২০ শতাংশ পাল্টা শুল্ক নির্ধারণ করেছে, সেটা কি স্বস্তিদায়ক- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক আর একটু কমলে ভালো হতো। তবে ওরা যেটা করেছে মোটামুটি, তবে একেবারে স্বস্তির জায়গা বলব না। আমরা তো চাই এটা (পাল্টা শুল্ক) না হলে ভালো হতো। এমনিতেই বিশ্ব অনেক চ্যালেঞ্জে। আর যদি অন্য দেশের সঙ্গে তুলনা করেন, তবে বাংলাদেশ খুব খারাপ অবস্থানে নেই। আমাদের সুযোগ হলো- তৈরি পোশাক খাত অনেক ভালো। আমাদের টেক্সটাইল, নিট খাতের অনেকেই তাড়াতাড়ি এডজাস্ট করতে পারে। ওয়েভিং-এর জন্য একটু কঠিন হতে পারে।

এ নিয়ে কি আরও দরকষাকষি হবে? এমন প্রশ্নে ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, হ্যাঁ। বশির সাহেব (বাণিজ্য উপদেষ্টা) এখনো আসেননি। আমি ইউএস চেম্বারের ভাইস প্রেসিডেন্টের সঙ্গে কথা বলেছি। ওদের বাংলাদেশের বিষয়ে মনোভাব খুবই ভালো। বলে, তুমি শেভরনের টাকা ফেরত দিয়েছো, মেটলাইফের টাকা দিয়ে দিয়েছো। বলে তোমরা তো টাকা আটকে রাখো না। ব্যাবসায়ীদের কিন্তু বাংলাদেশের ওপর ভালো মনোভাব আছে।

তিনি বলেন, চুক্তি এখনো সই হয়নি। একটা আনুষ্ঠানিক চুক্ত সই হবে। এখানে আমরা দেখব কোন কোন জাগায় আমাদের ডিউটি (শুল্ক) কমাতে হবে। কি কি আমদানি করতে হবে।

আরাক প্রশ্নের উত্তরে ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, যখন ওয়ান টু ওয়ান নেগোসিয়েশন হয়, অনকে কথা বলা হয় না। এটা মাল্টিলেটার নেগোসিয়েশন না, এটা ডব্লিউটিও না, এটা ইউএন না, যে সবাই জানবেন। ওখানে ভিয়েতনাম আমাদের প্রতিদ্বন্দ্বী। আবার চীন, উত্তর কোরিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া, ভারত, পাকিস্তান সবাই আছে। কতোগুলো জিনিস আছে বলা যায় না।

তিনি আরও বলেন, সরকারের এক বছরে অর্থনীতি অনেকটা স্বস্তির জায়গায় এসেছে। মূল্যস্ফীতি একদিনে কমানো সম্ভব না, এটা ঘোড়ার লাগাম না। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে যেসব প্রকল্প বাস্তবায়ন করা সম্ভব, সেগুলো করা হবে।

নির্বাচনী বাজেটের ব্যাপারে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, যে বাজেট প্রয়োজন, তা দেয়া হবে। তবে কত বাজেট, সেটা তো এখন বলা যাবে না। নির্বাচন কমিশন (ইসি) চাহিদা দেবে।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শুল্কের হার ২০ শতাংশের ঘোষণা এলেও দেশটির সঙ্গে এখনও কোনো চুক্তি হয়নি। চুক্তির খসড়া তৈরির কাজ করছে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি (ইউএসটিআর)। খসড়া শেষ করার পর তারা তা বাংলাদেশের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠাবে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় তা দেখে ও মতামত দিয়ে ফেরত পাঠাবে যুক্তরাষ্ট্রে। এরপর দিন ঠিক করে যুক্তরাষ্ট্রে উভয় পক্ষের চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে।

উল্লেখ্য, আজ থেকেই কার্যকর হবে আলোচিত রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ বা পাল্টা শুল্ক। বৃহস্পতিবার রাত ১২টার পর যুক্তরাষ্ট্রে পণ্য পাঠালেই দিতে হবে বর্ধিত শুল্ক। বাংলাদেশের জন্য বাড়তি শুল্কহার নির্ধারণ হয়েছে ২০ শতাংশ শুল্ক। সঙ্গে যোগ হবে আগের সাড়ে ১৬ শতাংশ।

বাংলাস্কুপ/প্রতিবেদক/এইচবি/এসকে

সম্পাদক ও প্রকাশক :

মোঃ কামাল হোসেন

অফিস :

অফিস : ৬/২২, ইস্টার্ণ প্লাাজা (৬ তলা), কমার্শিয়াল কমপ্লেক্স, হাতিরপুল, ঢাকা।

ইমেইল :