ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬ , ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

​মোংলা বন্দরের আধুনিকায়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন

ডেস্ক রিপোর্ট
আপলোড সময় : ০৫-১১-২০২৬ ০১:০৪:৪১ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ০৫-১১-২০২৬ ০১:০৪:৪১ অপরাহ্ন
​মোংলা বন্দরের আধুনিকায়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ​ছবি: সংগৃহীত
মোংলা বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও আধুনিকায়নে ৩৩৫ দশমিক ৭৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয়ে দুটি আধুনিক জেটি নির্মাণসহ সম্প্রসারণ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকাল ১১টায় বন্দরের ৯ নম্বর জেটিতে প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে নৌপরিবহন, সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান, পরিবেশ ও জলবায়ুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম, ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন, নৌপরিবহনসচিব মো. আতাউর রহমান খান এবং চীনের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল আরিফ আহমেদ মোস্তফা।

মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, ‘মোংলা বন্দরের সুবিধাদি সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়ন’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় ১০ ও ১১ নম্বর জেটি নির্মাণ, কনটেইনার লোডিং-আনলোডিং ইয়ার্ড, বিপজ্জনক পণ্য রাখার ইয়ার্ড এবং ৪৯টি প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি স্থাপন করা হবে। চার বছরমেয়াদি প্রকল্পটির নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৩৫ দশমিক ৭৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, প্রতি ডলার ১২২ টাকা ধরে এর পরিমাণ প্রায় ৪ হাজার ৯০ কোটি ৫১ লাখ ৬০ হাজার টাকা।

প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বন্দরের কনটেইনার হ্যান্ডলিং সক্ষমতা ঘণ্টায় ৩০টিতে উন্নীত হবে। বছরে চার লাখ টিইইউ কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের সক্ষমতা অর্জিত হবে। পাশাপাশি কনটেইনার সংরক্ষণের জায়গা বাড়বে এবং পণ্য ওঠানো-নামানোর ব্যয় কমবে বলে আশা করছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।

প্রকল্পের আওতায় প্রায় ২ লাখ ২৭ হাজার বর্গমিটার এলাকায় বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে। এর মধ্যে লোডেড কনটেইনার ইয়ার্ড, খালি কনটেইনার ইয়ার্ড, বিপজ্জনক কনটেইনার ইয়ার্ড, অভ্যন্তরীণ সড়ক, প্রশাসনিক ভবন ও কনটেইনার ফ্রেইট স্টেশন (সিএফএস) রয়েছে।

প্রকল্পের অর্থায়নে বাংলাদেশ সরকার ও চায়না এক্সিম ব্যাংকের মধ্যে গত ১০ অক্টোবর প্রায় ৩ হাজার ৫৯২ কোটি ৯০ লাখ টাকার ঋণচুক্তি সই হয়। এর আগে ২০২৫ সালের ২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) প্রকল্পটি অনুমোদন করে। একই বছরের ২৫ মার্চ মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ ও চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সিসিইসিসির (CCECC) মধ্যে বাণিজ্যিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

বন্দর কর্তৃপক্ষের আশা, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বাংলাদেশের সক্ষমতা বাড়বে। পাশাপাশি প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে আঞ্চলিক বাণিজ্য ও যোগাযোগ সম্প্রসারণেও মোংলা বন্দর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী প্রকল্প এলাকায় একটি গাছের চারা রোপণ করেন। পরে দেশ ও জাতির উন্নতি কামনায় দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। এরপর প্রধানমন্ত্রী সড়কপথে বাগেরহাটের খানজাহান আলী (রহ.)-এর মাজারের উদ্দেশে রওনা দেন।

বাংলা স্কুপ/ডেস্ক/এইচবি/এসকে


প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স



 

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ