ইরান যুদ্ধের প্রভাবেই নির্বাচনে হার, স্বীকারোক্তি ভ্যান্সের
ডেস্ক রিপোর্ট
আপলোড সময় :
০৫-১১-২০২৬ ১১:৩৪:৪৫ পূর্বাহ্ন
আপডেট সময় :
০৫-১১-২০২৬ ১১:৩৬:৪৩ পূর্বাহ্ন
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের বড় পরাজয়ের পেছনে ইরান যুদ্ধকে দায়ী করেছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। বুধবার (৪ নভেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি বলেন, যুদ্ধের কারণেই তাঁদের পরাজয় হয়েছে। এ বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও আগের রাতে একই কথা বলেছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।
এর আগে ট্রাম্পও স্বীকার করেছিলেন, ইরান যুদ্ধ নির্বাচনের ফলাফলে প্রভাব ফেলে থাকতে পারে। তবে সামরিক অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল বলে দাবি করেন তিনি। বিশ্লেষকদের মতে, ভ্যান্সের এই বক্তব্যকে যুদ্ধের দায় থেকে নিজেকে কিছুটা দূরে রাখার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে। ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে তাঁর নাম আলোচনায় রয়েছে। যুদ্ধ শুরুর সিদ্ধান্ত নিয়ে তাঁর আপত্তি ছিল বলেও আগে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
মঙ্গলবারের (৩ নভেম্বর) মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটিক পার্টি প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট—কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ পেয়েছে। এতে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে রিপাবলিকানদের জন্য বড় রাজনৈতিক ধাক্কা তৈরি হয়েছে।
নির্বাচনের ফলাফলের পর হোয়াইট হাউসের এক্স অ্যাকাউন্টে ট্রাম্পের একটি ছবি প্রকাশ করা হয়। ওভাল অফিসে ডেস্কের পেছনে কঠোর মুখে বসে থাকা প্রেসিডেন্টের ওই ছবির ওপর লেখা ছিল, ‘জনসাধারণের অবগতির জন্য: ট্রাম্প এখনো আপনাদের প্রেসিডেন্ট।’ পোস্টে আরও বলা হয়, বিষয়টি মনোযোগ দিয়ে দেখার জন্য ধন্যবাদ।
জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, ট্রাম্পের শুল্কনীতি এবং ইরান যুদ্ধ নিয়ে জনঅসন্তোষকে নির্বাচনের ফলাফলের অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানির দাম বেড়ে সাধারণ মানুষের ওপর অর্থনৈতিক চাপও বেড়েছে। কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ পাওয়ায় ডেমোক্র্যাটরা এখন আইন প্রণয়ন, প্রশাসনের বিরুদ্ধে তদন্ত এবং নিয়োগপ্রক্রিয়ায় বাধা দেওয়ার সুযোগ পাবে। তবে কোনো আইন পাস হলে তাতে ভেটো দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ট্রাম্প।
এদিকে নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র আবার হামলা চালালে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত আরও বিস্তৃত হতে পারে। বুধবার এক লিখিত বার্তায় তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক দল বা গোষ্ঠীর পরিবর্তনের ফলে দেশটির আধিপত্যবাদী মনোভাব বদলে যাবে—এমন আশা করা ভুল। ইরানের বিরুদ্ধে শত্রুতা বন্ধ করতে ছাড় দেওয়ার চিন্তাও সঠিক নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
গত মার্চে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার পর ইরানের সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব নেন মোজতবা খামেনি। এরপর থেকে তাঁকে প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। লিখিত বার্তার মাধ্যমে নিজের বক্তব্য জানিয়ে আসছেন তিনি।
ইরানের প্রধান মধ্যস্থতাকারী মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ মার্কিন নির্বাচনের ফলকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁর মতে, মার্কিন ভোটাররা যুদ্ধের বিরুদ্ধে রায় দিয়েছেন। দেশটির বিচার বিভাগের প্রধান গোলামহোসেইন মোহসেনি এজেইও ট্রাম্পের সামরিক ও রাজনৈতিক পরাজয় হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন।
তবে নির্বাচনের দিনও হরমুজ প্রণালির কেশম দ্বীপে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের দাবি, দ্বীপটিতে পরপর পাঁচটি বিস্ফোরণ ঘটেছে। ট্রাম্প বলেছেন, সেখানে একটি বিমান প্রতিরক্ষাব্যবস্থা নির্মাণ করা হচ্ছিল। কাজ শেষ হওয়ার আগেই সেটিতে হামলা চালানো হয়েছে। তিনি অভিযানটিকে ‘ছোটখাটো’ বলে বর্ণনা করেছেন।
অন্যদিকে, ইরানের বিপ্লবী গার্ড দাবি করেছে, কেশম দ্বীপের আকাশে যুক্তরাষ্ট্রের একটি এমকিউ-১ ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে নিশ্চিত কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এর আগে ইরানের মধ্যাঞ্চলে সন্দেহভাজন পারমাণবিক স্থাপনা ‘পিক্যাক্স মাউন্টেন’সহ এক বা দুটি লক্ষ্যবস্তুতে হামলার সম্ভাবনার কথা বলেছিলেন ট্রাম্প। মঙ্গলবার ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরু করার প্রয়োজন নাও হতে পারে। প্রয়োজন দেখা দিলে যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তুত থাকলেও যুদ্ধ শুরুর কোনো কারণ না-ও থাকতে পারে।
এদিকে নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান জানিয়েছেন, আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানের চেষ্টা করছে তাঁর সরকার। যেসব বিষয়ে আগে আলোচনা সম্ভব ছিল না, সেগুলো নিয়েও কথা বলার ক্ষমতা সরকারকে দিয়েছেন সর্বোচ্চ নেতা।
মধ্যস্থতাকারী দেশ কাতারও আলোচনার অগ্রগতি নিয়ে আশাবাদী। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি জানিয়েছেন, কাতারের দেওয়া প্রস্তাব ও ধারণাগুলো দুই পক্ষই পর্যালোচনা করছে। চীনও জানিয়েছে, কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমে যুদ্ধ পুনরায় শুরু হওয়া ঠেকানো তাদের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার।
বাংলা স্কুপ/ডেস্ক/এইচবি/এসকে
প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স