আমেরিকানরা যুদ্ধের বিরুদ্ধে রায় দিয়েছে: ইরান
ডেস্ক রিপোর্ট
আপলোড সময় :
০৪-১১-২০২৬ ০৭:২৬:৫৪ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
০৪-১১-২০২৬ ০৭:৪৪:৫০ অপরাহ্ন
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান পার্টিকে ধরাশায়ী করে ডেমোক্র্যাটদের বিশাল বিজয়ের পর আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে শুরু হয়েছে নতুন জল্পনা-কল্পনা। এই রাজনৈতিক পটপরিবর্তন নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় ইরানের প্রতিনিধিত্বকারী শীর্ষ সমন্বয়ক ও প্রতিনিধিদলের প্রধান মোহাম্মদ বাঘের ঘালিবাফ।
বুধবার (৪ নভেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক বার্তায় তিনি দাবি করেছেন, আমেরিকার জনগণ ভোটের মাধ্যমে ট্রাম্প সরকারের নীতি এবং যুদ্ধের বিরুদ্ধে সুস্পষ্ট রায় দিয়েছে।
প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, ডেমোক্র্যাটিক পার্টি এক অভূতপূর্ব জয়ের মাধ্যমে মার্কিন কংগ্রেসের উভয় কক্ষের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে। এই ফলাফলকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তার রাজনৈতিক শিবিরের জন্য সাধারণ মানুষের এক চরম ও কঠোর প্রত্যাখ্যান হিসেবে দেখা হচ্ছে। দেশটির সাধারণ ভোটাররা মার্কিন সরকারের বাড়তে থাকা জীবনযাত্রার ব্যয়, কঠোর শুল্কনীতি এবং বিশেষ করে ইরানের বিরুদ্ধে শুরু করা যুদ্ধের প্রতি চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করে এই ঐতিহাসিক গণরায় দিয়েছে।
ট্রাম্পের ইরান নীতির কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম চরম মাত্রায় বেড়ে গেছে, যা আমেরিকার অভ্যন্তরীণ বাজারে পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি ঘটায় ইতিমধ্যেই এক চরম অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি করেছিল। এমনিতেই ডোনাল্ড ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় ধস নেমেছিল, তার ওপর যুদ্ধ নিয়ে সাধারণ জনগণের এই দীর্ঘদিনের অসন্তোষ মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলে সরাসরি প্রতিফলিত হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টের মাধ্যমে মোহাম্মদ বাঘের ঘালিবাফ মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফলকে স্বাগত জানিয়ে লিখেছেন, বিবেক কিংবা জীবনযাত্রার ব্যয়—যে কারণেই হোক না কেন, আমেরিকার সাধারণ মানুষ একযোগে যুদ্ধকে ‘না’ বলেছে এবং ইরান তাদের এই বার্তাকে পূর্ণ সমর্থন জানাচ্ছে। তবে তিনি সঙ্গে এ-ও সতর্ক করে দিয়ে বলেন, যদি মার্কিন সরকার তাদের আন্তর্জাতিক অর্থদাতা বা ব্ল্যাকমেলারদের স্বার্থ রক্ষা করতে গিয়ে দেশের সাধারণ মানুষের এই ইচ্ছার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করার চেষ্টা করে, তবে তারা খুব দ্রুতই টের পাবে যে ইরানের ‘না’ বলার অর্থ কতটা ভয়াবহ একটি দুঃস্বপ্ন হতে পারে।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে ইরান ভূখণ্ডে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার মধ্য দিয়েই এই সংঘাতের সূচনা ঘটেছিল। কয়েক মাস ধরে দুপক্ষের এই যুদ্ধ অচলাবস্থার মধ্যে রয়েছে এবং মাঝে মাঝে দুই দেশের মধ্যে বিক্ষিপ্ত গোলাবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এমন পরিস্থিতিতে আমেরিকানদের এই রায় যুদ্ধের গতিপথ পরিবর্তন করবে নাকি একটি পূর্ণমাত্রার ভয়াবহ সংঘাতের দিকে মোড় নেবে—তা নিয়ে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে।
সূত্র: গালফ নিউজ
বাংলা স্কুপ/ডেস্ক/এইচবি/এসকে
প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স