তাহসিফ হত্যা মামলায় আবারও তিনদিনের রিমান্ডে দীপ
স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় :
০৩-১১-২০২৬ ০৪:০৬:২১ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
০৩-১১-২০২৬ ০৫:৫৬:৫৫ অপরাহ্ন
ছবি: সংগৃহীত
বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সৌরির মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলায় সন্দিগ্ধ আসামি হিসেবে গ্রেফতার ‘স্থানীয় ছোটো ভাই’ আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আবারও তিন দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বিকেলে মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে নৌ পুলিশের টঙ্গী ফাঁড়ির পরিদর্শক ফিরোজ উদ্দিন তার সাতদিনের রিমান্ডে চেয়ে আবেদন করেন।
আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তার তিনদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন ঢাকার মেট্রোপলিটন মাজিস্ট্রেট মো. হাসান শাহাদাত।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে শনিবার থেকে এ মামলায় চার দিনের রিমান্ডে ছিলেন দীপ।
রিমান্ড শুনানির জন্য দুপুর সোয়া ৩টার দিকে দীপকে আদালতে তোরা হলে রাষ্ট্রপক্ষ থেকে রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরা হয়।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন শুনানিতে বলেন, চার দিনের রিমান্ডে আসামি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিলেও ‘অত্যন্ত কৌশলে’ অনেক কিছু গোপন করেছেন। এ জন্য তাকে পুনরায় সাত দিনের রিমান্ড প্রার্থনা করছি। এ মামলার ঘটনার সঙ্গে অন্য দেশের গোয়েন্দা সংস্থা জড়িত থাকতে পারে। এসব জানার জন্য এ আসামিকে রিমান্ডে নেওয়া হোক।
অপরদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবীরা রিমান্ড বাতিল চেয়ে আবেদন করেন। শুনানিতে আইনজীবী মোতাসিম বিল্লাহ বলেন, রাষ্ট্রপক্ষ জোর করে অপরাধী প্রমাণ করতে চাইছে। তাকে আবারও সাত দিনের রিমান্ডে নিয়ে প্রেসার কি এমনভাবে দিতে হবে যে, সব স্বীকার করে নেবে? আইনজীবী বলেন, সেদিন রাতে ভিক্টিম তাকে ডেকে নিয়েছিল নাকি সে ভিক্টিমকে ডেকেছিল সেটা দেখা দরকার। ওইদিন ভিক্টিমই দীপকে ডেকেছিল।
উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত রিমান্ডের আদেশ দেন।
রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, তথ্যপ্রযুক্তি ও গোপন তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, ঘটনার দিন ভিক্টিম সাউরিকে নিয়ে টঙ্গী পশ্চিম থানাধীন মাজার বস্তি এলাকায় গিয়েছিলেন দীপ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে দীপ স্বীকার করেন যে, সাউরি তার সিনিয়র বড় ভাই ছিলেন। প্রাথমিক তদন্তে এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে দীপের জড়িত থাকার সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেছে। মামলার তদন্তের স্বার্থে এবং আসামি যাতে জামিনে বের হয়ে তদন্তে বিঘ্ন ঘটাতে না পারেন, সেজন্য তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা একান্ত প্রয়োজন।
উল্লেখ্য, গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় দীপের ডাকে বাসা থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন তাহসিফ। পরদিন বিকেলে তুরাগ নদের রাজাবাড়ী ঘাট এলাকা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে নৌ পুলিশ।
তাহসিফের মৃত্যুর ঘটনায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে রাজধানীর উত্তরখান থানায় ৩০ অক্টোবর রাতে মামলা করেন তার বাবা কে এম এনায়েতুল করিম। পরে এ মামলায় দীপকে সন্দিগ্ধ আসামি হিসেবে গ্রেফতার দেখায় পুলিশ।
মামলার এজাহারে তিনি বলেন, ২৭ অক্টোবর আমার ছেলে কে এম তাহসিফ সাউরি আনুমানিক সন্ধ্যা ৬টার পর দীপ নামে তার এক জুনিয়রের ডাকে বাসা থেকে বাইরে যান। রাত বেশি হলেও ছেলে ফিরে না আসায় তার মা বারবার ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, কিছুক্ষণের মধ্যে ফিরবেন। পরে রাত ১টা ৩৫ মিনিটে মেসেঞ্জারের মাধ্যমে তার ফোন থেকে মায়ের ফোনে ভয়েজ মেসেজ পাঠায়, ‘রওনা দিয়েছি, আসছি’। কিন্তু রাত পেরিয়ে পরের দিন বিকেল হলেও তিনি ফিরে আসেনি।
বাদী আরও উল্লেখ করে বলেন, ২৮ অক্টোবর বিকেল আনুমানিক ৫টা ২০ মিনিটে উত্তরখান থেকে নৌ পুলিশ ফোনের মাধ্যমে আমাকে জানায়, রাজারবাড়ি ঘাট উত্তরখান এলাকাতে তুরাগ নদ থেকে আমার সন্তানের মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। এরপর শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে ময়নাতদন্তের প্রাথমিক কার্যক্রম শেষে ২৯ অক্টোবর দুপুরে নৌ পুলিশ আমার কাছে আমার সন্তানের মরদেহ হস্তান্তর করে। প্রয়োজনীয় ধর্মীয় রীতি সম্পন্ন করে ২৯ অক্টোবর বিকেলে উত্তরা ১২ নম্বর সেক্টরের কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন করা হয়।
বাংলাস্কুপ/প্রতিবেদক/এইচবি/এসকে
প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স