রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে নরওয়ের সহযোগিতা চাইলেন স্পিকার
স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় :
০১-১১-২০২৬ ০৪:০৮:১০ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
০১-১১-২০২৬ ০৪:০৮:১০ অপরাহ্ন
ছবি : সংগৃহীত
জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত নরওয়ের রাষ্ট্রদূত হাকন আরাল্ড গুলব্রান্ডসেন। রোববার (০১ নভেম্বর) স্পিকারের কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম বলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের পর থেকেই নরওয়ে ও বাংলাদেশের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের বিস্তার ঘটেছে। বিশ্বের গণতান্ত্রিক দেশগুলোর মধ্যে নরওয়ে অন্যতম। বাংলাদেশে সংসদীয় গণতন্ত্রের বিকাশে নরওয়ে সবসময় সহযোগিতা করে আসছে।
স্পিকার বলেন, বিগত ১৭ বছরের স্বৈরাচারী শাসনামলে এ দেশের জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার ক্ষুণ্ন হয়েছিল। আওয়ামী লীগ সরকারের প্রহসনের নির্বাচন সংসদীয় গণতন্ত্রকে অবরুদ্ধ করে রেখেছিল। স্বৈরাচারী সরকার গুম, খুন, সন্ত্রাস ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে দেশে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিল। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াসহ তৎকালীন বিরোধী দলের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের বারবার কারাবরণ করতে হয়েছে। তিনি বলেন, ২৪-এর জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে স্বৈরাচারী শাসনের অবসান ঘটে এবং দেশে পুনরায় গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা সূচিত হয়।
স্পিকার বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বাংলাদেশের ইতিহাসে অন্যতম গ্রহণযোগ্য নির্বাচন ছিল। এ নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত বর্তমান সরকার জনগণের গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষা পূরণে কাজ করে যাচ্ছে। বিশ্বব্যাপী মানবাধিকার রক্ষায় বাংলাদেশ সর্বদা অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশ সরকারের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থন প্রয়োজন। নরওয়েসহ ইউরোপের অন্যান্য দেশ বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর প্রত্যাবাসনে সহায়তা করতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
নরওয়ের রাষ্ট্রদূত হাকন আরাল্ড গুলব্রান্ডসেন বলেন, বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে অংশগ্রহণ করে আসছে। শান্তিরক্ষী প্রেরণের মাধ্যমে বাংলাদেশ বিশ্বশান্তি রক্ষায় প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের সংসদীয় গণতন্ত্রের বিকাশ ও মানবাধিকার সুরক্ষায় নরওয়ে সবসময় সহায়তা দিতে প্রস্তুত।
সাক্ষাৎকালে উভয় পক্ষ দু’দেশের মধ্যে সংসদীয় মৈত্রী গ্রুপ গঠন, সংসদীয় প্রতিনিধিদলের সফর বিনিময় এবং বিশ্বব্যাপী শান্তিরক্ষায় উল্লেখযোগ্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ নোবেল শান্তি পুরস্কার নিয়ে মতবিনিময় করেন। এ ছাড়া চলমান সংবিধান সংশোধন কমিটির কার্যক্রম ও জুলাই সনদ নিয়েও আলোচনা হয়।
এ সময় স্পিকার ভোলাসহ বাংলাদেশের সমুদ্র উপকূলীয় এলাকায় তেল ও গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনের জন্য নরওয়ের কোম্পানিগুলোকে আমন্ত্রণ জানান।
বৈঠকে নরওয়ের দূতাবাসের প্রতিনিধি, বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিবসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাস্কুপ/প্রতিবেদক/এনআইএন
প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স