ঢাকা , বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬ , ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তানজানিয়া

​এক দশক পর গ্যাস আবিষ্কার, জ্বালানি খাতে নতুন সম্ভাবনা

ডেস্ক রিপোর্ট
আপলোড সময় : ২৮-১০-২০২৬ ০৮:০৪:১৭ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ২৮-১০-২০২৬ ০৮:০৫:২২ অপরাহ্ন
​এক দশক পর গ্যাস আবিষ্কার, জ্বালানি খাতে নতুন সম্ভাবনা ​ছবি: সংগৃহীত
দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় পর পূর্ব আফ্রিকার দেশ তানজানিয়ায় নতুন প্রাকৃতিক গ্যাসের সন্ধান পাওয়া গেছে। 

দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের মানাজি বে এলাকায় আবিষ্কৃত নতুন কূপে আনুমানিক ২২৩ বিলিয়ন ঘনফুট (৬ দশমিক ৩ বিলিয়ন ঘনমিটার) গ্যাস রয়েছে। 

নতুন এই আবিষ্কারকে দেশের জ্বালানি খাতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখছে সরকার।

নতুন গ্যাসের সন্ধান উদযাপনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন তানজানিয়ার জ্বালানিমন্ত্রী জুমা হোমেরা। 

রাষ্ট্রায়ত্ত তানজানিয়া পেট্রোলিয়াম ডেভেলপমেন্ট করপোরেশন (টিপিডিসি) এবং ফরাসি জ্বালানি কোম্পানি মোরেল অ্যান্ড প্রমের যৌথ মালিকানাধীন কাসা-১এক্স এসটি২ কূপে এই গ্যাসের সন্ধান পাওয়া গেছে।

হোমেরা বলেন, নতুন এই আবিষ্কার তানজানিয়ার তুলনামূলক ছোট তেল ও গ্যাস খাতের উন্নয়নে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। আগামী মাসের শুরুর দিকে কূপটি থেকে উৎপাদন শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। এর মাধ্যমে দেশের অভ্যন্তরীণ গ্যাস সরবরাহ বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

বর্তমানে তানজানিয়ায় প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রমাণিত মজুত রয়েছে ৫৭ দশমিক ৫৪ ট্রিলিয়ন ঘনফুট। নতুন আবিষ্কারটি এই মজুতের তুলনায় ছোট হলেও ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা পূরণে তা ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছে দেশটির সরকার।

হোমেরা বলেন, শিল্পের সম্প্রসারণ ও অন্যান্য অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে দেশে জ্বালানির চাহিদা বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে সাশ্রয়ী মূল্যে নির্ভরযোগ্য, পরিচ্ছন্ন ও নিরাপদ জ্বালানি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে নতুন গ্যাসের সন্ধান গুরুত্বপূর্ণ।

সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৪ সালে তানজানিয়ার বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রায় ৮০ শতাংশ এসেছে প্রাকৃতিক গ্যাস থেকে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যানবাহনে জ্বালানি হিসেবে সংকুচিত প্রাকৃতিক গ্যাসের (সিএনজি) ব্যবহারও বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে দেশটি। এ লক্ষ্যে প্রাকৃতিক গ্যাসভিত্তিক স্থাপনা ও সিএনজি স্টেশন গড়ে তোলা হয়েছে, যার অধিকাংশই দেশটির বৃহত্তম শহর দারুস সালামে অবস্থিত।

স্থানীয়ভাবে সহজলভ্য গ্যাসের কারণে পেট্রলের তুলনায় কম খরচে যানবাহন চালাতে পারছেন অনেক তানজানীয়। এ জন্য অনেকে তাদের গাড়িতে পেট্রল ও গ্যাস- দুই ধরনের জ্বালানি ব্যবহারের ব্যবস্থা যুক্ত করছেন।

তানজানিয়ায় প্রথম প্রাকৃতিক গ্যাসের সন্ধান পাওয়া যায় ১৯৭৪ সালে, দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের লিন্ডি অঞ্চলের সোঙ্গো সোঙ্গো দ্বীপে। এরপর ১৯৮২ সালে প্রতিবেশী এমতওয়ারা অঞ্চলের মানাজি বে এলাকায় আরেকটি গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কৃত হয়। এসব গ্যাসের বাণিজ্যিক ব্যবহার শুরু হয় ২০০৪ সালে। 

পরে স্থলভাগ ও সমুদ্র উপকূলে গ্যাস অনুসন্ধান জোরদার হয়। ২০১৬ সালে দেশটিতে একক বৃহত্তম আবিষ্কারে ২ দশমিক ৭ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের সন্ধান পাওয়া যায়।

নতুন আবিষ্কারটির মাধ্যমে দেশের অভ্যন্তরীণ জ্বালানি সরবরাহ বাড়ানো এবং শিল্পায়নের ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটানোর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। সূত্র: বিবিসি

বাংলাস্কুপ/ডেস্ক/এইচবি/এসকে


প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স



 

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ