আঁধার নামলেই আতঙ্ক বাড়ে
ভোলাবাসীর বাঁচা-মরার ভরসা হতে পারে ‘ওয়াটার অ্যাম্বুলেন্স’
স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় :
২৮-১০-২০২৬ ০৩:০১:২৪ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
২৮-১০-২০২৬ ০৩:০১:২৪ অপরাহ্ন
চারিদিকে মেঘনা আর তেঁতুলিয়ার উত্তাল ঢেউ। মাঝে ছোট-বড় অসংখ্য বিচ্ছিন্ন দ্বীপ ও চর এলাকা নিয়ে গঠিত উপকূলীয় জেলা ভোলা। ভৌগোলিক বাস্তবতার কারণে জেলা সদরের সঙ্গে দূরবর্তী ইউনিয়ন ও চরাঞ্চলের যোগাযোগের প্রধানতম মাধ্যম নৌপথ। তবে, দিনের বেলা ইঞ্জিনচালিত ট্রলার কিংবা স্পিডবোট মিললেও, রাত নামলেই এসব বিচ্ছিন্ন জনপদের চিকিৎসা ব্যবস্থা যেন পুরোপুরি অচল হয়ে পড়ে। আর এই আঁধার নামা নদীপথে মুমূর্ষু রোগীর জীবন বাঁচাতে সুসজ্জিত ‘ওয়াটার অ্যাম্বুলেন্স’ সার্ভিসই হতে পারে একমাত্র নির্ভরযোগ্য চিকিৎসা সঙ্গী এমনটি মনে করছেন স্থানীয়রা।
চরফ্যাশন, মনপুরা, তজুমদ্দিন কিংবা দৌলতখানের দুর্গম চর এলাকার বাসিন্দাদের কাছে রাতের বেলা যেকোনো শারীরিক জরুরি অবস্থা যেন এক সাক্ষাৎ মৃত্যুদূত। রাতে সাধারণত নদীপথে স্পিডবোট বা ট্রলার চলাচল পুরোপুরি বন্ধ থাকে। কোনো প্রসূতি মায়ের জরুরি অস্ত্রোপচার, স্ট্রোক, হৃদরোগ কিংবা দুর্ঘটনাকবলিত রোগীর জরুরি উন্নত চিকিৎসার (আইসিইউ বা সিসিইউ) প্রয়োজন হলে ভোলার সদর হাসপাতাল কিংবা বরিশাল-ঢাকার হাসপাতালে পৌঁছানো এক দুঃসাধ্য লড়াইয়ে রূপ নেয়।
ভোলা উন্নয়ন ফোরামের নেতা বাহাউদ্দীন ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, রাতের বেলা অতিরিক্ত ভাড়ার বিনিময়েও কোনো ট্রলার বা বোট ঘাটে পাওয়া যায় না। নদীর পাড়েই পারাপারের অপেক্ষায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা পার হয়ে যায়, ফলে হাসপাতালেই পৌঁছানোর আগেই মাঝপথে নিভে যায় বহু তাজা প্রাণ।
স্থানীয় বাসিন্দা আরিফুর রহমান জানান, ভোলার মতো উপকূলীয় জেলার জন্য একটি কার্যকর ওয়াটার অ্যাম্বুলেন্স সেবা এখন সময়ের দাবি। বর্তমানে আধুনিক প্রযুক্তির ওয়াটার অ্যাম্বুলেন্সগুলোতে আইসিইউ সুবিধা, অক্সিজেন সিলিন্ডার, ফার্স্ট এইড ব্যবস্থা এবং প্রাথমিক জরুরি সেবা দেওয়ার মতো সুযোগ-সুবিধা থাকে। সরকারি বা বেসরকারি উদ্যোগে ভোলার নৌপথে ২৪ ঘণ্টা এই সেবা চালু করা গেলে নদী পারাপারের সময় অর্ধেকেরও নিচে নেমে আসবে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, হাসপাতালে পৌঁছানোর পথেই মুমূর্ষু রোগীকে প্রয়োজনীয় অক্সিজেন ও প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করা সম্ভব হবে ওয়াটার অ্যাম্বুলেন্স থাকলে। যা মূল্যবান ‘গোল্ডেন আওয়ার’-এ রোগীর প্রাণ রক্ষা করবে। বিশেষ করে প্রসূতি মা ও নবজাতকের দ্রুত উন্নত চিকিৎসাকেন্দ্রে স্থানান্তর সহজ হওয়ায় এটি উপকূলীয় অঞ্চলে মাতৃ ও শিশু মৃত্যুর হার আশঙ্কাজনকভাবে কমিয়ে আনবে। আধুনিক ও শক্তিশালী কাঠামোর বোট হলে বৈরী আবহাওয়া ও দুর্যোগের সময়েও জরুরি রোগী পরিবহন সম্ভব হবে।
তারা জানান, নদীবেষ্টিত ভোলাবাসীর জন্য সড়ক পথের মতো আধুনিক ও জরুরি নৌ-চিকিৎসা সুবিধা পাওয়া কোনো বিলাসিতা নয়, এটি তাদের মৌলিক অধিকার। রাতে যখন সব ধরনের যোগাযোগ থমকে দাঁড়ায়, তখন উত্তাল ঢেউয়ের বুক চিরে ছুটে চলা একটি সজ্জিত ওয়াটার অ্যাম্বুলেন্সই পারে শত শত প্রাণ বাঁচিয়ে রাতের অন্ধকার দূর করতে। উপকূলীয় মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ভোলার নৌপথে অনতিবিলম্বে সার্বক্ষণিক ওয়াটার অ্যাম্বুলেন্স চালুর জোরালো দাবি এখন জেলার সর্বস্তরের মানুষের।
এ বিষয়ে জেলা জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম বলেন, “ভোলার মানুষের দুর্ভোগরোধে ওয়াটার অ্যাম্বুলেন্স খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বিষয়টি আরো আগেই আমরা প্রস্তাব করেছি।”
জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আলহাজ্ব তরিকুল ইসলাম কায়েদ জানান, এখন ঘুর্ণিঝড় ‘অর্নূব’ চলে। আল্লাহ না করুক বড় ধরনের সংকেত আসলে লঞ্চ বন্ধ হলেই বিপদ। যদি ওয়াটার অ্যাম্বুলেন্স থাকতো তাহলে গুরুতর অসুস্থ রোগীদের বরিশালের হাসপাতালে দ্রুত নেওয়া সম্ভব হতো।
ভোলার সিভিল সার্জন ডাক্তার মনিরুল ইসলাম জানান, ওয়াটার অ্যাম্বুলেন্সের বিষয়টি আমরা প্রস্তাব করেছি।
বাংলাস্কুপ/প্রতিনিধি/এনআইএন
প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স