মা ইলিশ রক্ষায় নিষেধাজ্ঞা
ঋণের বোঝা নিয়ে দুশ্চিন্তায় জেলেরা
স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় :
২৮-১০-২০২৬ ১২:০৮:২৬ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
২৮-১০-২০২৬ ১২:০৮:২৬ অপরাহ্ন
ছবি : সংগৃহীত
২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার অপেক্ষায় দিন গুনছেন চাঁদপুরের মেঘনা পাড়ের জেলেরা। এ সময়ে কেউ জাল বুনেছেন, কেউ মেরামত করেছেন মাছ ধরার নৌকা। নিষেধাজ্ঞা শেষে আবার নদীতে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তারা। তবে নদীতে মাছ ধরতে ফেরার আনন্দের পাশাপাশি আছে সংসার চালানোর দুশ্চিন্তা। কারণ, মাছ ধরা বন্ধ থাকলেও থেমে থাকেনি পরিবারের খরচ। খাবার, সন্তানদের লেখাপড়া, চিকিৎসাসহ নানা প্রয়োজনে ধারদেনা করতে হয়েছে অনেক জেলেকে।
জেলেদের ভাষ্য, মা ইলিশ রক্ষায় সরকারি নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে তারা সহযোগিতা করতে চান। কিন্তু এ সময়ে সরকারিভাবে চাল দেয়া হলেও নগদ অর্থসহায়তা না থাকায় সংসার চালাতে গিয়ে ঋণের বোঝা বাড়ছে। তাই ভবিষ্যতে নিষেধাজ্ঞার সময়ে চালের পাশাপাশি আর্থিক সহায়তা চান তারা।
মা ইলিশ সংরক্ষণ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে গত ৮ থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত চাঁদপুরের মেঘনা নদীর ৭০ কিলোমিটার এলাকায় সব ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ ছিল। এ সময়ে জেলেদের নদীতে নামা বন্ধ থাকায় তাদের প্রধান আয়ের পথও বন্ধ হয়ে যায়। নিষেধাজ্ঞা চলাকালে ৪২ হাজার জেলেকে ২৫ কেজি করে চাল দেয়া হয়।
চাঁদপুর সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর এলাকার জেলে মিজানুর রহমান ও ফারুক আহমেদ বলেন, নিষেধাজ্ঞার সময়ে চালের পাশাপাশি আর্থিক সহায়তা দেয়া হলে জেলেদের অনেক উপকার হতো। শুধু চাল দিয়ে পরিবারের সব খরচ মেটানো সম্ভব নয়। ভবিষ্যতে সরকার বিষয়টি বিবেচনা করলে জেলেদের দুর্ভোগ কমবে।
হাইমচর উপজেলার চরভৈরবী এলাকার জেলে হারুনের অভিজ্ঞতাও একই রকম। তিনি বলেন, ‘২২ দিন পরিবার চালাতে গিয়ে ঋণে জর্জরিত হয়ে গেছি। সরকারিভাবে চাল পেয়েছি। অন্য কোনো ধরনের সহযোগিতা পাইনি। শুধু চাল দিয়ে তো সংসার চলে না।’
চাঁদপুর সদর উপজেলার হরিনা এলাকার জেলে বাচ্চুও নিষেধাজ্ঞার দিনগুলোতে সংসার চালাতে গিয়ে বিপাকে পড়েছেন। তিনি বলেন, ‘২২ দিন পরিবার-পরিজন নিয়ে কষ্টে দিন কাটাতে হয়েছে। শুধু চাল দিয়ে তো সংসার চলে না। এর বাইরে সন্তানদের লেখাপড়া, চিকিৎসাসহ অনেক খরচ রয়েছে। এ সময় আমাদের ধারদেনা করে চলতে হয়েছে।’
জেলেদের এসব বক্তব্যে উঠে এসেছে, নিষেধাজ্ঞার সময়ে খাদ্যসহায়তা তাদের নিত্যদিনের প্রয়োজনের একটি অংশ মেটালেও পরিবারের অন্যান্য ব্যয় মেটাতে তা যথেষ্ট নয়। ফলে মাছ ধরায় বিরতির সময়টুকু তাদের জন্য হয়ে উঠছে আর্থিক অনিশ্চয়তার সময়। নিষেধাজ্ঞা শেষ হলে নদীতে মাছ পাওয়া এবং সেই মাছ বিক্রির আয় দিয়ে ধারদেনা শোধ করার আশায় থাকেন তারা।
মা ইলিশ রক্ষায় ২২ দিনের অভিযানে মেঘনা নদীতে তৎপর ছিল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। চাঁদপুর নৌ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আজমগীর হোসেন বলেন, অভিযানের সময় তিন শতাধিক জেলেকে আটক করে জেল ও জরিমানা করা হয়েছে। এ ছাড়া বিপুল পরিমাণ মাছ, নৌকা ও জাল জব্দ করা হয়েছে।
মৎস্য বিভাগ বলছে, মা ইলিশের নির্বিঘ্ন প্রজনন নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান গুরুত্বপূর্ণ। তবে ইলিশের উৎপাদন বাড়াতে শুধু মা ইলিশ রক্ষার ২২ দিনের অভিযান নয়, বছরের অন্যান্য সময়েও নিষেধাজ্ঞা ও সংরক্ষণ কার্যক্রম কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে।
চাঁদপুর সদর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মির্জা ওমর ফারুক বলেন, অভিযান সফল হওয়ায় মা ইলিশ নির্বিঘ্নে ডিম ছাড়তে পেরেছে। আগামী নভেম্বর থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত জাটকা সংরক্ষণ এবং মার্চ-এপ্রিলের অভয়াশ্রমে সব ধরনের মাছ ধরা বন্ধ রাখার কার্যক্রমও সফলভাবে পরিচালনা করা গেলে ইলিশের উৎপাদন বাড়বে। তার আশা, এসব কার্যক্রম যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে ভবিষ্যতে দেশে ইলিশের উৎপাদন ৬ লাখ মেট্রিক টনে উন্নীত করা সম্ভব হবে।
বাংলাস্কুপ/প্রতিনিধি/এনআইএন
প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স