মাঠে মাঠে ব্যস্ততা: শীতকালীন সবজি চাষের ধুম
স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় :
২৭-১০-২০২৬ ০৩:০৫:৪৭ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
২৭-১০-২০২৬ ০৩:১১:৪৬ অপরাহ্ন
ছবি : সংগৃহীত
প্রকৃতিতে আসতে শুরু করেছে শীতের আগমনী বার্তা; ধীরে ধীর কমছে রোদের তীব্রতা। ঋতু পরিবর্তনের এই সময়ে শীতকালীন শাকসবজি চাষাবাদের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত সময় যাচ্ছে কৃষকের।
কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় জমি প্রস্তুত থেকে শুরু করে শীতকালীন শাকসবজি চাষের কাজে কৃষকের এই ব্যস্ততা চোখে পড়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং বাজারদর ভালো পাওয়া গেলে আগাম সবজিতে লাভবান হবেন বলে মনে করছেন তারা।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, জমি প্রস্তুত, সার প্রয়োগ, আগাছা পরিষ্কার এবং চারা রোপণসহ ক্ষেতের পরিচর্যা করছেন। কেউ নিজেই জমির পরিচর্যা করছেন, কেউ আবার শ্রমিক নিয়োগ করে আগাম সবজি উৎপাদনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, মাঠের অধিকাংশ জমিতে ধান চাষ করা হয়েছে। এর মধ্যে কিছু জমিতে চলছে শীতকালীন সবজি চাষ। সবজিক্ষেতে রয়েছে মূলা, পালংশাক, লালশাক, ডাটা, ফুলকপি, বাঁধাকপি, টমেটো, শিম, আলু, সরিষা, মরিচ, বেগুন, ধনিয়া, মিষ্টিকুমড়া ও গাঁজরসহ বিভিন্ন ধরনের শীতকালীন শাকসবজি।
মুমুরদিয়া ইউনিয়নের পিপুলিয়া এলাকার কৃষক রমজান জানান, ৪০ শতাংশ জমিতে মরিচের আবাদ করেছেন তিনি।
সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে ভালো ফলন পাবেন বলে আশা করছেন। তার মতো অনেক কৃষক এবার শীতকালীন সবজি চাষাবাদ করেছেন বলে জানান এই কৃষক।
জালালপুর ইউনিয়নের পূর্ব ফেকামারা গ্রামের কৃষক হেকিমের ভাষ্য, আগাম সবজি বাজারে তুলতে পারলে ভালো দাম পাওয়া যায়। এতে উৎপাদন খরচ বাদ দিয়ে লাভের মুখ দেখার সম্ভাবনা থাকে। তবে আগাম সবজি চাষে বাড়তি খরচ ও রোগবালাইয়ের ঝুঁকি রয়েছে।
হেকিম জানান, সময়মতো জমি তৈরি, সার প্রয়োগ, সেচ এবং পোকামাকড় ও রোগবালাই দমনে বাড়তি অর্থ ব্যয় করতে হয়। ফলে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি কাঙ্খিত দাম না পেলে লোকসানের আশঙ্কাও থাকে।
কটিয়াদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘উপজেলার কৃষকরা শীতকালীন আগাম সবজি চাষ শুরু করেছেন। মৌসুমের শুরুতে ভালো দাম পাওয়ার আশায় অনেক কৃষক আগেভাগে ফসল বাজারে তুলতে চান। এ ক্ষেত্রে সঠিক জাত নির্বাচন, জমি ও মাটির উপযোগী সার ব্যবস্থাপনা এবং সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনা অনুসরণ করা জরুরি।
কৃষি কর্মকর্তা বলেন, ‘সঠিক পদ্ধতি অনুসরণে উৎপাদন খরচ নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি রোগ-বালাইয়ের ঝুঁকিও কমানো সম্ভব। মাঠপর্যায়ে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা নিয়মিত কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়ে থাকেন।’
বাংলাস্কুপ/প্রতিনিধি/এনআইএন
প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স