ঢাকা , মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬ , ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জাপানি বিনিয়োগে দেশে দুই লাখ কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা

স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় : ২৭-১০-২০২৬ ০২:২৬:৪২ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ২৭-১০-২০২৬ ০৪:৩০:৩০ অপরাহ্ন
জাপানি বিনিয়োগে দেশে দুই লাখ কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা ছবি : সংগৃহীত
আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশে জাপানের বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ এক ট্রিলিয়ন ইয়েন পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। এ বিনিয়োগের মাধ্যমে দেশে দুই লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

উৎপাদনশিল্প, খাদ্য ও কৃষি, তথ্যপ্রযুক্তি এবং ওষুধশিল্পে বিনিয়োগের মাধ্যমে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে নতুন গতি সঞ্চারের সম্ভাবনা দেখছে দুই দেশ।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) জাপানের রাজধানী টোকিওতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও জাপানের প্রধানমন্ত্রী তাকাইচি সানায়ের দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠকে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়। বৈঠক শেষে প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিতে বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, ব্যবসার পরিবেশ উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশে জাপানের বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ এক ট্রিলিয়ন ইয়েনে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে।

এসব বিনিয়োগের ফলে দুই লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। তবে বিনিয়োগের অঙ্কটি সম্ভাব্য পূর্বাভাস; এটি নিশ্চিত বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি নয়।

বাংলাদেশে প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকারের নেওয়া উদ্যোগগুলোর প্রশংসা করেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী তাকাইচি সানায়ে। একই সঙ্গে দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক বিনিময় বাড়াতে বাংলাদেশে বিনিয়োগের পরিবেশ আরও উন্নত করার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন তিনি।

জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নয়নে সরকারের নেওয়া উদ্যোগ তুলে ধরেন। করব্যবস্থা, শুল্ক ছাড়করণ, অর্থ প্রেরণ এবং লাইসেন্স প্রদানের প্রক্রিয়ায় নিয়মকানুন, স্বচ্ছতা ও পূর্বানুমানযোগ্যতা বাড়ানোর অঙ্গীকার করেন তিনি। এসব উদ্যোগ জাপানি বিনিয়োগকারীদের জন্য ব্যবসার পরিবেশ সহজ করতে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বৈঠকে উৎপাদনশিল্প, খাদ্য ও কৃষি, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি এবং ওষুধশিল্পকে বিনিয়োগের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। এসব খাতে দুই দেশের সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে পরস্পর-পরিপূরক ও ঝুঁকি মোকাবিলায় সক্ষম পণ্য সরবরাহব্যবস্থা গড়ে তোলার বিষয়ে একমত হন দুই প্রধানমন্ত্রী।
 
জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলোর বিনিয়োগের আগ্রহ ধরে রাখা এবং তা আরও বাড়াতে অদূর ভবিষ্যতে একটি জাপানি ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদল বাংলাদেশে পাঠানোর পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়েছে। পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক সংলাপ আয়োজন এবং যৌথ সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব প্ল্যাটফর্মের আওতায় সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়।

বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে জাপান–বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি দ্রুত কার্যকর করার অঙ্গীকারও পুনর্ব্যক্ত করেন দুই প্রধানমন্ত্রী। তাঁদের প্রত্যাশা, এ চুক্তি দুই দেশের বাণিজ্য বাড়ানোর পাশাপাশি বাংলাদেশের শিল্পের বহুমুখীকরণে সহায়তা করবে।

এ ছাড়া ‘অভিন্ন সমৃদ্ধির জন্য বঙ্গোপসাগরীয় শিল্প প্রবৃদ্ধি বলয়’ বা বিআইজি-বি উদ্যোগের আওতায় অবকাঠামো, জ্বালানি, গভীর সমুদ্রবন্দর ও শিল্প খাতের উন্নয়নে সহযোগিতা এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে একমত হন তাঁরা। মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরকে কেন্দ্র করে মাতারবাড়ী–মহেশখালী এলাকাকে সরবরাহ, পরিবহন, জ্বালানি ও শিল্পের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত করার পরিকল্পনাও রয়েছে।

বৈঠকে বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা, যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন, মানবসম্পদ তৈরি এবং তথ্যপ্রযুক্তি খাতেও সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়। দুই দেশের এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির সুযোগ বাড়বে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

 বাংলাস্কুপ/প্রতিবেদক/এনআইএন

 


প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স



 

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ