কানাডায় বাংলাদেশি ভিসায় জালিয়াতি, ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা
ডেস্ক রিপোর্ট
আপলোড সময় :
২৩-১০-২০২৬ ০২:২৯:১৩ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
২৩-১০-২০২৬ ০২:২৯:১৩ অপরাহ্ন
ফাইল ছবি
কানাডায় অস্থায়ী ভিসার আবেদনে ব্যাপক জালিয়াতি ও ভুয়া তথ্য সরবরাহের অভিযোগে পাঁচজনের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়ের করেছে কানাডা সীমান্তসেবা সংস্থা (সিবিএসএ)। তদন্তে ২০৯ জন বাংলাদেশি নাগরিকের নামে জমা পড়া ২৪৩টি ভিসা আবেদনে জাল নথি ও তথ্য গোপনের প্রমাণ পাওয়া গেছে।
কানাডার স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, অভিযুক্তদের চারজন কুইবেকের ভ্যালিফিল্ড আদালতে হাজির হয়েছেন। অন্য অভিযুক্ত মো. রাকিবুল হাসান বাংলাদেশে অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে; তার বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
বাকি চার অভিযুক্ত হলেন—রাসেল মির্জা, মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম, মো. মুদাসসার আলম ভূঁইয়া ও কাজী নাফিজ আলম।
সিবিএসএ সূত্রের বরাত দিয়ে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৩ জুলাই কুইবেকের মার্সিয়ার এলাকার একটি বাড়িতে তদারকিমূলক অভিযান পরিচালনাকালে অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের প্রাথমিক তথ্য মেলে।
পরবর্তী সময়ে ওই বছরের আগস্টে শুরু হয় আনুষ্ঠানিক তদন্ত।
তদন্ত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ২০২৫ সালের ৩ জুন কুইবেক ও অন্টারিওর চারটি স্থানে তল্লাশি চালিয়ে বিভিন্ন নথিপত্র ও কম্পিউটার সরঞ্জাম বাজেয়াপ্ত করেন গোয়েন্দারা। অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে মোট ২৪৩টি ভিসা আবেদনের মধ্যে ৭৯টি আবেদনকে বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে নিশ্চিত হওয়া যায়।
অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রধানত তিনটি ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে—সুপরিকল্পিতভাবে অবৈধ উপায়ে কানাডায় প্রবেশে সহায়তা করা, ভিসার আবেদনে মিথ্যা তথ্য প্রদান ও তথ্য গোপন করা এবং দেশের অভিবাসন আইন ভঙ্গে সরাসরি সহযোগিতা করা।
তবে এসব অভিযোগ এখনো বিচারিক প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং আদালতে চূড়ান্ত প্রমাণিত হওয়া বাকি।
ঘটনার পর কানাডার জননিরাপত্তামন্ত্রী গ্যারি আনন্দসাঙ্গারি এক বিবৃতিতে বলেন, ‘কানাডার অভিবাসন ব্যবস্থা সততা, ন্যায়সংগত আচরণ ও আইনের শাসনের ওপর প্রতিষ্ঠিত। প্রতারণার মাধ্যমে সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করলে সংশ্লিষ্টদের কঠিন আইনি পরিণতির মুখে পড়তে হবে।’
পাশাপাশি সিবিএসএ-র কুইবেক অঞ্চলের মহাপরিচালক এরিক লাপিয়েরা জানান, অভিবাসন ব্যবস্থার অপব্যবহারকারী সংঘবদ্ধ চক্র প্রতিরোধে তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
কানাডা অভিবাসন কর্তৃপক্ষের নিয়ম অনুযায়ী, ভিসার আবেদনে কোনো জাল নথি বা মিথ্যা তথ্য প্রদান করা হলে আবেদন বাতিলের পাশাপাশি আবেদনকারীর ওপর ন্যূনতম পাঁচ বছরের প্রবেশ নিষেধাজ্ঞা জারি হতে পারে।
তাই ভিসা নিশ্চিতের প্রলোভনে প্রলুব্ধ না হয়ে বিশ্বস্ত উপায়ে সঠিক তথ্য প্রদানের আহ্বান জানানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, এই ঘটনায় ২০৯ বাংলাদেশি নাগরিকের জন্য জমা দেওয়া ২৪৩টি ভিসার আবেদন তদন্তের আওতায় এসেছে। তবে এর অর্থ এই নয় যে সংশ্লিষ্ট প্রত্যেক আবেদনকারী জালিয়াতিতে জড়িত। একইভাবে, পাঁচজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হলেও আদালতে অপরাধ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তাদের দোষী বলা যায় না।
বাংলাস্কুপ/ডেস্ক/এনআইএন
প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স