ইজারার বিলে শত শত নৌকা, আর্থিক ক্ষতির মুখে চাষী
স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় :
২২-১০-২০২৬ ১১:২২:৩৩ পূর্বাহ্ন
আপডেট সময় :
২২-১০-২০২৬ ১২:০১:৩০ অপরাহ্ন
ছবি : সংগৃহীত
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরে সরকারি ইজারা নেওয়া সাপুটিয়া বিলে বাঁধ নির্মাণের সময় নৌকা নিয়ে শত শত মানুষ মাছ ধরতে নামায় আর্থিক ক্ষতির অভিযোগ তুলেছেন ইজারাদার নিখিল দাস।
তার দাবি, ছয় বছরের ইজারায় প্রতিবছর ১২ লাখ টাকা রাজস্ব দিয়েও তাকে লোকসান গুনতে হচ্ছে। অন্যদিকে স্থানীয়দের বক্তব্য, দীর্ঘদিনের রীতি অনুযায়ী বছরে অন্তত একদিন তারা এই বিলে মাছ ধরার সুযোগ চান।
সরজমিন গিয়ে দেখা যায়, বিজয়নগর উপজেলার চান্দুরা ইউনিয়নের উত্তর পাশে তিতাস নদীর তীরে অবস্থিত সাপুটিয়া বিল। নিখিল দাস তার লোকজন নিয়ে পাটি দিয়ে বাঁধ নির্মাণ করছেন। এ সময় সাপুটিয়া, রসুলপুর, রাজাবাড়িয়াকান্দি, রামপুর ও বৈশামুড়াসহ আশপাশের বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দারা নৌকা ও জাল নিয়ে সেখানে জড়ো হন। কারও হাতে কারেন্ট জাল, কারও হাতে কনই জাল। একপর্যায়ে অনেকে বাঁধের ভেতরে ঢুকে মাছ ধরতে শুরু করেন। একসঙ্গে এত মানুষের উপস্থিতিতে পুরো বিলজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়।
নিখিল দাস বলেন, ছয় বছরের জন্য সরকারিভাবে বিলটি ইজারা নিয়েছেন তিনি এবং প্রতিবছর সরকারি কোষাগারে ১২ লাখ টাকা জমা দিচ্ছেন। তার ভাষ্য, বর্ষা শেষে মাছ সংরক্ষণ, খাবার সরবরাহ ও পরিচর্যায় বিপুল অর্থ ব্যয় করতে হয়। পানি কমতে শুরু করলে মাছ আহরণের সুবিধার্থে পাটির বাঁধ নির্মাণ করা হয়।
তিনি অভিযোগ করেন, সকাল থেকেই অনেকে নৌকা নিয়ে অপেক্ষা করেন এবং বাঁধ নির্মাণ শেষ হওয়ার পরপরই ভেতরে ঢুকে মাছ ধরা শুরু করেন। ফলে পরিকল্পনা অনুযায়ী মাছ সংগ্রহ করা কঠিন হয়ে পড়ে।
নিখিল দাস বলেন, প্রতিবছর এমনটা হচ্ছে। এতে আমার বিনিয়োগ ও প্রত্যাশিত আয় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ পরিস্থিতি নিরসনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর হস্তক্ষেপ চাই।
স্থানীয়দের দাবি, সাপুটিয়া বিল এলাকার মানুষের কাছে দীর্ঘদিনের পরিচিত একটি জলাশয়, যেখানে অনেকের নিজস্ব মালিকানাধীন জমিও রয়েছে। তাদের ভাষ্য, বহু বছর ধরে নির্দিষ্ট সময়ে বছরে একদিন মাছ ধরার প্রচলন রয়েছে। দুপুরে শুরু হওয়া এই কার্যক্রম চলে সারা রাত, এমনকি পরদিন দুপুর পর্যন্ত।
জামির নামে এক স্থানীয় জেলে বলেন, এই বিলের মাছের ওপর এলাকার অনেক গরিব মানুষের জীবিকা নির্ভর করে। বছরে একদিন আমরা মাছ ধরি, এটা বহু বছরের নিয়ম।
নিয়াজ নামে অন্য এক জেলে বলেন, সরকার ইজারা দিয়েছে ঠিক আছে। কিন্তু বছরে অন্তত একদিন আমাদের মাছ ধরার সুযোগ দেওয়া উচিত। এটা শুধু মাছের বিষয় না, আমাদের রীতিও।
এদিকে স্থানীয়দের কাছে বিষয়টি কেবল মাছ আহরণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে সামাজিক রীতি ও জীবিকার প্রশ্ন।
বাংলাস্কুপ/প্রতিনিধি/এনআইএন
প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স