ঢাকা , মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬ , ৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

​চসিকের ২৪ কোটি টাকা লোপাট, তিন কর্মকর্তা কারাগারে

ডেস্ক রিপোর্ট
আপলোড সময় : ২০-১০-২০২৬ ০৪:০৫:৩৭ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ২০-১০-২০২৬ ০৪:০৫:৩৭ অপরাহ্ন
​চসিকের ২৪ কোটি টাকা লোপাট, তিন কর্মকর্তা কারাগারে ​ছবি: সংগৃহীত
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) পোর্ট কানেক্টিং সড়ক সংস্কার ও সম্প্রসারণ প্রকল্পে প্রায় ২৪ কোটি ৫৫ লাখ টাকা আত্মসাতের মামলায় তিন আসামিকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। জাল আমমোক্তারনামা তৈরি, ভুয়া ব্যাংক হিসাব খোলা এবং প্রকল্পের বিলের অর্থ ভিন্ন ব্যাংকে সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগে সোমবার (১৯ অক্টোবর) তারা আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করলে আদালত জামিন না মঞ্জুর করে তাদের জেলে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

কারাগারে পাঠানো আসামিরা হলেন–চসিকের সাবেক প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুদ্দীন, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের (ইউসিবি) সাবেক কুমিল্লা শাখা প্রধান মোহাম্মদ সারোয়ার আলম এবং এনআরবি ব্যাংকের একই শাখার সাবেক প্রধান মোহাম্মদ তোফায়েল।

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চট্টগ্রামের সরকারি কৌঁসুলি মোকাররম হোসেন তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে সংবাদমাধ্যমকে জানান, মামলাটি বর্তমানে অভিযোগ গঠনের শুনানির পর্যায়ে রয়েছে। এ মামলার প্রধান আসামি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স জাকির এন্টারপ্রাইজের মালিক জাকির হোসেন বর্তমানে হাইকোর্ট থেকে জামিনে রয়েছেন।

দুদকের তদন্ত প্রতিবেদন সূত্রে জানা গেছে, পোর্ট কানেক্টিং সড়কের অলংকার মোড় থেকে নিমতলা পর্যন্ত অংশের সংস্কার ও সম্প্রসারণ কাজের কার্যাদেশ পেয়েছিল যৌথ প্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স রানা বিল্ডার্স অ্যান্ড সালেহ আহমেদ (জেভি)’। অভিযোগ রয়েছে, মূল প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আলমের স্বাক্ষর জাল করে একটি ভুয়া আমমোক্তারনামা তৈরি করেন আসামি জাকির হোসেন। ওই দলিলের মাধ্যমে নিজেকে রানা বিল্ডার্সের প্রতিনিধি দাবি করে চসিকের কার্যাদেশ হাতিয়ে নেন তিনি।

পরবর্তী সময়ে ইউসিবি ব্যাংকের কুমিল্লা শাখায় রানা বিল্ডার্সের নামে একটি চলতি হিসাব খুলে ওই হিসাবের বিপরীতে ২০ কোটি টাকা ঋণ নেওয়া হয়, যা সুদসহ দাঁড়ায় ২৪ কোটি ৫৪ লাখ ৯২ হাজার ৮১৯ টাকা। শর্ত ছিল চসিক থেকে পাওয়া প্রকল্পের বিল দিয়ে এই ঋণ পরিশোধ করা হবে। তবে ঋণ পরিশোধ না করে এনআরবি ব্যাংকের কুমিল্লা শাখায় নতুন আরেকটি হিসাব খোলা হয়।

নথি অনুযায়ী, প্রকল্পের বিলের অর্থ ইউসিবির কুমিল্লা শাখায় পাঠানোর বাধ্যবাধকতা থাকলেও চসিকের তৎকালীন প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুদ্দীন অনিয়ম করে এনআরবি ব্যাংকের অনুকূলে ছয়টি চেক ইস্যু করেন। এর মাধ্যমেই প্রকল্পের পুরো অর্থ অন্যত্র সরিয়ে আত্মসাৎ করা হয় বলে দুদকের তদন্তে উঠে এসেছে।

ঘটনায় জালিয়াতি, প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়ায় আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে দুদক। বর্তমানে চট্টগ্রাম আদালতে মামলাটির বিচারিক কার্যক্রম ও অভিযোগ গঠনের শুনানি চলছে।

বাংলাস্কুপ/ডেস্ক/এইচবি/এসকে


প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স



 

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ