এক প্যাকেটে তিন জাতের ধানবীজ, লোকসানে বগুড়ার কৃষক
স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় :
২০-১০-২০২৬ ০২:৫৩:৩২ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
২০-১০-২০২৬ ০২:৫৬:০৪ অপরাহ্ন
ছবি : সংগৃহীত
এক প্যাকেটে তিন জাতের ধানের বীজ থাকায় একই জমিতে কোনো ধান গাছে ধান পেকেছে, কোনোটিতে বেরিয়েছে শীষ, আবার কোনো ধান গাছ এখনো বাড়ছে। বীজের এমন ভিন্নতায় বিপাকে পড়েছেন বগুড়ার গাবতলীর কয়েকটি গ্রামের কৃষক। শতাধিক বিঘা জমিতে ধান চাষ করে এখন লোকসানে স্থানীয় চাষিরা। দায় নিচ্ছে না ডিলার কিংবা বীজ কোম্পানির মালিক।
জমিতে সেচ, কীটনাশকসহ সব ধরনের পরিচর্যা করে ফসল তোলার সময় জানা গেছে ধানের বীজ ছিল মিশ্র ও নিম্নমানের, তাই ফলন বিপর্যয় হচ্ছে। চোখেমুখে হতাশা আর ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার দুশ্চিন্তা নিয়ে জমির আইলে ঘুরছেন বগুড়ার গাবতলী উপজেলার দুর্গাহাটা, ভান্ডারা ও গড়েরবাড়ি এলাকার চাষিরা।
একই জমিতে কোনো গাছের ধান পেকেছে, কোনটিতে বেরিয়েছে শীষ আবার কোনো গাছ এখনো বাড়ছে। শতাধিক বিঘা জমিতে ফলনের এই হাল। চাষিরা বলছেন, ধান চাষাবাদের জন্য স্থানীয় বীজ বিক্রেতার কাছ থেকে সোনালী বীজ কিনেছেন তারা।
চাষিদের মধ্যে একজন বলেন, ‘ধান ফুলিচ্চেনা, ধান ফুলিচ্ছে তিন ভাগে। একটা পাকিচ্ছে, একটা হলো কেবল গামর, আরেকটা ফুলিচ্ছে। পুরাই এক থেকে দেড়শো জমি, এই ক্ষতি কখনো পোষানো সম্ভব না কৃষকের, বীজ ফালানোর পর আমরা ধরতে পারিনি। ভালো কি মন্দ মিশেল কি অমিশেল কিন্তু এখানে যখন শীষ বার হয়, তখন একটা স্তরে নিম্নস্তরে একটা শীষ বার হয় আর উপর স্তরে শীষ বার হয় একটা।’
ধান ঘরে তোলার প্রস্তুতি নেবার কথা কৃষকের। অথচ জমির আইলে হেঁটে ক্ষতির পরিমাণ নির্ণয়ের চেষ্টা করছেন কৃষক। যথাযথ ক্ষতিপূরণ চান তারা।
কৃষকদের মধ্যে একজন বলেন, ‘এ ধরনের ধান সমস্ত জমিতে আপনি যতগুলো জমি দেখবেন, এই চোরার ভেতরে একশো বিঘা পারাইয়া যাবি। এই জমিগুলো যেকোনো একটা সরকারি একটা পদক্ষেপ নিয়া এই জমিগুলো কৃষকের একটা বাঁচার মতো ব্যবস্থা করে দেয়া লাগবি।’
একাধিক বীজ মিশ্রিত বীজের প্যাকেট বিক্রির কথা স্বীকার করে বেলাল বীজ ভান্ডারের সত্ত্বাধিকারী জানান, তার বিক্রীত বীজগুলো শহরের সোনালী বীজ ভান্ডার থেকে নেয়া।
বেলাল বীজ ভান্ডারের স্বত্বাধিকারী আব্দুল মতিন বলেন, ‘মিক্সার বাড়ায়, টুকটাক একটু অল্প। এর আগেও আমি প্রায় ৩০-৩৫ বছর ইয়া বীজের ব্যবসা করি। কিন্তু আমি বিএডিসির একজন বীজ ডিলার। তা এইডা এখন এই ধানটা এইডা কাটারি ধান, লোকাল ধান। এর কোনো সরকারি কোনো ইয়ে না, অনুমতি নাই প্যাকেট করার। এটা লোকাল ধান, এটা এখন বিভিন্ন বীজ কোম্পানি তারা প্যাকেট করে বিক্রি করে, আমরা নিয়ে এসে বিক্রি করছি।’
এদিকে একাধিক জাতের ধানের বীজ এক প্যাকেটে বিক্রয় করার দোষ মনে না করলেও সোনালী বীজ ভান্ডারের পরিচালক মনে করেন কৃষক কাটারী জাতের ধান চাষ করে ভুল করেছেন।
সোনালী বীজ ভান্ডারের পরিচালক বেলাল উদ্দীন বলেন, ‘দুই একটা ধানের মধ্যে এরকম উঁচা-নিচু থাকেই। আমরা কৃষককে অনিশ্চয়তা করি যে আমন ধানের সময় এই ধান লাগাবে না। আবহাওয়া জনিত কারণে এরকম হয়ে যায় গাছ ছোট-বড় হয়, তখন একটা আগে বাড়ায়, একটা পিছে বাড়ায়, এরকম হয় কিছু।’
মিশ্র জাতের ধান চাষে কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হলেও তা ক্ষতি হিসেবে আমলে নেয়নি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। তবে কৃষকের লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেবে বীজ প্রত্যয়ন এজেন্সি, জানান কর্মকর্তা।
বগুড়া গাবতলীর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘কৃষকরা যদি এটা অভিযোগ দায়ের করেন লিখিত অভিযোগ এবং প্রমাণাদিসহ যেখান থেকে এই বীজটা কিনেছেন, সেটার প্যাকেট এবং ভাউচারসহ যদি লিখিত অভিযোগ করেন, আমাদের সাধারণত বগুড়া জেলায় বীজ প্রত্যয়ন এজেন্সি আছে, তারা যেহেতু বীজ নিয়ে তারা কাজ করেন, সেখানেও যদি লিখিত অভিযোগ করেন, তাহলে এটা আমলে নিয়ে সরেজমিন তদন্তপূর্বক আইনানুগ যে ব্যবস্থা নেওয়া দরকার এটা গ্রহণ করা হবে।’
এই মৌসুমে ধানের আবাদে বিঘা প্রতি বীজ ও সার বাবদ কৃষকের খরচ হয়েছে প্রায় ৫০০০ টাকা।
বাংলাস্কুপ/প্রতিনিধি/এনআইএন
প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স