উৎপাদন ব্যয় বাড়ায় অনিশ্চয়তায় ফরিদপুরের পেঁয়াজ চাষি
স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় :
২০-১০-২০২৬ ০২:৫০:৫৬ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
২০-১০-২০২৬ ০২:৫০:৫৬ অপরাহ্ন
ছবি : সংগৃহীত
শীত মৌসুমে বাজার স্থিতিশীল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে ফরিদপুর ও পাবনা অঞ্চলে উৎপাদিত মুড়িকাটা পেঁয়াজ। বর্ষার পানি নেমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আবাদ নিয়ে ব্যস্ত হন চাষিরা। তবে সার ও জ্বালানির সংকট, শ্রমিকের বাড়তি মজুরি এবং উৎপাদন উপকরণের বাড়তি দামে, বাড়ছে উৎপাদন ব্যয়। অন্যদিকে, বেশি দাম দিয়েও চাহিদামতো ডিএপি সার পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ কৃষকদের। এতে খরচ বাড়ার পাশাপাশি লাভ নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন পেঁয়াজ চাষিরা।
মুড়িকাটা পেঁয়াজের বীজ সংগ্রহ, জমি তৈরি আর রোপণের কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন ফরিদপুরের কৃষকরা। শীত মৌসুমে পেঁয়াজের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এই আগাম উৎপাদন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কিন্তু উৎপাদন ব্যয়ের চাপ, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বাড়িয়েছে। চাষিদের অভিযোগ, প্রয়োজনের তুলনায় সার সরবরাহ কম। ডিএপি সার বস্তাপ্রতি সরকারি নির্ধারিত ১ হাজার ৫০ টাকায় পাওয়ার কথা থাকলেও ১ হাজার ৬০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকা দিয়েও চাহিদামতো সার মিলছে না বলে দাবি তাদের।
পেঁয়াজ চাষিরা জানান, বর্তমানে সারের দাম বেশি ফলে পর্যাপ্ত পরিমাণে জমিতে সার দেয়া হচ্ছে না। তেলের দাম বেশি সব কিছু তাদের নাগালের বাহিরে।
শুধু সার নয়, বেড়েছে জ্বালানি ও শ্রমিকের খরচও। জমি প্রস্তুত, সেচ, রোপণ এবং ফসল তোলাসহ সব ধাপে বাড়তি অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে কৃষকদের। একই সঙ্গে মুড়িকাটা পেঁয়াজের গুটি কিনতে হচ্ছে মণপ্রতি ২ হাজার ৬০০ থেকে ২ হাজার ৭০০ টাকা দরে।
আনুষঙ্গিক জিনিসের দাম বাড়লেও বিক্রয়মূল্য সেই অনুপাতে বাড়ছে না। ফলে বাড়তি বিনিয়োগ করেও কাঙ্ক্ষিত মুনাফা নিশ্চিত করা হচ্ছে না। কোনো কারণে ফলন কম কিংবা দাম পড়ে গেলে লোকসানের আশঙ্কা আরও বেড়ে যায়।
ফরিদপুর ও পাবনা অঞ্চলের মুড়িকাটা পেঁয়াজ শীত মৌসুমে বাজারে সরবরাহ বাড়াতে সহায়তা করে। এ সময় দেশের অন্যান্য অঞ্চলে পেঁয়াজের সরবরাহ তুলনামূলক কম থাকায় আগাম উৎপাদিত এই পেঁয়াজ বাজারের চাহিদা মেটাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এর উৎপাদন ব্যাহত হলে সরবরাহ ও বাজারদরের ওপরও প্রভাব পড়ে।
ফরিদপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহাদুজ্জামান বলেন, ‘কৃষকদের মুড়িকাটা পেঁয়াজ লাগাতে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। রাসায়নিক সারের পাশাপাশি জৈব সার ব্যবহারে উৎসাহ দেয়া হচ্ছে।’
চলতি খরিপ-২ মৌসুমে পেঁয়াজ আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ৫ হাজার ৮৮৫ হেক্টর জমিতে। তবে এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের পাশাপাশি কৃষকের উৎপাদন ব্যয়, সার সরবরাহ এবং বাজারজাতকরণের সমস্যাগুলো সমাধান করাও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
বাংলাস্কুপ/প্রতিনিধি/এনআইএন
প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স