নাটোরে বাস-ট্রাক সংঘর্ষ
‘অতিরিক্ত যাত্রী ও দ্রুতগতিতেই দুর্ঘটনা’—বাসযাত্রীর দাবি
স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় :
২০-১০-২০২৬ ১২:০০:৪৩ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
২০-১০-২০২৬ ১২:৫২:১৭ অপরাহ্ন
ছবি : সংগৃহীত
নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলায় যাত্রীবাহী বাস ও বালুবোঝাই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে ১৪ জন নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) ভোররাতে নাটোর-পাবনা মহাসড়কের বনপাড়ায় জাহেদা ক্লিনিকের সামনে ঘটা দুর্ঘটানায় অনেকে আহত হয়েছেন। দুর্ঘটনাকবলিত বাসের যাত্রী আব্দুস সালামের দাবি, ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে খুবই দ্রুতগতিতে চলছিল বাসটি। এ কারণে দুর্ঘটনাটি ঘটে থাকতে পারে বলে মনে করেন তিনি।
আব্দুস সালাম জানান, বাসটি পটুয়াখালীর কুয়াকাটা থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ যাচ্ছিল। তিনি মাদারীপুরের মোস্তাকপুর থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ যাওয়ার উদ্দেশ্যে রাত ৯টার দিকে বাসে ওঠেন। তার আসন ছিল বাসের পেছনের দিকে।
তিনি বলেন, বাসটির সব আসন পূর্ণ থাকার পরও অতিরিক্ত যাত্রী বহন করা হচ্ছিল। অনেক যাত্রী দাঁড়িয়ে ছিলেন। যাত্রীদের চাপে বাসের ভেতরে স্বাভাবিকভাবে চলাচলেরও জায়গা ছিল না। বাসটি দ্রুতগতিতে চলছিল এবং চালক মাঝেমধ্যে জোরে ব্রেক করছিলেন। এতে যাত্রীরা আসন থেকে ছিটকে পড়ছিলেন বলে তিনি অভিযোগ করেন।
তার দাবি, বাসে অতিরিক্ত যাত্রী বহন এবং দ্রুতগতিতে চলাচলের কারণে দুর্ঘটনাটি ঘটে থাকতে পারে। তবে, এ অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।
উদ্ধারকাজে এগিয়ে আসেন স্থানীয়রা
প্রত্যক্ষদর্শী সজল মাহমুদ জানান, দুর্ঘটনার পর তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে বাসটির ভেতরে যাত্রীদের গাদাগাদি অবস্থায় দেখতে পান। পরে হতাহতদের উদ্ধারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে আসেন এবং উদ্ধারকাজে সহযোগিতা করেন। দুর্ঘটনার ভয়াবহতায় ঘটনাস্থলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়।
নিহতদের পরিচয় শনাক্তে কাজ করছে পুলিশ
নিহতদের মধ্যে শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার কাজীরহাট গ্রামের ইউনুস আলীর ছেলে সোহাগ হোসেন (৩০) নামে একজনের পরিচয় শনাক্ত হয়েছে। অন্য নিহতদের পরিচয় শনাক্তে কাজ করছে পুলিশ।
বনপাড়া হাইওয়ে থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আলমগীর হোসেন জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে কাজ শুরু করে। ঘটনাস্থল থেকে ১০ জনের মরদেহ উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। আহতদের উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে। পরে হাসপাতালে আরো কয়েকজনের মৃত্যু হয়।
ঘটনাস্থল পরিদর্শনে হুইপ, জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন জাতীয় সংসদের হুইপ অ্যাডভোকেট এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, নাটোরের জেলা প্রশাসক মোছা. সুমনী আক্তার এবং পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শরীফুল হক। তারা পরিস্থিতির খোঁজখবর নেন। এ সময় দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি গুরুত্ব পায়।
জেলা প্রশাসক মোছা. সুমনী আক্তার জানান, দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে তদন্ত কমিটি গঠনসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সড়কে নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি
বনপাড়ায় বাস-ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে ১৪ জনের প্রাণহানি ও অন্তত ২০ জন আহত হওয়ার ঘটনায় এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। দুর্ঘটনাকবলিত বাসে অতিরিক্ত যাত্রী বহন ও দ্রুতগতির অভিযোগ নতুন করে সড়ক নিরাপত্তার বিষয়টি সামনে এনেছে।
রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এম এম আরিফুল ইসলাম বলেন, দুর্ঘটনার কারণ নির্ধারণে যানবাহনের গতি, যাত্রীসংখ্যা, চালকের ভূমিকা, সড়কের পরিস্থিতি এবং যানবাহনের যান্ত্রিক অবস্থা খতিয়ে দেখা জরুরি। তবে, এ দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।
নিহতদের পরিচয় শনাক্ত, আহতদের চিকিৎসা এবং দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে কার্যক্রম চলছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এমন প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা এড়াতে যানবাহনে অতিরিক্ত যাত্রী বহন বন্ধ, নিরাপদ গতিসীমা মেনে চলা এবং সড়কে আইন প্রয়োগ জোরদারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
বাংলাস্কুপ/প্রতিনিধি/এনআইএন
প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স