আগামী ১ এপ্রিল থেকে জাপানে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ শুরু
স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় :
১৯-১০-২০২৬ ১০:৫২:৩৮ পূর্বাহ্ন
আপডেট সময় :
১৯-১০-২০২৬ ১২:৩৭:৪৯ অপরাহ্ন
ফাইল ছবি
বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে কর্মসংস্থান সংক্রান্ত ইএসডিপি-এমওসি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই চুক্তির আওতায় ২০২৭ সালের ১ এপ্রিল থেকে পূর্ব-এশিয়ার দেশটিতে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ শুরু হবে। সোমবার (১৯ অক্টোবর) চুক্তি সই ও কর্মী নিয়োগের বিষয়টি জানিয়েছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়।
এর আগে রোববার (১৭ অক্টোবর) প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং জাপান সরকারের প্রায় এক বছরের দীর্ঘ প্রচেষ্টার ফলস্বরূপ উভয় দেশের মধ্যে কর্মসংস্থান সংক্রান্ত একটি নতুন চুক্তি ইএসডিপি-এমওসি (মেমোরেন্ডাম অব কো-অপারেশন অন এমপ্লয়মেন্ট স্কিলস ডেভেলপমেন্ট) চূড়ান্তভাবে স্বাক্ষরিত হয়। বাংলাদেশের পক্ষে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং জাপানের পক্ষে দেশটির মিনিস্ট্রি অব জাস্টিস, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য, শ্রম ও কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং ন্যাশনাল পুলিশ এজেন্সির প্রতিনিধিরা এই চুক্তিতে সই করেন।
বর্তমান সরকারের বৈদেশিক কর্মসংস্থান সম্প্রসারণের ইতিহাসে এটি একটি অন্যতম মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন জাপান সফরের সময় এই চুক্তির কপি আনুষ্ঠানিকভাবে উভয় পক্ষের মধ্যে হস্তান্তর করা হবে।
এই চুক্তির অধীনে ২০২৭ সালের ১ এপ্রিল থেকে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ শুরু করবে জাপান। চুক্তির প্রাথমিক মেয়াদ ৫ বছর। আর মেয়াদ শেষে এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে আরও ৫ বছরের জন্য বৃদ্ধি পাবে, ফলে সামগ্রিক মেয়াদ দাঁড়াবে ১০ বছর। ঐতিহাসিক এই চুক্তির ফলে বাংলাদেশি কর্মীরা জাপানে অভূতপূর্ব সুযোগ ও সুরক্ষা লাভ করবেন।
চুক্তির মূল সুবিধাগুলো তুলে ধরে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, কর্মীদের সর্বোচ্চ সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং কর্মী প্রেরণ ও গ্রহণের ক্ষেত্রে উভয় পক্ষের মধ্যে সহযোগিতা আরও জোরদার করা হবে। পাশাপাশি কর্মসংস্থানের মাধ্যমে বাংলাদেশি নাগরিকদের দক্ষতা উন্নয়ন ঘটবে। এর ফলে কর্মীরা উচ্চ বেতন এবং জাপানে দীর্ঘমেয়াদী বসবাসের সুযোগ পাবেন।
মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, এই চুক্তির আওতায় কর্মীরা জাপানি স্থানীয় শ্রমিকদের সমতুল্য আইনি সুরক্ষাপ্রাপ্ত হবেন এবং কর্মক্ষেত্রে নারী-পুরুষ সমান সুযোগ পাবেন। বিশেষ করে নারী বিদেশি কর্মীদের প্রতি গর্ভাবস্থা বা সন্তান জন্মদানের কারণে কোনো ধরনের চাকরিচ্যুত বা বৈষম্যমূলক আচরণ করা যাবে না। তাই গর্ভধারণ বা সন্তান প্রসূতির কারণে জোরপূর্বক দেশে ফেরত পাঠানোর কোনো বাধ্যবাধকতামূলক বিধান এই চুক্তিতে রাখা হয়নি।
এই চুক্তি বাস্তবায়নের মাধ্যমে দু’দেশের বন্ধুত্বের সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হওয়ার পাশাপাশি বাংলাদেশের দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নের পথ আরও প্রশস্ত হবে বলে আশা প্রকাশ করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বাংলাস্কুপ/প্রতিবেদক/এনআইএন
প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স