ঢাকা , রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬ , ৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

টুপটুপ রিসোর্টে আগুন, স্ত্রী-দুই মেয়েসহ নিখোঁজ যশোরের নাহিদুর

স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় : ১৮-১০-২০২৬ ১১:৪৪:৪৬ পূর্বাহ্ন
আপডেট সময় : ১৮-১০-২০২৬ ১১:৪৪:৪৬ পূর্বাহ্ন
টুপটুপ রিসোর্টে আগুন, স্ত্রী-দুই মেয়েসহ নিখোঁজ যশোরের নাহিদুর ফাইল ছবি
কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীতে টুপটুপ রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর স্ত্রী ও দুই শিশুকন্যাসহ নিখোঁজ রয়েছেন যশোরের নাহিদুর রহমান। ঘটনার পর থেকে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পেরে উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন স্বজনেরা। নিখোঁজ চারজনের ভাগ্যে কী ঘটেছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
 
নিখোঁজ নাহিদুর রহমান (৪১) যশোরের মণিরামপুর পৌরসভার মোহনপুর গ্রামের মতিয়ার রহমানের ছেলে। তাঁর স্ত্রী আফসানা মতিন তানজি (৩৬)। তাঁদের দুই মেয়ে রুজাইনা ইনায়ার বয়স সাত বছর এবং সুনাইনা ইহানার বয়স তিন বছর।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, নাহিদুর ঢাকার শ্যামলীতে অবস্থিত গ্র্যান্ড পাওয়ার লিমিটেড নামের একটি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন। স্ত্রী ও দুই মেয়েকে নিয়ে তিনি রাজধানীর মিরপুরের শ্যাওড়াপাড়ায় বসবাস করতেন।

নাহিদুরের বড় ভাই জাহিদুর রহমান প্রিন্স জানান, কক্সবাজারের ইনানীতে অবস্থিত রিসোর্টটিতে ১৬ থেকে ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত থাকার জন্য বুকিং দিয়েছিলেন তাঁর ভাই। ১১ অক্টোবর বুকিং সম্পন্ন করা হয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ১৮ অক্টোবর দুপুর ১টার দিকে তাঁদের রিসোর্ট ছেড়ে যাওয়ার কথা ছিল।

জাহিদুর জানান, নাহিদুর তাঁকে শুক্রবার কক্সবাজার যাওয়ার কথা জানিয়েছিলেন। শনিবার রিসোর্টে আগুন লাগার খবর পাওয়ার পর তিনি ভাইয়ের মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। কিন্তু নাহিদুর কিংবা তাঁর পরিবারের কারও সঙ্গে কথা বলতে পারেননি।

পরিবারের সদস্যদের কোনো খোঁজ না পেয়ে উদ্বিগ্ন জাহিদুর শনিবার সন্ধ্যায় কক্সবাজারের উদ্দেশে রওনা হন। স্বজন ও পরিচিতজনেরাও তাঁদের সন্ধানে বিভিন্ন জায়গায় যোগাযোগ করছেন।

জাহিদুর রহমান বলেন, তাঁরা দুই ভাই। তাঁদের মা নেই। অসুস্থ বাবা গ্রামের বাড়িতে তাঁদের সঙ্গে থাকেন। নাহিদুরের নিখোঁজ হওয়ার খবর এখনো বাবাকে জানানো হয়নি। পরিবারের সদস্যদের জীবিত থাকার বিষয়ে কোনো নিশ্চিত তথ্য না পাওয়ায় তাঁরা দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।

নাহিদুর মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়টির ক্রিমিনোলজি অ্যান্ড পুলিশ সায়েন্স বিভাগে পড়াশোনা করেছেন তিনি।

এদিকে নাহিদুর ও তাঁর পরিবারের নিখোঁজ হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর মণিরামপুরের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁদের ছবি প্রকাশ করে সন্ধান চেয়েছেন।

নিখোঁজদের বিষয়ে জানতে চাইলে কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অহিদুর রহমান জানান, নাহিদ নামে একজনের নিখোঁজ থাকার তথ্য তারা পেয়েছেন। এ ছাড়া আরও কয়েকজনের পরিচয় নিশ্চিত করার প্রক্রিয়া চলছে।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ছয়জন নিখোঁজ ব্যক্তির পরিচয় সম্পর্কে তথ্য পাওয়া গেছে। বাকি চারজনের পরিচয় এখনো নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলোর পরিচয় শনাক্তে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে। নিখোঁজ নাহিদুরের পরিবারের সদস্যরা ওই মরদেহগুলোর মধ্যে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে পরীক্ষা ও শনাক্তকরণ সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না।

শনিবার সকালে উখিয়ার মেরিন ড্রাইভের ইনানী এলাকার পাটুয়ার টেকের টুপটুপ রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড রিসোর্টে আগুন লাগে। এ ঘটনায় ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে একই পরিবারের ছয়জন রয়েছেন বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।

পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, সকাল সাড়ে ৬টার দিকে আগুনের সূত্রপাত হয়। প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় সকাল সাড়ে ৮টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়।

ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা মরদেহগুলো আগুনে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। এ কারণে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নাহিদুর রহমান, তাঁর স্ত্রী ও দুই মেয়ের বিষয়ে চূড়ান্ত তথ্য পেতে এখন সেই শনাক্তকরণ প্রক্রিয়ার দিকেই তাকিয়ে আছেন স্বজনেরা।
 
বাংলাস্কুপ/প্রতিনিধি/এনআইএন 
 


প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স



 

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ