ঢাকা , শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬ , ২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতে আশার আলো দেখছে সরকার

স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় : ১৭-১০-২০২৬ ০৪:২২:৫৫ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ১৭-১০-২০২৬ ০৪:২২:৫৫ অপরাহ্ন
ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতে আশার আলো দেখছে সরকার ফাইল ছবি
জাতীয়ভাবে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে আশার বলো দেখছে সরকার। ওই বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে তিন হাজার থেকে চার হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এর মাধ্যমে বর্তমান বৈদ্যুতিক ও জ্বালানি সংকট মোকাবেলার পাশাপাশি সরকারি দপ্তরের বিদ্যুতের চাহিদা পূরণ এবং জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সরকারের এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে নিজস্ব দপ্তরের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি জেলা ও উপজেলার সরকারি দপ্তরে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনে প্রাথমিক কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।

এরই অংশ হিসেবে সরকারি দপ্তরের ছাদে সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনে বিশেষ প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে বিদ্যুৎ বিভাগ।

এ প্যাকেজের আওতায় আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৭-এর মধ্যে সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করে উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ টাকা ৫০ পয়সা।

নির্দেশিকা অনুযায়ি, মেয়াদকালীন এ বিশেষ মূল্যসুবিধা ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০৩০ পর্যন্ত (পরবর্তী তিন বছর) প্রযোজ্য থাকবে। এ ক্ষেত্রে ভ্যাট ৫ শতাংশ এবং প্রযোজ্য অন্যান্য শর্ত প্রণোদনা প্যাকেজের নির্দেশিকা অনুযায়ী কার্যকর হবে।

বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান অনুযায়ী, দিনে গড়ে ৪.৫ থেকে ৫ ঘণ্টা পর্যন্ত পূর্ণমাত্রায় সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে।

জেলা পর্যায়ের সরকারি দপ্তরপ্রধানদের নিয়ে অনুষ্ঠিত এক বিশেষ সভায় সরকারি কার্যালয়ের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের বিস্তারিত নির্দেশিকা, ছক ও কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরা হচ্ছে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সরকারি ভবনের ছাদ ব্যবহার করে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানো গেলে প্রচলিত জ্বালানির ওপর চাপ কমবে। পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি ও পরিবেশবান্ধব সরকারি কার্যালয় গড়ে তোলার পথ সুগম হবে।

শনিবার ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে রুফটপ সোলার স্থাপন বিষয়ে জেলার দপ্তরপ্রধানদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এ বিষয়ে তথ্য উপস্থাপন করা হয়। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এবং জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় এ সভার আয়োজন করা হয়।

সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বিদ্যুৎ বিভাগের যুগ্ম সচিব ড. মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন। তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী আগামী পাঁচ বছরে বিকল্প জ্বালানির ব্যবহার বাড়িয়ে সৌরবিদ্যুৎ থেকে জাতীয় গ্রিডে সাড়ে পাঁচ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এ জন্য সরকারি-বেসরকারি ভবনের ছাদে সোলার প্যানেল স্থাপনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়াতে হবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে বিকল্প জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর বিকল্প নেই। দেশের সীমিত সম্পদ দিয়ে জ্বালানির চাহিদা পূরণ এবং এ খাতে ক্রমবর্ধমান ভর্তুকির চাপ কমাতে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানো জরুরি। এ উদ্যোগ সফল করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে কাজ করতে হবে। সোলার প্যানেল স্থাপন ও রক্ষণাবেক্ষণের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে জনস্বার্থে এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে হবে।’ এ জন্য তিনি জেলার সব দপ্তরপ্রধানের সহযোগিতা কামনা করেন।

জেলা প্রশাসক মো. আবুসাঈদের সভাপতিত্বে এতে বিদ্যুৎ বিভাগের পরিকল্পনা-২ শাখার উপসচিব জেসমিন সুলতানাসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন। সভা সঞ্চালনা করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) রঞ্জন চন্দ্র দে।

সভায় জানানো হয়, জেলা ও উপজেলা বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনা ও সাশ্রয় সমন্বয় কমিটি এবং ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ কর্মসূচি বাস্তবায়ন কমিটির সমন্বয়ে বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থার স্থানীয় কার্যালয়গুলো প্রয়োজনীয় সহায়তা দেবে। সভায় জেলার বিভিন্ন দপ্তরপ্রধান তাঁদের মতামত তুলে ধরেন।
 
বাংলাস্কুপ/প্রতিনিধি/এনআইএন 
 


প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স



 

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ