ঢাকা , শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬ , ১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

​নারী কেন পুরুষের চেয়ে বেশি কথা বলেন, গবেষণায় মিলল নতুন তথ্য

ডেস্ক রিপোর্ট
আপলোড সময় : ১৬-১০-২০২৬ ০৪:১২:১১ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ১৬-১০-২০২৬ ০৪:১২:১১ অপরাহ্ন
​নারী কেন পুরুষের চেয়ে বেশি কথা বলেন, গবেষণায় মিলল নতুন তথ্য ​ছবি: সংগৃহীত
নারীরা পুরুষদের তুলনায় বেশি কথা বলেন—এমন ধারণা দীর্ঘদিন ধরেই সমাজে প্রচলিত। তবে এই ধারণা সব বয়সের ক্ষেত্রে সত্য নয়। নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, জীবনের একটি নির্দিষ্ট বয়সসীমায় নারীরা পুরুষদের তুলনায় গড়ে বেশি কথা বলেন। তবে অন্য বয়সে নারী-পুরুষের কথাবলার পরিমাণে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য পাওয়া যায়নি।

যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের নেতৃত্বে পরিচালিত এ গবেষণায় চারটি দেশের প্রায় ২ হাজার ১৯৭ জন অংশগ্রহণকারীর তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে। ১৪ বছর ধরে সংগৃহীত এসব তথ্যের মধ্যে ছিল দৈনন্দিন কথোপকথনের অডিও নমুনা।

গবেষণায় মোট ৬ লাখ ৩১ হাজার ৩০টি অডিও ক্লিপ বিশ্লেষণ করা হয়। এতে দেখা যায়, ২৫ থেকে ৬৪ বছর বয়সী নারীরা পুরুষদের তুলনায় প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৩ হাজার ২৭৫টি শব্দ বেশি ব্যবহার করেন। সময়ের হিসাবে এই ব্যবধান প্রতিদিন প্রায় ২০ মিনিটের কথোপকথনের সমান।

এর বাইরে অন্যান্য বয়সসীমায় নারী ও পুরুষের কথা বলার পরিমাণে তেমন উল্লেখযোগ্য পার্থক্য পাওয়া যায়নি।

কেন এই বয়সে নারীরা বেশি কথা বলেন?

গবেষকেরা বলছেন, নারীদের বেশি কথা বলার পেছনে নির্দিষ্ট কোনো কারণ গবেষণার তথ্য থেকে নিশ্চিত করা যায়নি। তবে এর সম্ভাব্য ব্যাখ্যা হিসেবে সন্তান লালন-পালন ও পারিবারিক দায়িত্বের বিষয়টি উঠে এসেছে।

সামাজিক বাস্তবতায় অনেক ক্ষেত্রে সন্তানদের যত্ন নেওয়া ও তাদের সঙ্গে যোগাযোগের বড় অংশ নারীদের সামলাতে হয়। ফলে এ বয়সে তাঁদের দৈনন্দিন কথোপকথনের পরিমাণ বাড়তে পারে বলে ধারণা করছেন গবেষকেরা।

গবেষকদলের মনোবিজ্ঞানী ম্যাথিয়াস মেহলের মতে, এই পার্থক্যের পেছনে হরমোনজনিত কোনো কারণ থাকলে বয়ঃসন্ধির পর থেকেই নারী-পুরুষের মধ্যে বড় ব্যবধান দেখা যাওয়ার কথা। একইভাবে সামাজিক বা প্রজন্মগত পরিবর্তনই প্রধান কারণ হলে বয়স্কদের মধ্যেও ব্যবধান বাড়ার প্রবণতা থাকার কথা। কিন্তু গবেষণায় তেমন চিত্র পাওয়া যায়নি।

ব্যক্তি ভেদে কথাবলার পার্থক্য অনেক

গবেষণায় দেখা গেছে, নারী-পুরুষের গড় হিসাবের বাইরেও ব্যক্তিভেদে কথা বলার পরিমাণে ব্যাপক পার্থক্য রয়েছে।

অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে সবচেয়ে কম কথা বলা ব্যক্তি ছিলেন একজন পুরুষ, যিনি দিনে মাত্র ৬২টি শব্দ বলতেন। অন্যদিকে, সবচেয়ে বেশি কথা বলা ব্যক্তিও ছিলেন একজন পুরুষ। তিনি প্রতিদিন ১ লাখ ২৪ হাজার ১৩৪টি শব্দ ব্যবহার করতেন।

এ তথ্য থেকে বোঝা যায়, শুধু নারী বা পুরুষ পরিচয়ের ভিত্তিতে কারও কথা বলার প্রবণতা নির্ধারণ করা যায় না। ব্যক্তিগত অভ্যাস, জীবনযাপন ও সামাজিক পরিবেশও এ ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে পারে।

স্ক্রিনে সময় বাড়ায় কমছে কথাবার্তা?

গবেষণায় আরও উঠে এসেছে, বয়স ও লিঙ্গনির্বিশেষে মানুষের সামগ্রিক কথাবলার পরিমাণ কমে যাওয়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। গবেষকদের ধারণা, মোবাইল ফোন, কম্পিউটার ও অন্যান্য ডিজিটাল পর্দায় সময় কাটানোর প্রবণতা বৃদ্ধির সঙ্গে এর সম্পর্ক থাকতে পারে। তবে এ সম্পর্কের কারণ নিশ্চিত করতে আরও গবেষণা প্রয়োজন।

গবেষকেরা মনে করেন, মানুষের সুস্থ জীবনের জন্য সামাজিক যোগাযোগ ও পারস্পরিক কথোপকথন গুরুত্বপূর্ণ। শারীরিক কার্যকলাপ ও পর্যাপ্ত ঘুমের মতো মানুষের সঙ্গে মেলামেশাও সুস্থ জীবনযাপনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।

গবেষণার ফলাফল তাই প্রচলিত ধারণাকে নতুনভাবে ভাবার সুযোগ দিচ্ছে। তবে নারী-পুরুষের কথা বলার প্রবণতা নিয়ে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে হলে বয়স, ব্যক্তিগত অভ্যাস ও সামাজিক পরিস্থিতির মতো বিষয়গুলোও বিবেচনায় রাখা জরুরি।

বাংলাস্কুপ/ডেস্ক/এইচবি/এসকে


প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স



 

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ