ঢাকা , শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬ , ১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বেড়েছে চালের দাম: ট্রাকভাড়ার অজুহাতে বাড়ছে নিত্যপণ্যের মূল্য

স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় : ১৬-১০-২০২৬ ০৩:০২:২৮ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ১৬-১০-২০২৬ ০৩:৪৩:১৮ অপরাহ্ন
বেড়েছে চালের দাম:   ট্রাকভাড়ার অজুহাতে বাড়ছে নিত্যপণ্যের মূল্য ফাইল ছবি
ট্রাকভাড়া বৃদ্ধির কথা বলে চালের দাম বাড়িয়েছেন ব্যবসায়ীরা। এক সপ্তাহের ব্যবধানে আটাশ, মিনিকেট ও পাইজাম চালের কেজিতে এক থেকে দুই টাকা পর্যন্ত দাম বেড়েছে। পাশাপাশি টমেটো, শিম ও কাঁচা মরিচের মতো কয়েকটি সবজিও বিক্রি হচ্ছে চড়া দামে। তবে মোটা চালের পাশাপাশি তেল, চিনি ও ডিমের দাম রয়েছে স্থিতিশীল।

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) রাজধানীর মিরপুর ৬, কাজীপাড়া, শেওড়াপাড়া ও আগারগাঁও এলাকার বাজার ঘুরে দেখা যায়, আটাশ চাল প্রতি কেজি ৬৩ থেকে ৬৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। গত সপ্তাহে এই চালের দাম ছিল ৬২ থেকে ৬৩ টাকা। মিনিকেট চালের কেজি ৭৫ টাকা, যা আগের সপ্তাহের তুলনায় দুই টাকা বেশি। অন্যদিকে, পাইজাম চালের দাম কেজিতে দুই টাকা বেড়ে ৬০ টাকায় উঠেছে। তবে গুটি স্বর্ণাসহ অন্যান্য মোটা চাল প্রতি কেজি ৫০ থেকে ৫৫ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে।

ব্যবসায়ীদের দাবি, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় চাল পরিবহনে ট্রাকভাড়া বেড়েছে। পাশাপাশি ধানের দাম বৃদ্ধি ও মৌসুমি প্রভাবও চালের বাজারে পড়েছে। এসব কারণে গত এক সপ্তাহে বিভিন্ন ধরনের চালের দাম বেড়েছে।

মালিবাগ বাজারের চাল ব্যবসায়ী চিশতি বলেন, পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় কয়েক ধরনের চালের প্রতি বস্তায় ৫০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত দাম বেড়েছে।

তবে পরিবহন খরচ বৃদ্ধির কারণে চালের দাম বাড়ার যে ব্যাখ্যা ব্যবসায়ীরা দিচ্ছেন, তার প্রভাব খুচরা পর্যায়ে কতটা পড়েছে, তা নিশ্চিতভাবে নির্ধারণের মতো তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে চালের দাম বৃদ্ধির পেছনে পরিবহন ব্যয়ের পাশাপাশি ধানের দাম ও অন্যান্য কারণের প্রভাবও বিবেচনায় রাখার সুযোগ রয়েছে।

মিরপুর ৬ এলাকার চাল ব্যবসায়ী মোশারফ সিকদার বলেন, গত সপ্তাহের তুলনায় কয়েক ধরনের চালের দাম বেড়েছে। মিল থেকে আগের চেয়ে বেশি দামে চাল কিনতে হচ্ছে। এর সঙ্গে ট্রাকভাড়া ও পরিবহন খরচ বেড়েছে। ফলে বেশি দামে চাল কিনে বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। তবে সব ধরনের চালের দাম বাড়েনি। মোটা চালের দাম আগের মতোই রয়েছে।

ক্রেতারা বলছেন, চালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ায় সংসারের খরচ সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। আয় না বাড়লেও প্রতিদিনের বাজার খরচ বাড়ছে। বিশেষ করে চালের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়লে সংসারের অন্য খরচ কমিয়ে চলতে হয়। তাই বাজারে চালের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

চালের বাজারে দেখা হয় নার্গিস বেগমের সঙ্গে। তিনি বলেন, গত সপ্তাহের তুলনায় কয়েক ধরনের চালের দাম বেড়েছে। এতে সংসারের বাজার খরচ বেড়ে গেছে। আগে যে পরিমাণ চাল কিনতে যে টাকা লাগত, এখন একই পরিমাণ চাল কিনতে বেশি টাকা খরচ হচ্ছে। চালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখা দরকার।

চালের পাশাপাশি সবজির বাজারেও ক্রেতাদের বাড়তি টাকা গুনতে হচ্ছে। বাজারে বেগুন প্রতি কেজি ৭০ থেকে ৮০ টাকা, শিম ১২০ থেকে ১৬০ টাকা এবং টমেটো ১২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। পটোল ও ঢেঁড়শের কেজি ৫০ থেকে ৬০ টাকা। কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকা কেজি দরে। তবে পেঁপের দাম কমে প্রতি কেজি ২০ টাকায় নেমেছে।

মিরপুর ৬ কাঁচাবাজারের সবজি বিক্রেতা মোজাম্মেল হোসেন বলেন, দুই-একটি পণ্য ছাড়া বেশির ভাগ সবজির দাম তেমন বাড়েনি। কিছু পণ্যের দাম আগের মতোই রয়েছে। সামনে শীতের নতুন সবজি বাজারে উঠলে দাম আরও কিছুটা কমতে পারে।

এদিকে, বাজারে সোনালি মুরগি প্রতি কেজি ৩৩০ টাকা এবং ব্রয়লার মুরগি ১৮০ থেকে ১৯০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। গরুর মাংসের কেজি ৮২০ থেকে ৮৫০ টাকা। মাছের বাজারে রুই মাছ ২৮০ থেকে ৩৫০ টাকা, কই মাছ ২৪০ টাকা, পাঙ্গাস ২৩০ টাকা এবং পাবদা মাছ ৩৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

অন্যদিকে, তেল, চিনি ও ডিমের দামে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা যায়নি। চাল ও কয়েক ধরনের সবজির দাম বাড়লেও এসব পণ্যের দাম স্থিতিশীল রয়েছে।
 
বাংলাস্কুপ/প্রতিবেদক/এনআইএন


প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স



 

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ