ভোলার গ্যাসে আলোকিত দেশ, অন্ধকারে স্থানীয়দের জীবন
স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় :
১৩-১০-২০২৬ ০৩:৪৫:৪৬ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
১৩-১০-২০২৬ ০৩:৪৫:৪৬ অপরাহ্ন
ফাইল ছবি
ভোলার গ্যাসে তৈরি বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যোগ হয়ে আলো ছড়াচ্ছে অন্যান্য জেলায়, অথচ তীব্র লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে দ্বীপ জেলার সাত উপজেলার মানুষ। ফলে জনজীবনে দুর্ভোগ যেমন বেড়েছে, ঠিক তেমনি ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। তার দ্রুত পরিস্থিতি উন্নয়নের জন্য কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ভোলার বোরহানউদ্দিনের দক্ষিণ কুতবা এলাকায় অবস্থিত বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) মালিকানাধীন ‘ভোলা-১’ গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটির উৎপাদন ক্ষমতা প্রায় ২২৫ মেগাওয়াট। বোরহানউদ্দিনেই রয়েছে নূসতান নামে ২২০ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতার আরো একটি ডুয়েল-ফুয়েল কম্বাইন্ড সাইকেল পাওয়ার প্ল্যান্ট।
ভোলার খেয়াঘাট এলাকায় থাকা রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্রটির ক্ষমতা শুরুতে ৩৪.৫ মেগাওয়াট থাকলেও পরে তা ৪০ মেগাওয়াটে উন্নীত করা হয়। তবে, যান্ত্রিক ত্রুটি ও চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ায় প্ল্যান্টটি বর্তমানে বন্ধ রয়েছে, যদিও এটি পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এছাড়া, ভোলা সদরের পুরোনো ৮ মেগাওয়াটের ডিজেল ভিত্তিক প্ল্যান্টটি ২০২০ সালেই স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যায়।
বিদ্যুৎ অফিস সংশ্লিষ্টরা জানান, জেলায় উৎপাদিত ২২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরাসরি জাতীয় গ্রিডে চলে যাচ্ছে। সেই গ্রিড থেকেই পুনরায় ভোলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। কিন্তু, এই সরবরাহের পরিমাণ জেলার মোট চাহিদার তুলনায় নগণ্য।
ভোলার সাত উপজেলার মধ্যে ছয়টিতে ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ওজোপাডিকো) ও পল্লী বিদ্যুতের ৫ লাখ গ্রাহক রয়েছেন। শুধুমাত্র পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতায়ই রয়েছেন ৪ লাখ ৩৫ হাজার গ্রাহক। পুরো জেলায় বিদ্যুতের মোট চাহিদা প্রায় ৯২ থেকে ১২০ মেগাওয়াট (ওজোপাডিকোর ২২-৩০ মেগাওয়াট এবং পল্লী বিদ্যুতের ৭০-৯০ মেগাওয়াট)। বিদ্যুতের পর্যাপ্ত সরবরাহ না পাওয়ায় শহর থেকে গ্রাম- সর্বত্রই ঘণ্টার পর ঘণ্টা লোডশেডিং করতে হচ্ছে।
ইলিশা বরফ কলের সত্ত্বাধিকারী মোর্শেদ আলম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “ভোলার বিদ্যুৎ দিয়ে অন্য জেলা চলে, অথচ ভোলায় তীব্র লোডশেডিংয়ের কারণে আমাদের বরফ কলের ব্যবসা এখন বন্ধের পথে।”
একই সুরে লালমোহনের ব্যবসায়ী রিজভী সাকিল বলেন, “লোডশেডিং তো এখন প্রতিদিনের নিয়মে পরিণত হয়েছে। আমাদের পুরো ব্যবসাটাই বিদ্যুৎনির্ভর, কিন্তু যে হারে লোডশেডিং হচ্ছে তাতে ব্যবসা গুটিয়ে ফেলা ছাড়া উপায় নেই।”
শুধু ব্যবসায়ীরাই নন, বিদ্যুতের দৈনন্দিন বিভ্রাটে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ শ্রমজীবী মানুষ ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরাও।
পরিস্থিতির বিষয়ে জানতে চাইলে ভোলা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জিএম শাহ মো. রাজ্জাকুর রহমান বলেন, “জাতীয় গ্রিড থেকে চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত সরবরাহ না পাওয়ায় আমরা বাধ্য হয়েই লোডশেডিং দিচ্ছি। বর্তমানে দিনে ও রাতে মিলিয়ে প্রায় ২০ থেকে ৩০ শতাংশ লোডশেডিং রাখতে হচ্ছে।”
জেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহের দায়িত্বে থাকা অপর প্রতিষ্ঠান ওজোপাডিকো কোম্পানি লিমিটেডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ইউসুফের বক্তব্য জানার জন্য তার মোবাইলে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।
বাংলাস্কুপ/প্রতিনিধি/এনআইএন
প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স