পরিবেশমন্ত্রী
সেন্টমার্টিনে পর্যটক ও ভ্রমণসূচি নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত আসছে
স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় :
১২-১০-২০২৬ ০৬:০০:৪০ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
১২-১০-২০২৬ ০৬:০০:৪০ অপরাহ্ন
ছবি: সংগৃহীত
সেন্টমার্টিন দ্বীপে পর্যটনের সময়সীমা, দৈনিক পর্যটক সংখ্যা এবং পর্যটকবাহী জাহাজ ছাড়ার স্থান পুনর্বিবেচনা করা হবে বলে জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু। দ্বীপের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, পর্যটকদের নিরাপত্তা এবং যাতায়াত ব্যবস্থাপনার বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে এ বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
সোমবার (১২ অক্টোবর) সচিবালয়ে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সেন্টমার্টিনে পর্যটক গমন বিষয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় সভাপতির বক্তব্যে মন্ত্রী এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, সেন্টমার্টিনের প্রাকৃতিক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য অক্ষুণ্ন রেখে পর্যটন কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। দ্বীপের ধারণক্ষমতা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, সুপেয় পানির প্রাপ্যতা এবং সামুদ্রিক প্রতিবেশের ওপর পর্যটনের প্রভাব বিবেচনায় নিয়ে পর্যটন ব্যবস্থাপনার বিষয়গুলো আরও পর্যালোচনা করা হবে।
সভায় ২০২৬-২০২৭ পর্যটন মৌসুমে সেন্টমার্টিনে পর্যটক গমন ও অবস্থান নিয়ন্ত্রণ, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং পর্যটকদের নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা হয়। পর্যটনের সময়সীমা, দৈনিক পর্যটক সংখ্যা ও জাহাজ ছাড়ার স্থান পুনর্বিবেচনার বিষয়টি গুরুত্ব পায়।
পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড স্বীকৃত ওয়েব পোর্টালের মাধ্যমে ট্রাভেল পাস ও কিউআর কোডসংবলিত টিকিট কেনা এবং পরিবেশ সংরক্ষণবিষয়ক নির্দেশনা অনুসরণের ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি দ্বীপে নিষিদ্ধ পলিথিন বহন বন্ধ, একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক নিরুৎসাহিত করা এবং পর্যটকদের নিজস্ব পানির ফ্লাস্ক সঙ্গে রাখার আহ্বান জানান।
সভায় জানানো হয়, ২২ অক্টোবর ২০২৫ তারিখের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, নভেম্বর মাসে পর্যটকেরা দিনের বেলায় সেন্টমার্টিন ভ্রমণ করে একই দিনে ফিরে আসবেন; রাত্রিযাপন করতে পারবেন না। ডিসেম্বর ও জানুয়ারি মাসে রাত্রিযাপনের সুযোগ রয়েছে। দৈনিক পর্যটক সংখ্যা গড়ে দুই হাজারের বেশি হবে না এবং ফেব্রুয়ারি মাসে পর্যটক যাতায়াত বন্ধ থাকবে। এসব বিধান পুনর্বিবেচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানানো হবে।
এদিকে সামুদ্রিক কাছিম, পাখি, প্রবালসহ দ্বীপের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে। রাতে সৈকত ও সংলগ্ন এলাকায় আলো জ্বালানো, শব্দ সৃষ্টি ও বারবিকিউ পার্টি আয়োজন, কেয়াবনে প্রবেশ, কেয়া ফল সংগ্রহ ও কেনাবেচা এবং সৈকতে মোটরসাইকেলসহ অনুরূপ যানবাহন চালানো নিষিদ্ধ রয়েছে।
সভায় পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, কক্সবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী, ঢাকা-১৪ আসনের সংসদ সদস্য মীর আহমদ বিন কাসেম, মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. ফাহমিদা খানম, অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ নাভিদ শফিউল্লাহ, নৌপরিবহন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কমডোর মো. শফিউল বারীসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ, সংস্থা, পর্যটন ব্যবসায়ী ও পরিবেশ সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। স্থানীয় প্রশাসন ও পর্যটন ব্যবসায়ীদের প্রতিনিধিরা অনলাইনেও সভায় অংশ নেন।
বাংলাস্কুপ/প্রতিবেদক/এইচকে/এসকে
প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স