হঠাৎ ডায়রিয়ার প্রকোপ: জয়পুরহাটে ৪৮ ঘণ্টায় ভর্তি দেড় শতাধিক
স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় :
১২-১০-২০২৬ ০৩:৫৬:৫০ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
১২-১০-২০২৬ ০৩:৫৮:০১ অপরাহ্ন
ছবি : সংগৃহীত
জয়পুরহাট ৪০০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে হঠাৎ বেড়েছে ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগীর চাপ। গত ৪৮ ঘণ্টায় হাসপাতালটিতে নতুন করে ১৫৬ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে প্রথম ২৪ ঘণ্টায় ৮৮ জন এবং পরের ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি হয়েছেন ৬৮ জন।
ফলে নির্ধারিত ওয়ার্ডে রোগীর তুলনায় শয্যা কম থাকায় অধিকাংশ রোগীকে ওয়ার্ডের মেঝে ও দুই পাশের দীর্ঘ বারান্দায় বিছানা পেতে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। শয্যাসংকটের মধ্যেও কাউকে ফিরিয়ে না দিয়ে সাধ্যমতো চিকিৎসাসেবা দিচ্ছেন হাসপাতালের চিকিৎসক ও নার্সরা। তবে রোগীর অতিরিক্ত চাপে জরুরি সেবা দিতে তাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে।
জেনারেল হাসপাতালের তথ্য মতে, শনিবার (১০ অক্টোবর) সকাল ৮টা থেকে রোববার (১১ অক্টোবর) সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ৮৮ জন ডায়রিয়া রোগী ভর্তি হন। এর আগে ওয়ার্ডে ভর্তি ছিলেন ৮২ জন। তাদের মধ্যে সুস্থ হওয়ায় ৪২ জনকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়। ফলে রোববার সকাল ৮টায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যা দাঁড়ায় ১২৮ জনে।
এরপর রোববার সকাল ৮টা থেকে সোমবার (১২ অক্টোবর) সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ৬৮ জন ডায়রিয়া রোগী ভর্তি হন। একই সময়ে আগের রোগীদের মধ্যে ৪৭ জনকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়। ফলে সোমবার সকাল ৮টায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যা দাঁড়ায় ১৪৯ জনে। এর পরবর্তী দেড় ঘণ্টায় আরও ১২ জন ভর্তি হওয়ায় সকাল পৌনে ১০টায় মোট রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১৬১ জনে।
জানা গেছে, হাসপাতালের প্রথম ভবনে অবস্থিত ডায়রিয়া ওয়ার্ডে রোগীদের জন্য নির্ধারিত শয্যা রয়েছে মাত্র ৪২টি। অথচ বর্তমানে সেখানে চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যা শয্যাসংখ্যার তিন গুণেরও বেশি। ফলে অনেক রোগীকে ওয়ার্ডের মেঝে ও দুই পাশের দীর্ঘ বারান্দায় বিছানা পেতে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।
সোমবার সকালে সরেজমিনে ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা যায়, রোগীর চাপে সেখানে উপচে পড়া ভিড়। শয্যাগুলোতে রোগীরা শুয়ে আছেন। নার্সরা দ্রুত রোগীদের স্যালাইন ও ওষুধ সরবরাহ করছেন। শয্যার অভাবে অনেকে মেঝে ও বারান্দায় চিকিৎসা নিচ্ছেন। রোগীদের পাশাপাশি তাদের স্বজনদের উপস্থিতিতেও ওয়ার্ড ও বারান্দায় ভিড় দেখা গেছে।
পাঁচবিবি উপজেলার আওলাই ইউনিয়নের গোড়না এলাকা থেকে দুই বছর দুই মাস বয়সী ছেলে মহিরকে নিয়ে হাসপাতালে এসেছেন মোছা. আফছা। তিনি বলেন, ছেলের হঠাৎ পাতলা পায়খানা শুরু হয়। পরে ঘন ঘন পায়খানা হতে থাকে। একপর্যায়ে তার শরীর একেবারে নিস্তেজ হয়ে পড়ে। এরপর তাকে হাসপাতালে এনে ভর্তি করানো হয়।
নওগাঁর ধামইরহাট উপজেলার আলমপুর এলাকা থেকে আসা ডায়রিয়া রোগী আব্দুল হালিমের মেয়ে জয়নুক পারভীন বলেন, আব্বার হঠাৎ পাতলা পায়খানা ও বমি শুরু হয়। পরে শুক্রবার রাতে তাকে ধামইরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করানো হয়। সেখান থেকে তাকে রেফার্ড করে জয়পুরহাট হাসপাতালে পাঠানো হয়। এখানে এসে কোনো শয্যা পাওয়া যায়নি। রোগীর চাপ বেশি থাকায় হাসপাতালের বারান্দার মেঝেতে বিছানা পেতে তার চিকিৎসা চলছে।
জয়পুরহাট জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. আশিক আহমদ জেবাল ঢাকা পোস্টকে বলেন, হঠাৎ ডায়রিয়া রোগীর চাপ বেড়েছে। বিভিন্ন এলাকা থেকে রোগীরা হাসপাতালে আসছেন। হাসপাতালে পর্যাপ্ত স্যালাইন ও ওষুধ রয়েছে। রোগীদের প্রয়োজন অনুযায়ী সেগুলো সরবরাহ করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, আবহাওয়ার পরিবর্তন, খোলা, বাসি বা নষ্ট খাবার খাওয়া এবং দূষিত পানি পান করার কারণে অনেকে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছেন। তাই সবাইকে খাবারের বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। খোলা, বাসি বা নষ্ট খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে এবং নিরাপদ ও বিশুদ্ধ পানি পান করতে হবে।
বাংলাস্কুপ/প্রতিনিধি/এনআইএন
প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স