ঢাকা , রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬ , ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

​দুর্গাপূজায় তিন স্তরের নিরাপত্তা, গুজব ছড়ালেই ব্যবস্থা: আইজিপি

স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় : ১১-১০-২০২৬ ০৫:৪৩:৩৪ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ১১-১০-২০২৬ ০৬:২৮:৫৪ অপরাহ্ন
​দুর্গাপূজায় তিন স্তরের নিরাপত্তা, গুজব ছড়ালেই ব্যবস্থা: আইজিপি ​ছবি: সংগৃহীত
শারদীয় দুর্গাপূজা নির্বিঘ্ন, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপনের লক্ষ্যে তিন স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করেছে পুলিশ। পূজার আগে, পূজা চলাকালে এবং প্রতিমা বিসর্জন ও পূজা-পরবর্তী সময়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নেওয়া হয়েছে বিশেষ প্রস্তুতি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব, অপপ্রচার ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের চেষ্টা হলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির।

রোববার (১১ অক্টোবর) দুপুরে পুলিশ সদর দপ্তরের হল অব প্রাইডে শারদীয় দুর্গাপূজা ২০২৬ উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তাবিষয়ক সভায় সভাপতিত্বকালে তিনি এসব কথা বলেন।

আইজিপি বলেন, দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে কোনো মহল বা গোষ্ঠী যাতে সামাজিক সম্প্রীতি বিনষ্ট করতে না পারে, সে জন্য সবাইকে সজাগ ও সতর্ক থাকতে হবে। এ ক্ষেত্রে কমিউনিটি ও বিট পুলিশিংয়ের মাধ্যমে জনগণের সম্পৃক্ততা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় প্রতিবছরের মতো এবারও নিরাপদ ও আনন্দঘন পরিবেশে দুর্গাপূজা উদযাপিত হবে।

সভায় জানানো হয়, দুর্গাপূজায় অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় পোশাকধারী পুলিশের পাশাপাশি সাদাপোশাকে পুলিশ সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। এ ছাড়া সোয়াট, ক্রাইম রেসপন্স টিম (সিআরটি), কুইক রেসপন্স টিম (কিউআরটি), ক্রাইম সিন ভ্যান ও বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দল সার্বক্ষণিক প্রস্তুত থাকবে।

পূজাকে কেন্দ্র করে পুলিশ সদর দপ্তরসহ বিভিন্ন পুলিশ ইউনিটে সার্বক্ষণিক নজরদারি কেন্দ্র চালু রাখা হবে। পূজামণ্ডপ পরিদর্শন, স্থানীয় জনসাধারণ ও বিভিন্ন ধর্মের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় মাঠপর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর পোস্ট, গুজব, অপপ্রচার কিংবা ছবি প্রকাশের মাধ্যমে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা সৃষ্টির চেষ্টা হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ অথবা নিকটস্থ থানায় যোগাযোগ করার জন্য পূজা উদযাপন পরিষদের নেতাদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

সভায় পূজামণ্ডপ ও প্রতিমা বিসর্জনস্থলে সিসিটিভি সচল রাখা, পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা, বিকল্প বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য জেনারেটর প্রস্তুত রাখা এবং প্রতিটি মণ্ডপে স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

সভায় উপস্থিত বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক সংগঠনের নেতারা দুর্গাপূজা উপলক্ষে গৃহীত নিরাপত্তাব্যবস্থায় সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং সরকার ও পুলিশ প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানান।

সভায় পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক, ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার, বিভিন্ন পুলিশ ইউনিটের প্রধান, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন ধর্মীয় ও পূজা উদযাপন সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া বিভিন্ন মহানগর পুলিশ কমিশনার, রেঞ্জ ডিআইজি, জেলার পুলিশ সুপার ও নৌ পুলিশের পুলিশ সুপাররা ভার্চ্যুয়ালি সভায় যুক্ত হন।

উল্লেখ্য, এ বছর দেশে প্রায় ৩৩ হাজার পূজামণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপিত হচ্ছে।

বাংলাস্কুপ/প্রতিবেদক/এইচকে/এসকে


প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স



 

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ