ঢাকা , শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬ , ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

​সাড়ে তিনশ’ করতে পারল না বাংলাদেশ

ডেস্ক রিপোর্ট
আপলোড সময় : ১০-১০-২০২৬ ০৪:১৮:১৪ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ১০-১০-২০২৬ ০৪:১৮:১৪ অপরাহ্ন
​সাড়ে তিনশ’ করতে পারল না বাংলাদেশ ​ছবি: সংগৃহীত
আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টে ৮ উইকেটে ৩১৭ রান নিয়ে প্রথম দিন শেষ করেছিল বাংলাদেশ। দ্বিতীয় দিন বেশিদূর যেতে পারেনি লাল-সবুজরা। ফলে শুরুটা দুর্দান্ত হলেও ইনিংসের শেষটা হতাশার! ব্যাটিং সহায়ক উইকেটে একসময় ২ উইকেটে ২২১ রান তুলে সাড়ে চারশ কিংবা পাঁচশ রানের স্বপ্ন দেখাচ্ছিল টাইগাররা। অথচ সে দলই শেষ ১২৫ রান তুলতে হারাল ৮ উইকেট। ফলে সাড়ে তিনশ’র আগেই (৩৪৬) অলআউট হয়  সফরকারিরা। 

তাই স্বস্তির চেয়ে আক্ষেপই বেশি সঙ্গী নাজমুল হোসেন শান্তদের! শনিবার (১০ অক্টোবর) আগের দিনের ৮ উইকেটে ৩১৭ রান নিয়ে দিন শুরু করে বাংলাদেশ যোগ করতে পারল মাত্র ২৯ রান।

অথচ ম্যাচের চিত্রটা এমন হওয়ার কথা ছিল না। ব্যাটিংয়ের জন্য সহায়ক উইকেটে তানজিদ হাসান ও সাদমান ইসলামের উদ্বোধনী জুটি বাংলাদেশকে এনে দিয়েছিল শক্ত ভিত। দুই ওপেনারের ব্যাটে ১২৪ রান ওঠার পর মনে হচ্ছিল, বড় সংগ্রহের পথে ভালোভাবেই এগোচ্ছে সফরকারীরা। তানজিদ ৮৩ এবং সাদমান ৬৭ রান করে সে সম্ভাবনাকে আরও জোরালো করেন।

এরপর লিটন দাসের ৫৩ রানও বাংলাদেশের ইনিংসকে এগিয়ে নেয়ার কথা ছিল। মুমিনুল হক করেন ৩৯, অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর ব্যাট থেকে আসে ২৯ রান। মেহেদী হাসান মিরাজের ২৪ রানও যোগ হয়েছিল স্কোরবোর্ডে। একাধিক ব্যাটার ভালো শুরু পাওয়ায় ইনিংসটি আরও বড় হওয়ার যথেষ্ট সুযোগ ছিল। কিন্তু শুরু আর শেষের মধ্যে যে বিস্তর ফারাক, সেটিই স্পষ্ট হয়ে ওঠে বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ে।

একসময় ২ উইকেটে ২২১ রান। সেখান থেকে মাত্র ৪ রানের ব্যবধানে তিন উইকেট হারিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাত থেকে ফসকে যেতে দেয় বাংলাদেশ। এরপর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট পড়তে থাকায় বড় সংগ্রহের স্বপ্ন ক্রমেই ছোট হয়ে আসে। ৩১৭ রানে ৮ উইকেট হারিয়ে প্রথম দিনের খেলা শেষ করার সময়ও বাংলাদেশের সামনে সুযোগ ছিল অন্তত আরও কিছু রান যোগ করার।

সে সুযোগ কাজে লাগানোর চেষ্টা করেন নাঈম হাসান ও তাইজুল ইসলাম। শেষ বিকেলে তাদের প্রতিরোধে আর উইকেট হারায়নি বাংলাদেশ। দ্বিতীয় দিনের সকালে সে লড়াই কিছুটা এগিয়েও নেন নাঈম। কিন্তু তাইজুল ৪ রান করে ফিরে গেলে ভাঙে নবম উইকেটের ৩০ রানের জুটি। এরপর ইবাদত হোসেনও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। ইয়ামিন আহমদজাইয়ের বলে জিয়াউর রেহমানের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরলে ৯২.৩ ওভারে শেষ হয় বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস।

নাঈম অপরাজিত থাকেন ৩৫ রানে। তার এই ইনিংস বাংলাদেশের স্কোরকে ৩৪৬ পর্যন্ত নিয়ে গেলেও দলের ব্যাটিং বিপর্যয়ের আক্ষেপ দূর করার জন্য তা যথেষ্ট ছিল না। বিশেষ করে শেষ ১২৫ রান তুলতে ৮ উইকেট হারানোর হিসাবটি বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের দুর্বল দিকগুলো সামনে নিয়ে এসেছে।

আফগানিস্তানের বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে সফল সেলিম, তার শিকার ৪ উইকেট। ইয়ামিন আহমদজাই নেন ৩টি, ইসমত আলম পান ২টি এবং কায়েস আহমেদ নেন একটি উইকেট। গুরুত্বপূর্ণ সময়ে উইকেট তুলে নিয়ে বাংলাদেশের বড় সংগ্রহের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ান আফগান বোলাররা।

আবুধাবির এ মাঠে প্রথম ইনিংসে গড় দলীয় সংগ্রহ ৩৬০ রানের আশপাশে। সে হিসাবে বাংলাদেশের ৩৪৬ রান একেবারে ছোট সংগ্রহ নয়। কিন্তু ম্যাচের পরিস্থিতি বিবেচনায় এ রানকে যথেষ্ট বলার সুযোগও সীমিত। কারণ, ব্যাটিংয়ের সবচেয়ে অনুকূল সময়েই বাংলাদেশ এমন অবস্থানে পৌঁছে গিয়েছিল, যেখান থেকে আরও বড় সংগ্রহ গড়া সম্ভব ছিল।

বাংলাদেশের সমস্যা তাই শুধু ৩৪৬ রানে থেমে যাওয়া নয়; বরং ভালো শুরুকে বড় ইনিংসে রূপ দিতে না পারা। ওপেনাররা ভিত গড়েছেন, মিডলঅর্ডারের একাধিক ব্যাটার রান পেয়েছেন, শেষ দিকে নাঈমও লড়েছেন। তবু দলীয় ইনিংসে ধারাবাহিকতা ছিল না। সেট হয়েও উইকেট হারানো এবং চাপের সময়ে জুটি ধরে রাখতে না পারার মূল্য দিতে হয়েছে দলকে।

আবুধাবিতে প্রথম দিনের বাংলাদেশ আর দ্বিতীয় দিনের বাংলাদেশ যেন দুটি ভিন্ন দল। এক দল বড় সংগ্রহের স্বপ্ন দেখিয়েছে, অন্য দল সে স্বপ্নের অনেকটাই নিজের হাতে ভেঙেছে। ৩৪৬ রানে ইনিংস শেষ হওয়ার পর এখন প্রশ্ন একটাই-ব্যাটিংয়ে হারানো সে নিয়ন্ত্রণ কি বোলাররা ফিরিয়ে আনতে পারেন কিনা সেটাই দেখার বিষয়।

বাংলাস্কুপ/ডেস্ক/এইচকে/এসকে


প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স



 

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ