ঢাকা , শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬ , ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পরশুরামে বার বার আগুনে নিঃস্ব ব্যবসায়ীরা, এবার পুড়ল ১৯ দোকান

স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় : ১০-১০-২০২৬ ১১:৫০:৫৯ পূর্বাহ্ন
আপডেট সময় : ১০-১০-২০২৬ ১১:৫০:৫৯ পূর্বাহ্ন
পরশুরামে বার বার আগুনে নিঃস্ব ব্যবসায়ীরা, এবার পুড়ল ১৯ দোকান ফোকাস বাংলা নিউজ
ফেনীর পরশুরামের বক্সমাহমুদ বাজারে বার বার অগ্নিকাণ্ডে নিঃস্ব হচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। সর্বশেষ ১০ অক্টোবর শনিবার ভোরে ভয়াবহ আগুনে গোডাউনসহ ১৯টি দোকান পুড়ে গেছে। এতে প্রায় দুই কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা। পুঁজি ও মালামাল হারিয়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন তাঁরা।

ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের মধ্যে রয়েছেন- নুরুল আমিন রবিন, মাইফুল, নিজাম উদ্দিন, আবদুল কাদের মিনার, মোস্তফা, সামছুল হক, মিন্টু, আবুল খায়ের ও এমরান হোসেন। এসব দোকানের আয়েই চলত তাঁদের পরিবারের সংসার। আগুনে সব হারিয়ে নতুন করে ব্যবসা শুরু করা নিয়ে দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে তাঁদের।

ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, একটি মুদি দোকানের বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। খবর পেয়ে পরশুরাম ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তবে এর আগেই বেশির ভাগ দোকান পুড়ে যায়।

পরশুরাম ফায়ার স্টেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান জানান, আগুনের সূত্রপাত কীভাবে হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

বক্সমাহমুদ বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন মিনার বলেন, ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত পৌঁছানোয় অনেক দোকান আগুনের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে।

পরশুরাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অতনু বড়ুয়া বলেন, হঠাৎ এভাবে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহযোগিতার চেষ্টা করা হচ্ছে।

বক্সমাহমুদ বাজারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা এবারই প্রথম নয়। এর আগে ২০২৫ সালের ২৩ জুলাই রাত আনুমানিক সাড়ে তিনটার দিকে বাজারের গোলাম আজম মার্কেটে আগুনে বীজ, চা ও মুদি দোকানসহ আটটি দোকান পুড়ে যায়।

এরও আগে ২০২১ সালের ১৮ এপ্রিল রাত সাড়ে তিনটার দিকে মামুন ও জসিম পাটোয়ারী মার্কেটে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। ওই ঘটনায় ওষুধ, মুদি, ফার্নিচার ও স্বর্ণের দোকানসহ অর্ধশতাধিক দোকান পুড়ে ছাই হয়ে যায়।

একাধিক অগ্নিকাণ্ডে বার বার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বাজারের ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। সর্বশেষ আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা দ্রুত সরকারি সহায়তা ও পুনর্বাসনের প্রত্যাশা করছেন। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে বাজারের বৈদ্যুতিক সংযোগ ও অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যালোচনার দাবি উঠেছে।
 
বাংলাস্কুপ/প্রতিনিধি/এনআইএন 


প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স



 

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ