ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬ , ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

​চর জাগলেই নৌপথ বন্ধ, বাড়ে মানুষের কষ্ট

স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় : ০৮-১০-২০২৬ ১২:৩৯:০৯ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ০৮-১০-২০২৬ ১২:৩৯:০৯ অপরাহ্ন
​চর জাগলেই নৌপথ বন্ধ, বাড়ে মানুষের কষ্ট ​ছবি: সংগৃহীত
শুকনো মৌসুমে নদে পানি কমে। নানা জায়গায় চর জাগে। তখন নৌযান চলাচল ব্যাহত হয়। নদ পারাপার কঠিন হয়ে পড়ে। এতে ভোগান্তিতে পোহাতে হয় চরবাসীকে। কুড়িগ্রামের চিলমারী নদীবন্দরের নিয়ন্ত্রণাধীন রাজিবপুর ও নয়ারচর ঘাটে মানুষকে এমন পরিস্থিতিতে পড়তে হয় ব্রহ্মপুত্র নদের ওই এলাকায় নাব্যতা সংকটের কারণে। দিন দিন সেখানে প্রকট হচ্ছে এই সংকট। 

স্থানীয়রা জানায়, চিলমারীর সঙ্গে যোগাযোগে রাজিবপুর ও নয়ারচর ঘাট ব্যবহার করেন রাজিবপুর ও এর আশপাশের কয়েকটি উপজেলার মানুষ। সূত্র জানায়, চর রাজিবপুর উপজেলার সঙ্গে জেলা শহরের সরাসরি সড়ক যোগাযোগ নেই। ফলে নৌপথই এ অঞ্চলের মানুষের যাতায়াতের অন্যতম মাধ্যম। কিন্তু শুকনো মৌসুমে ব্রহ্মপুত্র নদে পানি কমে চর জেগে ওঠায় নদ পারাপারে ভোগান্তিতে পড়ছেন চরের ব্যবসায়ীসহ যাত্রীরা। দ্রুত ড্রেজিং করে নৌপথ সচল রাখার দাবি তাদের।

স্থানীয় বাসিন্দা সাইফুল ইসলামের ভাষ্য, বর্ষার প্রায় তিন মাস ধরে নদে পর্যাপ্ত পানি থাকায় নৌযান চলাচল স্বাভাবিক থাকে। এরপর পানি কমতে শুরু করলে নদের বিভিন্ন অংশে চর জাগে। কোথাও কোথাও ঘাট থেকে মূল নৌপথও সরে যায়।

চর রাজিবপুরে চাকরির সুবাদে বসবাসকারী কুড়িগ্রামের যাত্রাপুর ইউনিয়নের এক বাসিন্দা বলেন, বর্ষায় নয়ারচর ও রাজিবপুর ঘাট থেকে নৌকায় সহজেই চিলমারী যাওয়া যায়। তবে শুকনো মৌসুমে ঘাট থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার হেঁটে যেতে হয়। বালুর চর ও কাঁচা সড়কে যানবাহন পাওয়া কঠিন। আর পাওয়া গেলেও দিতে হয় বাড়তি ভাড়া।

এক যাত্রী বলেন, ‘বন্যার তিন মাস এই ঘাট দিয়ে স্বাভাবিকভাবে চিলমারী যাওয়া যায়। বাকি সময় পানি কমে গেলে ঘাট থেকে অনেকটা পথ হেঁটে যেতে হয়। ড্রেজিং করা হলে দ্রুত নৌপথে যাতায়াত করা সম্ভব হবে।’

নৌকার মাঝি লাল মিয়া বলেন, ঘাটের পাশাপাশি চিলমারীর পথে নদের বিভিন্ন অংশেও পানি কমে যায়। এতে নৌকা অগভীর জায়গায় আটকে পড়ে। তখন যাত্রীদের নামিয়ে কিংবা নৌকা ঠেলে নৌযান পার করতে হয়।

নয়ারচর ঘাটের খেয়া নৌকার মাঝি আলম মিয়া বলেন, পানি কমলে নয়ারচর ঘাট থেকে প্রায় এক থেকে দেড় কিলোমিটার দূরে নৌপথ সরে যায়। এতে চরের মানুষকে পারাপারে বাড়তি ভোগান্তি পোহাতে হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা সাইজুদ্দি বলেন, রাজিবপুর ও নয়ারচর হাট আশপাশের চরাঞ্চলের মানুষের গুরুত্বপূর্ণ বাজার। নৌকা ঘাটে ভিড়তে না পারায় অনেক সময় বাজারের পণ্য মাথায় করে দীর্ঘ পথ যেতে হয়।

রাজিবপুর ঘাটের ইজারাদার মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, বিআইডাব্লিউটিএর কাছ থেকে অর্থের বিনিময়ে ঘাট ইজারা নেওয়া হলেও এখানে নিয়মিত ড্রেজিংয়ের ব্যবস্থা নেই। শুকনো মৌসুমে নদে চর জেগে ওঠায় মূল নৌপথ থেকে দূরে সরে যায় ঘাট। এতে নৌযান চলাচল ও যাত্রী—দুই ক্ষেত্রেই সমস্যা হয়।

ইজারাদার আরো বলেন, ‘নদ আরো শুকিয়ে গেলে নৌকা স্বাভাবিকভাবে চলতে পারবে না। তখন মানুষ এ পথে আসতে চাইবে না। পাশের রৌমারী উপজেলার নৌপথে ড্রেজিং থাকায় সেখান দিয়ে তুলনামূলক সহজে চিলমারী যাওয়া যায়।

ইজারাদারের ভাষ্য, রাজিবপুর ও নয়ারচর ঘাটের নৌপথে দ্রুত ড্রেজিং শুরু করা প্রয়োজন। নিয়মিত খনন করা হলে শুকনো মৌসুমেও নৌযান চলাচল স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হবে।

চিলমারী নদীবন্দর বিআইডাব্লিউটিএর সহকারী পরিচালক মো. মাহাবুব আলম বলেন, ‘ব্রহ্মপুত্র নদে  প্রতিবছরই নাব্যতা সংকট দেখা দেয়। এ ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে। তাদের নির্দেশনা পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

বাংলাস্কুপ/প্রতিনিধি/এইচকে/এসকে


প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স



 

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ