ভারতে স্টারলিংকের সিগন্যালই বন্ধ, উগ্রপন্থীদের ব্যবহারের দাবি নাকচ
ডেস্ক রিপোর্ট
আপলোড সময় :
০৮-১০-২০২৬ ১২:২১:৩২ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
০৮-১০-২০২৬ ১২:২২:১৬ অপরাহ্ন
ছবি: সংগৃহীত
ভারতের ভূখণ্ডে স্টারলিংকের স্যাটেলাইট সিগন্যাল বর্তমানে পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্পেসএক্সের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইলন মাস্ক। ফলে দেশটির ভেতরে কোনো ব্যক্তি বা সশস্ত্র গোষ্ঠী স্টারলিংক ব্যবহার করেছে, এমন দাবি ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন তিনি।
বুধবার (৭ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে মাস্ক বলেন, ভারতের ওপর স্টারলিংকের স্যাটেলাইট বিম বর্তমানে সক্রিয় নয়। তাই ভারতে কেউ কোনো উদ্দেশ্যে এই সেবা ব্যবহার করেছে, এমন দাবি সত্য নয়।
এর আগে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়, মিয়ানমার সীমান্তসংলগ্ন মণিপুরে নিরাপত্তা বাহিনী একটি বিদ্রোহী গোষ্ঠীর কাছ থেকে স্টারলিংকের স্যাটেলাইট টার্মিনাল উদ্ধার করেছে। এ নিয়ে এক্সে করা একটি পোস্টের জবাবে বিষয়টি পরিষ্কার করেন মাস্ক।
প্রযুক্তিগতভাবে কোনো অঞ্চলে স্টারলিংকের স্যাটেলাইট বিম সক্রিয় না থাকলে সেখানে টার্মিনালের মাধ্যমে কার্যকর সংযোগ স্থাপন করা সম্ভব নয়। সেই কারণেই ভারতে স্টারলিংক ব্যবহারের দাবিকে সরাসরি অস্বীকার করেছেন মাস্ক।
তবে ভারতে স্টারলিংকের বাণিজ্যিক সেবা চালু করতে দীর্ঘসূত্রতা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তিনি। মাস্কের অভিযোগ, স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যবসায়িক গোষ্ঠী নিজেদের বাজার নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে স্টারলিংকের প্রবেশে বাধা দিচ্ছে।
ভারতে এখনো বহু প্রত্যন্ত এলাকায় উচ্চগতির ইন্টারনেট পৌঁছায়নি। ২০২৬ সালের মে পর্যন্ত দেশটির ১১ হাজার ২৫৬টি গ্রামে ফোর-জি নেটওয়ার্ক পৌঁছায়নি বলে পরিসংখ্যানে উঠে এসেছে। দুর্গম পাহাড়ি, দ্বীপ ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে ফাইবার অপটিক বা মোবাইল টাওয়ার স্থাপন কঠিন হওয়ায় স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেখানে বিকল্প হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
এদিকে বুধবার ‘ইন্ডিয়া মোবাইল কংগ্রেস ২০২৬’-এ স্টারলিংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট (বিজনেস অপারেশনস) লরেন ড্রেয়ার জানান, ভারতের আইন ও জাতীয় নিরাপত্তা কাঠামো অনুসরণ করেই দেশটির জন্য স্টারলিংকের অবকাঠামো তৈরি করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ভারতীয় ব্যবহারকারীদের তথ্য দেশের ভেতরেই সংরক্ষণ করা হবে এবং নিরাপত্তার বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে ভারতে ২০টি গেটওয়ে সাইটে শত শত অ্যান্টেনা নিয়ে স্থলভিত্তিক অবকাঠামো প্রস্তুত করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
নিরাপত্তা-সংক্রান্ত উদ্বেগের কারণে স্টারলিংকের অনুমোদন প্রক্রিয়া থেমে আছে, এমন খবরও নাকচ করেন ড্রেয়ার। তাঁর দাবি, স্পেকট্রাম বরাদ্দ ও বাণিজ্যিক লাইসেন্স পাওয়ার বিষয়ে ভারত সরকারের সঙ্গে কোম্পানিটির আলোচনা এখনো সক্রিয় রয়েছে।
বাংলাস্কুপ/ডেস্ক/এইচকে/এসকে
প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স