নিষেধাজ্ঞার আগমুহূর্তে ইলিশের জোয়ার
সময়সীমা পেছানোর আবেদন দক্ষিণের জেলেদের
স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় :
০৬-১০-২০২৬ ০১:১২:১৪ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
০৬-১০-২০২৬ ০১:১২:১৪ অপরাহ্ন
ফাইল ছবি
দক্ষিণাঞ্চলের নদ-নদীতে অবশেষে কাঙ্ক্ষিত ইলিশের প্রাচুর্য দেখা দিয়েছে। মৌসুমজুড়ে হতাশার পর হঠাৎ করেই বরিশাল, ভোলা ও বরগুনার মৎস্য মোকামগুলোতে রূপালী ইলিশের ঢল নেমেছে। তবে এই আনন্দে বড় কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে সরকারি নিষেধাজ্ঞার দিনক্ষণ। আর মাত্র তিন দিন পর, অর্থাৎ আগামী ৮ অক্টোবর থেকে শুরু হচ্ছে মা ইলিশ রক্ষায় ২২ দিনের টানা নিষেধাজ্ঞা।
মৌসুমের শেষভাগে যখন জালে মাছ মিলতে শুরু করেছে, ঠিক তখনই এই নিষেধাজ্ঞার খড়্গ আসায় চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন হাজার হাজার জেলে ও মৎস্য ব্যবসায়ী। লোকসান এড়াতে ও আহরণের লক্ষ্যমাত্রা পূরণে নিষেধাজ্ঞা অন্তত ১০ দিন পিছিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
বরিশালের প্রধান মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র পোর্ট রোড ঘুরে দেখা গেছে কর্মব্যস্ততার চিত্র। মোকাম সূত্রে জানা গেছে, সেখানে দৈনিক ৫০০ থেকে ৬০০ মণ ইলিশ আসছে। বড় আকারের ইলিশের পাশাপাশি প্রচুর ছোট আকারের জাটকাও জালে ধরা পড়ছে। একই চিত্র ভোলা ও বরগুনার পাথরঘাটা বিএফডিসি কেন্দ্রে।
ভোলা সদরের জেলে মোসলেম মাঝি জানান, গত এক সপ্তাহে নদীর চিত্র পুরোপুরি বদলে গেছে। গত ৭ দিনে তিনি নিজেই অন্তত ২০০ মণ মাছ পেয়েছেন। তবে জোগান বাড়লেও বাজারে ইলিশের দাম সেভাবে কমেনি বলে জানান ক্রেতারা।
মৌসুমের শেষ সময়ে মাছের দেখা মেলায় নিষেধাজ্ঞা পেছানোর দাবি তুলেছেন ব্যবসায়ীরা। বরিশাল পোর্ট রোড মৎস্য আড়তদার সমিতির সভাপতি জহির শিকদার বলেন, গত বছর ৪ অক্টোবর থেকে বন্ধ থাকলেও এবার ইলিশ ধরা পড়েছে অনেক দেরিতে। তাই আমরা এই নিষেধাজ্ঞা আগামী ৩০ অক্টোবর থেকে কার্যকরের দাবি জানাচ্ছি। যদি তা সম্ভব না হয়, তবে অন্তত ১০ দিন সময় বাড়ানো উচিত।
নদ-নদীতে হঠাৎ ইলিশ বাড়ার বিষয়ে ইলিশ গবেষক ড. মো. অনিসুর রহমান জানান, প্রাকৃতিকভাবেই ৪-৫ বছর পরপর মাছের উৎপাদন বাড়ে। তবে গত কয়েক বছরে অভয়াশ্রম সুরক্ষা ও সমুদ্রে ৬৫ দিনের সফল নিষেধাজ্ঞাই এই সুফল এনে দিয়েছে। এর ফলে মা ইলিশ নিরাপদে ডিম ছাড়তে পারছে এবং জাটকা রক্ষা পেয়ে মাছের বংশবৃদ্ধি ত্বরান্বিত হচ্ছে।
তবে হঠাৎ ইলিশের আনাগোনা বাড়ায় অনেক অসাধু জেলে রাতের আঁধারে কারেন্ট জাল ব্যবহার করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। পর্যাপ্ত লোকবল না থাকায় বিস্তৃত মোহনা এলাকায় তদারকি চালাতে হিমশিম খাচ্ছে প্রশাসন।
বরিশাল বিভাগীয় মৎস্য কর্মকর্তা আনিসুর রহমান তালুকদার জানান, চলতি বছর দেশে ৬ লাখ টন ইলিশ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, যার মধ্যে একা বরিশাল বিভাগ থেকেই আসবে প্রায় ৪ লাখ টন।
তিনি জানান, ৮ অক্টোবর থেকে শুরু হতে যাওয়া ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা চলাকালীন বিভাগের ৩ লাখ ৫৮ হাজার ৫১৬ জন জেলেকে ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় ২৫ কেজি করে চাল সহায়তা দেওয়া হবে। ইতিমধ্যে চালের বরাদ্দও চলে এসেছে।
তবে পরিসংখ্যান বলছে, বরিশাল বিভাগে মোট নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা ৪ লাখ ২২ হাজার ২৭৫ জন। ফলে সহায়তা পাবেন না প্রায় ৬৩ হাজার ৭৫৯ জন নিবন্ধিত জেলে। এছাড়া অভিযান পরিচালনার জন্য পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ না থাকায় দুশ্চিন্তায় রয়েছে মৎস্য বিভাগ।
বাংলাস্কুপ/প্রতিনিধি/এনআইএন
প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স